গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালালো স্বামী-শাশুড়ি

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৮
মরিয়ম আক্তার সোনিয়া (২৮) নামে এক গৃহবধূকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূকে হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে স্বামী ও শাশুড়ি। এ ঘটনাটি ঘটেছে রোববার খুলনা মহানগরীর জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনি এলাকায়। গৃহবধূ সোনিয়ার রোদেলা নামে এক বছর ৮ মাসের এক শিশু কন্যা রয়েছে। সোনিয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করেন এমন অভিযোগ সোনিয়ার পিতা কাশেম আলী শেখ মিঠুর। ঘটনার পর থেকে স্বামী আ. রহিম, শাশুড়ি আকলিমাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই হরষিৎ মণ্ডল জানান, সোনিয়ার শ্বশুরবাড়ি সিএন্ডবি কলোনিতে গিয়ে দেখা গেছে মৃত্যুর স্বামী আবদুর রহিমসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই পালিয়ে গেছেন। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজায় তালা মারা। এখান থেকে সোনিয়াকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রতিবেশীদের সোনিয়ার স্বামী ও শাশুড়ি জানান সে স্ট্রোক করেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ইউনিট-২ এর ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স কারিমা খাতুন বলেন, রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে সর্দি-জ্বরজনিত কথা বলে মরিয়ম আক্তার সোনিয়াকে মেডিসিন ইউনিট-২ এর ৭-৮ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সোনিয়ার স্বামী আ. রহিম ও তার শাশুড়ি আকলিমা চিকিৎসকদের জানান, সোনিয়া কয়েকদিন ধরে সর্দি ও জ্বরে ভুগছেন। হাসপাতালে যখন ওয়ার্ডে নেয়া হয়, তখন চিকিৎসকরা পরীক্ষার করার পর জানতে পারেন মেয়েটি বিষ খাওয়া। ওই সময় সে বিষ পান করা ছিল আগে থেকে বললে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার আগেই মারা যান। সেখানে বেলা ২টা ৫ মিনিটে মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্বামী আবদুর রহিম পালিয়ে যান।
মৃত সোনিয়ার বাবা কাশেম আলী শেখ মিঠু বলেন, তিন মেয়ের মধ্যে মরিয়ম আক্তার সোনিয়া বড়। ২০০৯ সালে তার মেয়ে পালিয়ে গিয়ে আ. রহিমকে বিয়ে করেন। মৃত্যুর ৫-৬ দিন আগে তার মেয়ে সোনিয়া শেষবারের মতো তাকে ফোন করেন। এ সময় সে জানায়, ‘আব্বু তুমি কি আমার উপরে রাগ করে আছো? আমি যদি চলে আসি তাহলে আমাকে থাকতে দেবে’। মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠ শুনে বাবা মিঠু বলেন, তুইতো আমারই মেয়ে। তুই চলে আয়, যতদিন থাকতে মন চায় ততদিন আমার কাছেই থাকবি। এটাই তার মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা। মেয়ের বাবা মিঠু জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিএন্ডবি কলোনিতে এক প্রতিবেশী তার মাকে ফোনে জানায় আপনার মেয়ে খুবই অসুস্থ, খুমেক হাসপাতালে ভর্তি। তখনই মেয়ের মা মনোয়ারা বেগম হাসপাতালে ছুটে আসেন।
রোববার বিকেলে মৃত সোনিয়ার শ্বশুরবাড়ি নগরীর সিএন্ডবি কলোনিতে গেলে দেখা যায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। পুলিশও ওই সময় ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে আসেন। ওই এলাকার বাসিন্দা আ. হাকিমের পুত্র আবদুর রহিম দীর্ঘ ১২-১৫ বছর ধরে বসবাস করেন। প্রতিবেশীরা জানান, যখন রোদেলার মা সোনিয়াকে তার শাশুড়ি আকলিমা ও তার স্বামী আ. রহিম ও স্থানীয় এক মহিলা মরিয়ম যখন ভ্যানে করে নিয়ে যান তখন তারা বলেন, সোনিয়া স্ট্রোক করেছে। তাই তাকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সোনিয়া তার স্বামী আ. রহিমকে ভালবেসে বিয়ে করেন। মৃত্যুর ৫-৬ দিন আগে সোনিয়া তাদেরকে বলেন, তার স্বামী আ. রহিম বিয়ে করেছেন। সেই মেয়েটি গর্ভবতী রয়েছে। এই নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। আ. রহিমের আন্দিরঘাট এলাকায় চিপস-এর মিল রয়েছে। সেখানে তিনি কাজ করেন।
মেয়ের বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী কাশেম আলী শেখ মিঠু বলেন, আমার মেয়ে যে নির্যাতনের শিকার হতো বিষয়টি আমি ৫-৬ দিন আগে জানি মেয়ে যখন আমাকে ফোন করে তার কথায় বুঝতে পারি। আমার মেয়েকে তারা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী