সিলেটে চম্পার লাশ নিয়ে ‘লুকোচুরি’

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
চম্পার লাশ নিয়েও লুকোচুরি হয়েছে। চম্পা দাস। এখনো বিয়ে হয়নি। ১৭ বছরের তরুণী। বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার  শ্যামপুর গ্রামে। অভাব অনটনের পরিবার।
এ কারণে চম্পা কাজের সন্ধানে ছুটে আসে সিলেটে। সীমান্তবর্তী জাফলংয়ে পাথরখেকো সিন্ডিকেট চম্পাকে কাজ দেয় পাথর শ্রমিক হিসেবে। গভীর গর্তে ঝুঁকি নিয়ে পাথর তোলে চম্পা। আর এ টাকা দিয়ে চলে তার পরিবার। গতকাল যখন গর্তের পাদদেশ থেকে পাথর তুলছিল তখন চম্পার ওপর ধসে পড়ে উপরের অংশ। চম্পা মাটির নিচেই চাপা পড়ে। যখন সঙ্গের শ্রমিকরা তার দেহ উপরে তুললো ততক্ষণে চম্পা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। শত শত মানুষের সামনেই চম্পা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জাফলংয়ের মন্দিরজুম এলাকায়। সবাই জানতো মন্দিরজুম এলাকার গর্ত ‘মরণগর্ত’ নামে পরিচিত। চম্পা জানতো না। পরিবারের অভাব ঘোচাতে চম্পা এ কাজ বেছে নিয়েছিলেন। ফিরলেন লাশ হয়ে। চম্পার মৃত্যু সবাইকে নাড়া দিলেও তার লাশ নিয়ে লুকোচুরির ঘটনা হতবাক করেছে সবাইকে। সিলেটের পাথর কোয়ারিতে যখন কোনো শ্রমিক মারা যায় তখন মালিকপক্ষের প্রথম ধান্ধা থাকে লাশ গুম করার। চম্পার লাশ নিয়েও গতকাল সকালে এমন ঘটনা ঘটেছে। চম্পাকে মাটিচাপা থেকে উদ্ধারের পর গর্তের মালিক আব্দুল খালিক পক্ষের লোকজন এক সহকারী সাইটম্যানকে দিয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে আসে। ওই প্রাইভেট কারের চালক জাফলং এলাকার রাজু। তাকে বলা হয়েছিল, আহত একজনকে নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে যাবে। রাজুও তাদের কথা শুনে চলে আসে। এরপর রাজুর গাড়িতে তোলা হয় চম্পাকে। সঙ্গে পাথরের গর্তের সাইট ম্যানেজারও। তারা লাশ নিয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। মালিকপক্ষ থেকে ওই সময় জানানো হয়- লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। লাশবাহী প্রাইভেট কার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেটে পৌঁছে। কিন্তু ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানান- পুলিশি ঝামেলা এড়াতে পাথরখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা চম্পার লাশ কোনো বেসরকারি হাসপাতালে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই লাশ গ্রহণ করেনি। বরং জানিয়ে দেয় ওই লাশ ওসমানীতে নিয়ে যেতে। লাশ নিয়ে সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে দৌড় ঝাপের সময় গোয়াইনঘাট পুলিশের দৌড় ঝাপ শুরু হয়। পুলিশও চম্পার লাশ খুঁজতে থাকে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেখানে লাশ যায়নি। ওদিকে, পাথরখেকো সিন্ডিকেট সিলেটের কোথাও ঠাঁই না পেয়ে চম্পার লাশ ফের জাফলং নিয়ে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল লাশ সরিয়ে ফেলা। কিন্তু তার আগেই গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ সোর্স নিয়োগ করে খবর রাখে। দুপুর ১২টার দিকে লাশ যখন জাফলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ তখন গাড়ি থেকেই লাশটি উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে বেলা ২টার দিকে লাশের ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। শুধু চম্পা নয়, গতকাল জাফলংয়ের মন্দিরজুম এলাকায় আহত হয় আরো কয়েকজন। এর মধ্যে জ্যোতির্ময় দাস নামের একজন যাত্রীবাহী বাসযোগে দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। জ্যোতির্ময় এখন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ তলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। নেত্রকোনার জ্যোতির্ময় দাস জানিয়েছেন, আলী নামের এক ব্যক্তি তাদের ওই গর্তে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। ঘটনার পরপরই মালিকরা পালিয়ে যায়। শেষে অপর দুই শ্রমিকের সহায়তায় সে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছে। ঘটনার সময় চম্পা মাটির নিচে চাপা পড়েছিল বলে জানান জ্যোতির্ময়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী