ঘাতক পিতার জবানিতে শিশুকন্যা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

এক্সক্লুসিভ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৩ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার
দুই বছর আগে গলায় ওড়না পেঁচানো ১০ বছরের শিশু উম্মে সালমা রীমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, রীমা খুন হয়েছে। তবে কে রীমার খুনি তার ক্লু পাচ্ছিল না পুলিশ। তাই ক্লু-বিহীন মামলাটি ফাইলবন্দি করে রাখে পুলিশ। কিন্তু বদলিজনিত কারণে এ মামলা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবু ছালেকের হাতে পড়ে। ধুুলোবালু ঝেড়ে মামলা স্টাডি করে তিনি রীমার বাবার দ্বিতীয় বিবাহের খোঁজ নেন।
একপর্যায়ে বাবা আলী খোরশেদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরে পৌঁছার পর জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ নিজেই আপন শিশুকন্যা রীমাকে খুন করার স্বীকারোক্তি দেয়। ওইদিন রাতে এসআই আবু ছালেক সাংবাদিকদের জানান, আলী খোরশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার  বিবিরহাটের দৌলতপুর গ্রামের ফারুক আহাম্মদের ছেলে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। স্ত্রী রুমা আক্তার ও নিজ কন্যা রীমাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর কাট্টলী মাজেদার কলোনীতে ভাড়া ঘরে থাকতেন তিনি। স্ত্রী রুমা আক্তার একজন পোশাককর্মী।
২০১৫ সালের ১৪ই অক্টোবর স্ত্রী রুমা আক্তার প্রতিদিনের মতো রীমাকে রেখে পোশাক কারখানায় চলে যায়। ওইদিন দুপুর ১টায় তাকে ফোনে জানানো হয় রীমা ঘরের চালের বাঁশের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রুমা আক্তার ঘরে এসে মেয়ের লাশ দেখে পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করে। থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর শাহ থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করেন।
পরবর্তীতে ওই সালের ২৬শে নভেম্বর লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসীম উদ্দীন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। যার নং-১৮(১১)২০১৫ ধারা-৩০২/৩৪।
এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপর ন্যস্ত করেন।
বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে তা ক্লু-বিহীন হিসেবে মামলাটি ফাইলবন্দি করে রাখে। বদলিজনিত কারণে মামলার ফাইল ধুলোবালু ঝেড়ে ভিকটিমের পিতার দ্বিতীয় বিয়ের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রসর হয়। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিমের পিতা আলী খোরশেদের অবস্থান জেনে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানা এলাকা থেকে খোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার চট্টগ্রামে ফিরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেই রীমাকে খুনের কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বিবরণে বলেন, স্ত্রী রুমাকে ভালোবেসে ২০০৫ সালে পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের ঘরে কন্যা উম্মে সালমা রীমা জন্মগ্রহণ করে। ২০১১ সালে ভিকটিমের পিতা আলী খোরশেদ দ্বিতীয় বিয়ে করলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
ঘটনার কিছুদিন পূর্ব থেকে খোরশেদ বেকার হয়ে পড়ে। হাতে কোন টাকা-পয়সা না থাকায় ঘটনার পূর্বের দিন স্ত্রী রুমার বাসায় গিয়ে টাকা-পয়সা চাইলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন সকাল ৮টায় রুমা আক্তার রান্নাবান্না না করে গার্মেন্টে চলে যায়। খাওয়ার জন্য কিছু না পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঘরে বসে থাকে খোরশেদ।
এমন সময় উম্মে সালমা রীমা নাস্তার জন্য টাকা চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে রীমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর রীমার মৃত্যু হলে সে নিজেকে রক্ষার জন্য ঘর থেকে স্ত্রীর ওড়না পেঁচিয়ে ভাড়া ঘরের টিনের চালের নিচে বাঁশের সঙ্গে রীমার লাশ ঝুলিয়ে রাখে। আর স্ত্রীকে রীমা আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দিয়ে প্রথমে সে কুমিল্লা ও পরে সন্দ্বীপ চলে যায়। সন্দ্বীপে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি থেকে খোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআই আবু ছালেক বলেন, খুনি খোরশেদকে রোববার আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী