নি র্বা চ নী হা ল চা ল - লালমনিরহাট ২

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের হানা

শেষের পাতা

মিলন পাটোয়ারী/শেখ আবদুল আলিম, কালীগঞ্জ থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:০১
লালমনিরহাট-২ আসনটি আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটি মূলত জাতীয় পার্টির দুর্গ। তবে বর্তমানে এখানে রয়েছে আওয়ামী লীগের এমপি। আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রধান বাধা। আগামী নির্বাচন নিয়েও কোন্দল চরমে। দুই উপজেলার দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে চলছে লড়াই।
আদিতমারী উপজেলার জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। অপর গ্রুপে রয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ নুরুজ্জামান আহম্মেদ। গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছেন আলহাজ নুরুজ্জামান আহম্মেদ। এরপর সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আগামী নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী। তবে মহাজোটের প্রধান শরিক জাপা আসন ছাড়তে নারাজ। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা রয়েছে সমান। গত নির্বাচনে সিরাজুল হক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশে নুরুজ্জামানকে ছাড় দেন। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তেমন একটা দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি। সরকারের ধারাবাহিকতায় যে উন্নয়ন তাই হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা। আগামী নির্বাচনে জোটগত নির্বাচন হলেও জাতীয় পার্টি আসনটি ছাড়তে নারাজ। জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল। বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন দুই জন। সাবেক এমপি সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ হেলাল ও বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তবে মহাজোটের প্রার্থী জাপার রোকন উদ্দিন বাবুল হলে সে ক্ষেত্রে বিএনপির হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর। এ আসনে রয়েছে চমক। চমক দেখাতে পারেন ভোটাররাও। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জোরেশোরে চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সিরাজুল হক আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকার উন্নয়ন করেছেন ব্যাপক। আদিতমারী উপজেলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরি করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নারী উন্নয়নে নানান পদক্ষেপ। এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অসংখ্য প্রাইমারি স্কুল নির্মাণ, এলাকায় মসজিদ, মন্দীর নির্মাণ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ঘরে ঘরে বিদ্যুতায়ন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা আগামী নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসনে সিরাজুল হককে প্রার্থী হিসাবে চায়। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়ে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মহাজোটের দ্বন্দ্বে জয়ে আশাবাদী বিএনপিও। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৬ জন। তবে এ আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ৯৪২ জন বেশি। দুর্গ উদ্ধারে যেমন মরিয়া জাপা। তেমন টেনশনে আওয়ামী লীগ। জাপা এ আসন ফিরিয়ে নিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল সভা, সেমিনার, মিটিং করে এলাকা মাতিয়ে রেখেছেন। জনমত গঠনও করেছেন বাবুল। জোটগত নির্বাচন করলে এ আসন জাপার কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘আমার পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পদচারণা আর কর্মকাণ্ড আমাকে যেমন মানুষের কাছে টেনে নিয়েছে তেমনই আমার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে অফুরন্ত। পাশাপাশি সরকারের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ নির্ভীকতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছি। সব দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও দলীয় মনোনয়ন দেবেন বলেই মনে করি। সম্ভাব্য অপর প্রার্থী সিরাজুল হক বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করেছি। সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভালোবাসে। এ আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে জয় নৌকার নিশ্চিত। আমি দুই বার আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমাকে এলাকার ভোটাররা ভালোবাসেন। অপর দিকে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য একক প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে উন্নয়ন হয়েছে বাস্তবে উন্নয়ন নেই। তবে এ আসন জাপার। যা উন্নয়ন হয়েছে তা সরকারের ধারাবাহিকতায় হয়েছে। টানা ৩৫ বছর ধরে জাপার লালমনিরহাট-২ আসন। এমপি ছিলেন আলহাজ  মজিবর রহমান। পরে আর কোনো ভোট হয়নি এ আসনে। গত নির্বাচনে ভোট ছাড়াই এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী। সাধারণ  ভোটারা জাপার প্রার্থীদের এ আসনে দেখতে চায়। অপর দিকে বিএনপি নেতা সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল বলেন ‘আমি এর আগেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। যুগ যুগ ধরে এ আসনের মানুষের সঙ্গে আছি, তাদের জন্য কাজ করছি। তাই এবারও আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সার্বিক বিবেচনায় অবশ্যই দল আমাকে মনোনয়ন দিবেন। বিএনপির সম্ভাব্য আরো এক প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগের দুশাসন থেকে ভোটারদের মুক্ত করবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Marfat Afridi

২০১৭-১১-১৪ ০৯:৪৪:০২

বাংলাদেশে জাপারও দূর্গ আছে?

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী