কুমিল্লা জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা সেল

নতুন করে স্বপ্ন বেঁধেছে ১৩২টি পরিবার

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
পারিবারিক কলহ ও বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট দাম্পত্য সমস্যা ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচারের আশায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নারী ও শিশু সহায়তা সেলের শরণাপন্ন হয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী নারী। এ সেলের মাধ্যমে অভিযোগের সুরাহা হয়ে নতুন করে স্বপ্ন বেঁধেছে ১৩২টি পরিবার। বিগত দেড় বছরে এ সেলের মাধ্যমে অধিকাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং নিষ্পাপ অনেক শিশু ফিরে পেয়েছে তাদের বাবা-মায়ের অধিকার। মামলা করতে গিয়ে ফের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় ওইসব পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু সহায়তা সেলের কার্যক্রম শুরু হয়। এর মাধ্যমে গত দেড় বছরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, নারী ও শিশুদের পারিবারিক-শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ইভটিজিং, ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট দাম্পত্য সমস্যা, স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজ খবর না রাখা ও  খোরপোষ না দেয়া, নিরাপত্তাহীনতা, বিবাহ বিচ্ছেদসহ অন্যান্য সমস্যায় প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।
এতে অনেক শিশু তাদের বাবা-মাকে পুনরায় একত্রে ফিরে পেয়েছে। মিটেছে অনেক পরিবারের কলহ। এ সেলের মাধ্যমে নতুন করে স্বপ্ন বেঁধেছে ১৩২টি পরিবার। সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নারী ও শিশু সহায়তা সেলে ২৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এদের মধ্যে যৌতুকের অভিযোগ ২৪৪টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২২টি, ধর্ষণ ৫টি, অপহরণ ৩টি, শ্লীলতাহানি ৭টি ও অন্যান্য অভিযোগ ১টি। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে বর্তমানে একত্রে বসবাস করছে ১৩২টি পরিবার। মোট নিষ্পত্তি ২৩৪টি অভিযোগ। কোর্ট থেকে বিভিন্ন অভিযোগে নারী ও শিশু সহায়তা সেলে ১৫৮টি অভিযোগের মধ্যে একত্রে বসবাস করছে ৬৩টি পরিবার। অন্যদিকে নারী ও শিশু সহায়তা সেলে সরাসরি ১২৪টি অভিযোগের মধ্যে ৬৯টি পরিবার একত্রে বসবাস করছে। নারী ও শিশু সহায়তা সেলের পুলিশ পরিদর্শক পলি রানি বর্ধন জানান, ‘এ সেলে যেসব অভিযোগ জমা পড়ে এদের মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। বেশির ভাগ অভিযোগকারীই বিচ্ছেদ চায়। আমরা সব অভিযোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বাদী বিবাদীদের কাউন্সিলিং করি। আমাদের চেষ্টা থাকে বিচ্ছেদের মতো অমানবিক সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা। এই সেলে কাজ করতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। এর মাধ্যমে অনেক শিশু ও পরিবারের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এতে আমি আনন্দিত।’ কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আদালতে মামলার ঝট কমাতে এবং পারিবারিক বিচ্ছেদ কমাতে নারী ও শিশু সহায়তা সেল গঠন করা হয়। এ সেলের মাধ্যমে পারিবারিক বিচ্ছেদ অনেকটা কমিয়ে আনতে পারবো। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারব।’

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ

নাখালপাড়ায় নিহত এক ‘জঙ্গি’ কাজেম আলী স্কুলের ছাত্র

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

অর্থমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পথচারীদের ওপর, আহত ৩০

রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন গ্রেপ্তার

আইভীকে হাসপাতালে দেখে আসলেন ওবায়দুল

তিস্তা কূটনীতিতে চোখ ঢাকার

ভারতের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যার রিট শুনানি ফের পেছালো

যশোরে বিএনপি নেতা অমিতের বক্তব্যে তোলপাড়