পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ অক্টোবর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৮
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের যাতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োগ দেয়া না হয় সে বিষয়েও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার  প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শুরুতে সিইসি এ আহ্বান জানান। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার অন্তত ৩২ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। সভার সূচনা বক্তব্যে পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পায়, সে বিষয়ে আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি পর্যবেক্ষকদের পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং তাদের দায়িত্ব পালনকালে সামগ্রিকভাবে ভোট কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়- সে দিকে লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষকরা যাতে সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান সিইসি। সভা সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় কোনো পক্ষকে (নিরপেক্ষ সংস্থা) দিয়ে ভোটার তালিকা অডিট (নিরীক্ষা) করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে ভোটার দিবস উদযাপন ও পর্যবেক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছেন তারা। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেনাবাহিনী অতীতে কোন প্রেক্ষাপটে মোতায়েন হয়েছে এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল সে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর ভোটারদের আস্থা যাচাইয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান। সভায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, আচরণবিধি সংশোধন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলেন, যেহেতু সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন হবে সেহেতু কেউ এমপি থাকা অবস্থায় নির্বাচন করবেন আর তার প্রতিপক্ষ থাকবে আরেকজন সাধারণ প্রার্থী। এ অবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে কিভাবে আচরণবিধিকে আরো কঠোর করা যায় তার জন্য বিধি সংস্কার করা প্রয়োজন। পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। যেসব পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন রয়েছে তাদের নতুন করে নিবন্ধন যেন না করতে হয় সেজন্য ইসি’র কাছে দাবি জানান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। সেক্ষেত্রে নিবন্ধন নবায়নে আগ্রহী পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও দাবি জানান তারা। ইসি’র সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন পর্যবেক্ষকরা। পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, অনেক সময় কার্ড দেখানোর পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয় না। এজন্য ইসি’র নির্দেশনা জারি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেয়া উচিত। আর অনেক সময় ভোটের আগের রাতে পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেয়া হয়। কার্ড প্রদানের বিষয়টি কমপক্ষে দুইদিন আগে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে কি পদ্ধতিতে জানাতে পারে সে বিষয়েও ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ আসে পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। সভা শেষে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে না নিয়ে মাঠে গিয়ে নানান রকমের আনাড়িপনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে দেখতে চাই না। সে কারণে আমি সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাব দিয়েছি ইলেক্ট্রোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ট্রেনিং অব ট্রেইনারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে পর্যবেক্ষকদের প্রধানদের ডেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পর্যবেক্ষণের সময় কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না আর কতক্ষণ করা যাবে- সেটা যদি হাতে কলমে বুঝিয়ে দেয়া হয় তাহলে ভালো হবে। পর্যবেক্ষকদের দলের হয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগের মাধ্যমে আত্মসমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের বদলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি সম্ভব না। কারণ মানুষের বদলে রোবট দিয়ে কাজ করার মতো পরিস্থিতি দেশে নেই। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) প্রতিনিধি আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো পর্যবেক্ষকের কার্যক্রম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি কোনো কারণে এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনও বাতিল করার নজির নেই। কাজেই পর্যবেক্ষকরা ঠিকমতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কিনা, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ইডব্লিউজি’র প্রতিনিধি আব্দুল আলীম বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন দিবস উদযাপন করা দরকার। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি ভোটার দিবস উদযাপন এবং সেদিন ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হলে সবার ভেতরেই একটা সচেতনতা সৃষ্টি হবে। ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, বর্তমান পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচে কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারবে না। আমি তাদের বলেছি এটি ২৫ থেকে ২০ বছর করা হোক। কারণ আমাদের পর্যবেক্ষকদের আরেকটু যুবক, আরেকটু একটিভ থাকলে ভালো হয়। তবে ইভিএম নিয়ে এখনো বিতর্ক থাকায় আমরা নির্বাচন থেকে এটিকে বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। সেই সঙ্গে স্থানীয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোকে নিজ এলাকায় পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। কেননা, নীতিমালা অনুযায়ী এক জায়গার পর্যবেক্ষক অন্য জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, আসন সীমানা পুনঃনির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক এই সংলাপ করছে। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ২৪শে আগস্ট থেকে ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিশন। সোমবার নারী নেত্রী এবং মঙ্গলবার নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসি’র।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ!

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে

একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষিকা-ছাত্রের যৌন সম্পর্ক, অতঃপর...

রাবি অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

‘সমাবেশে জোর করে লোক আনা হয়েছে’

সমাবেশ মঞ্চে শেখ হাসিনা

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে

‘বিএনপিকে দূরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’