একটি ‘পাঠাও’ অভিজ্ঞতা ও জয়ের গল্প

চলতে ফিরতে

সিরাজুস সালেকিন | ৩১ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:২১
গত ১৫ অক্টোবরের ঘটনা। আমার অফিসিয়াল এসাইনমেন্ট ছিল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে। ইসির সঙ্গে সংলাপে বসেছিল বিএনপি। একইদিনে ঢাকাস্থ রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতির (আরডিজেএ) নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমার শেষ সময়। ওইদিন ইসিতে আমার কাজ শেষ হয় বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে। আর ওইদিকে মনোনয়ন জমার শেষ সময় বেলা ৪টায়।
তোপখানায় আরডিজেএ অফিসে অবস্থানরত আমার বন্ধু ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার আকতারুজ্জামান একের পর এক ফোন দিয়ে যাচ্ছে। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন ফরম পূরণ করতে হবে। ইসিতে অবস্থানরত পরিচিত যারা বাইক ব্যবহার করেন তাদের কাউকে পেলাম না। টেনশন বাড়ছে। এসময় আকতারুজ্জামান পরামর্শ দিলেন, পাঠাও কল করুন।

আমার ফোনে পাঠাও ইনস্টল করা ছিল। কিন্তু কোনোদিন ব্যবহার করিনি। রাইড রিকুয়েস্ট করলাম। একজন রাইডার কানেক্ট হয়ে আবার ডিসকানেক্ট হয়ে গেলেন। চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়লাম। আবার চেষ্টা করলাম।

এবার জয়নাল আবেদিন নামে একজন রাইডার কানেক্ট হলেন। তিনি নিজে ফোন করে জানালেন ৫ মিনিট সময় লাগবে। তার কথামতো আগারগাঁওয়ে মূল রাস্তায় দাঁড়ালাম। দশ মিনিটের মাথায় পিক আপ লোকেশনে আসলেন তিনি। সর্তকর্তার সঙ্গে আমাকে নিয়ে রাইড শুরু করলেন। মাঝ রাস্তায় ফার্মগেটে আনসার সদস্য অহেতুক আটকানোর চেষ্টা করে। জয়নাল ভাইয়ের কৌশলে পার পেয়ে যাই। ঠিক বিশ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৩টা ৪৫ মিনিটে আমার গন্তব্য তোপখানায় আরডিজেএ অফিসে পৌঁছে যাই। যেখানে বাসে করে যেতে সাধারণত এক থেকে দেড় ঘন্টা, কখনও কখনও দুই ঘন্টা লেগে যায়। প্রোমো কোড থাকায় ১৩০ টাকা ভাড়ার অর্ধেক ৬৫ টাকা পরিশোধ করি। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাক্সিক্ষত মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করে জমা দিই। গতকাল ছিল আরডিজেএ’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। ভোটারদের রায়ে আমি এই সংগঠনের ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করি। জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি শুধুমাত্র বিকল্প একটি পরিবহন ব্যবস্থার কারণে।

জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যারা বাস করেন তাদের প্রধান শত্রু হচ্ছে যানজট। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে যানজটের কারণে দৈনিক ৩২ লাখ কর্মঘন্টা নষ্ট হয়। পরিসংখ্যানই বলে দেয় ভোগান্তির পরিমাণটা কেমন। আর যারা গণপরিবহণের ওপর নির্ভর করে চলে তাদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের কারণে এই দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি একটি নীতিমালার আওতায় আসলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কল্যাণকর হবে। আশা করি সরকার দ্রুত নীতিমালার কাজ শেষ করে এই সার্ভিসকে বৈধতা প্রদান করবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!

কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনায় মামলা

বাংলাদেশের রাজনীতি, বিকাশমান মধ্যবিত্ত এবং কয়েকটি প্রশ্ন

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতাতে আহত ডিবি পুলিশ

প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা জরুরীঃ বাংলাদেশকে মিয়ানমার

তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করবে বিএনপি

রোহিঙ্গা শিবিরে যেতে চান প্রণব মূখার্জি

তালাকপ্রাপ্ত নারীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

আরো ১০ দিন বন্ধ থাকবে লেকহেড স্কুল

জাতিসংঘকে দিয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে নাঃ চীন

ম্যনইউয়ের টানা ৩৮

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলাপে সহায়তা করতে আগ্রহী চীন

জল্পনার অবসান ঘটালেন জ্যোতি

চীনের বেইজিংয়ে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৯ আহত ৮

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর