আপস না করায় খালেদার বিরুদ্ধে ৩৯ মামলা: ফখরুল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ অক্টোবর ২০১৭, সোমবার, ৮:০২
বর্তমান সরকারের সঙ্গে আপস করেননি বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে এবং সপ্তাহে একদিন তাকে হাজিরা দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখন কঠিন দু:সময় চলছে। এটা শুধুমাত্র খালেদা জিয়া বা অন্য কারোর জন্য নয় এটা পুরো দেশের মানুষের জন্য কঠিন সময়। অনেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন। তার হয়তো অনেক ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এই কথাটি তো সত্য, তিনি আরাম আয়েশ ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ নয় বছর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন।
তিনি সেই ব্যর্থ অবৈধ মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারকে মেনে নেননি। সেই জন্য তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে ১৬ মাস। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আপস করেননি বলেই তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে ৩৯টি মামলা। প্রতি সপ্তাহে তাকে একদিন আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। জাতীয় বীর অলি আহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ও চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণ সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, আজকে এই স্বৈরাচারি সরকার জনগণের ওপর চেপে বসে আছে। তারপরেও খালেদা জিয়া এতোটুকু আপস করেননি। আত্মসমর্পন করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশের সার্বিক চিত্রই ফুটে উঠেছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পর মামলা, ৭০ হাজার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। হাজারের উপরে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ৫‘শ ওপর নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। আমাদের নেত্রী অতীতে করেননি, ভবিষ্যতেও তিনি কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস করবেন না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার একদলীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করে যেভাবেই হোক ক্ষমতায় থাকতে চায়। প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে লিখেছিলেন ‘আমিত্ব’। এই কথাটি আমি এর আগেও বলেছিলাম। দেশে ‘আমি’ ছাড়া আর কেউ নেই, এই ‘আমিত্ব’ ভাবটিই পুরো বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়েছে। পৃথিবীর সব দেশের নেতাদের নিয়ে কার্টুন হয়। আমাদের দেশে করা যাবে না। ৫৭ ধারায় আটকা পড়ে যাবেন। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সভা সমাবেশ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেয় না। এমনকি ঘরের মধ্যে মিটিং করতে দেয়া হয় না। ঘরের মধ্যে মিটিং করতে হয় যেখানে গোয়েন্দা বাহিনীর কত লোক বসে আছে। এই যে বিষয়গুলো কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না। সেজন্য আমরা বলি গণতন্ত্র ফিরে পাবার জন্য জেগে উঠুন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্য কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবেÑ এই নীতিতে বিশ্বাসী নয় বিএনপি। আমরা পুরো বিশ্বের কাছে এ কথা বলতে চাইÑ বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে যারা আন্তর্জাতিক বিশ্বে গণতন্ত্রের কথা বলছে, তারা মিথ্যা কথা বলছে। তারা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে। সেই কারণে আমরা বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে দেখা করি, বাইরের থেকে কেউ এলে তার সঙ্গে দেখা করি। এই কথাটাই আমরা তাদেরকে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। আমরা কারো কাছে দয়া ভিক্ষা করি না। আমরা কাউকে একথা বলি না, আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও। আমরা একথা বিশ্বাস করি না, কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে লড়াই করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কারও দয়া চাইবে না। বুকের রক্ত দিয়েই প্রতিষ্ঠা করবে। তবে এর জন্য সবাইকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এদেশের মানুষ মুক্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। খালেদা জিয়াকে তারা প্রতীক হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, এদেশের সবকিছু অর্জনের নেপথ্যে ছিলো তরুণরা। সেই তরুণদেরই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সবাইকে জেগে উঠে অধিকারগুলো আদায় করে নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা আলমগীর বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেনÑ এখানে আরেকটা প্যালেস্টাইন তৈরি করবার কাজ শুরু হয়েছে। এই ভূখন্ড থেকেই আরেকটা লড়াই হবে, একটা ব্যাটেল ফিল্ড তৈরি হবে। সেই ব্যাটেল ফিল্ড তৈরি করার এই ষড়যন্ত্র। সেজন্য ২৫শে আগস্ট রোহিঙ্গারা আসার পরপরেই খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেনÑ রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে হবে। কখনই স্থায়ীভাবে তাদেরকে মেনে নেয়া যাবে না। এজন্যেই মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া করেছিলেন, ৯২-৯৩ সালে খালেদা জিয়া করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করেছে। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা বলছিÑ রোহিঙ্গাদের নিয়ে বড় ধরনের চক্রান্ত চলছে। তাই স্পষ্ট করে বলছি, রাজনীতি নয় জাতীয় ঐক্যসৃষ্টি করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে দরকষাকষির জন্য সরকারের হাত শক্তিশালী হবে। আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে আজকে সমস্যা সমাধান অনেক বেগবান হবে। ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিক অলি আহাদ ও প্রখ্যাত চলচিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচারন করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনভাবে আজকে আমাদের সামনে সারা বিশ্বের নেতৃত্ব এমন মানুষের কাছে চলে গেছে যারা মানবতার কোন গুরুত্ব দেয় না। তারা নিজেদের ভোগ বিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। অত্যন্ত সুপরিকিল্পতভাবে ডাকসুসহ সব ছাত্রসংসদগুলো নির্বাচন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু এই সরকার নয় পরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রসংসদগুলো নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এই সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায় সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায় তাহলে মাওলানা ভাসানী বলেন, আর অলি আহাদই বলেনÑ যারা দিকপাল, পৃথিবী বদলে দিয়েছেন তাদের অনুসরন করা সম্ভব হবে না। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এ আলম মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাবেক এমপি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া ও ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিডিপি মহাসচিব এহসানুল হক সেলিম, জিনাফ সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। আলোচনা সভায় আয়োজক, বক্তা ও উপস্থিতির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চাষী নজরুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা কাজী ও অলি আহাদ কন্যা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু