ডেঙ্গুতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৪ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৬
পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম একজন বিদেশির মৃত্যু হয়েছে। এই বিদেশি আসলে একজন বাংলাদেশি। মৃত রোগিণী বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা। কয়েক মাস ধরে লক্ষ্মী ঘোষ নামের এই মহিলা উত্তর ২৪ পরগণার বাগুআটির কাছে কেষ্টপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তার জ্বর হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে ভতি করা হয়েছিল। সেখানেই শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা গিয়েছেন।
আইডি হাসপাতালের দেওয়া নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর কথাই লেখা রয়েছে। গত ৪৮ ঘন্টায় রাজ্যে প্রায় ১২ জন ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে বেসরকারি সুত্রে জানা গেছে।
ডেঙ্গু নিয়ে সরকারকে তথ্য জানাতে বলেছে আদালত: পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনই ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সঠিক কোনও পরিসংখ্যান সরকারের তরফে দেওয়া হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বশেষ জানিয়েছেন, রাজ্যে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছেন ১৩ জন। অথচ গত সপ্তাহেই রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছিলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বিভ্রান্তি বেড়েছে। রাজ্যের সব বিরোধী দলের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই সরকার ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করছেন। বাম, বিজেপি ও কংগ্রেস রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী ডেঙ্গু ও অন্য সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন । শুক্রবার দুর্গাপুরে তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকারকে যা বলার বলেছি। আশা করি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও কার্যকর চিকিৎসার জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রকৃত তথ্য জানানোর দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ৫টি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও হাবড়ার বাসিন্দাদের হয়ে হাইকোর্টে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে শুক্রবার  দিনই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এদিকে ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরে বিভিন্ন জেলা থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহু জায়গাতে চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর কথা উল্লেখ করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিজনেরা। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের পরোক্ষ চাপও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একদল চিকিৎসকও। রাজ্য সরকার অবশ্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাই রাজ্যপালের চিঠি পাঠানোকে ভাল চোখে নিচ্ছে না রাজ্য সরকার। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ জাকিম সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, রাজ্যপাল মনে হয় বিরোধীদের চোখ দিয়ে দেখছেন। তাই তিনি এত বিচলিত। ডেঙ্গু নিয়ে রাজ্য সরকার সচেতন এবং যা করার করছে। তাই অন্য রাজ্যের তুলনায় আমাদের রাজ্যে রোগের প্রকোপ ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী