নি র্বা চ নী হা ল চা ল, ময়মনসিংহ- ৪

লড়াই হবে ত্রিমুখী

শেষের পাতা

মতিউল আলম, ময়মনসিংহ থেকে | ২৩ অক্টোবর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৪
নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত ময়মনসিংহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো। গত রমজানে জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনমুখী তৎপরতায় ফিরে আসেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জেলা সদরকে নিয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসন গঠিত হওয়ায় এ আসনটি সবদিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এ আসন নিজেদের দখলে নিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা কোমড় বেধে মাঠে নেমেছেন।
সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বরাবরই এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ২ বার বিএনপি, ২ বার জাতীয় পার্টি ও ১ বার আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
’৯১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক নির্বাচিত হন। ’৯৬-এর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী একেএম ফজলুল হককে পরাজিত করে জাতীয় পার্টির বেগম রওশন এরশাদ এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন খান দুলু এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির বেগম রওশন এরশাদ এমপি নির্বাচিত হন।
এখানে আওয়ামী লীগ ২ গ্রুপে বিভক্ত। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বীরমুক্তিযোদ্ধা ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মেয়র ইকরামুল হক টিটু। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দুই গ্রুপ আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছে। জেলা কমিটি ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে এই দূরত্ব আরো বেড়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর রহমান শান্ত। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই প্রতিপক্ষ।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বীরমুক্তিযোদ্ধা ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সংগঠক ও মুকুল নিকেতনের রেক্টর অধ্যাপক আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ। এছাড়াও এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ আমিনুল হক শামীমের নাম শোনা গেলেও তার পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে কোনো ঘোষণা আসেনি।
অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ সদরের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। হাজার হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন ময়মনসিংহ সদরের ৫টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের দেড় লাখ ভোটারকে নানাভাবে সেবা দিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক গ্রুপিং থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি তার মতো করে এগিয়ে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে শহরের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তবে যেন মনোনয়ন দেন। তবে আমি মানুষের সেবা করেই যাবো। মানুষের সেবা করেই আমি আনন্দ পাই। তিনি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার মতো একজন যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার প্রত্যাশা করেন। তিনি একজন চক্ষু চিকিৎসক। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। চাকরিকালীন স্বাচিপের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় শিক্ষকতা পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রদল নেতা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ, শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। এদিকে সংস্কারপন্থির অভিযোগে বিএনপি থেকে ছিটকে পড়া সাবেক এমপি ও ২ বারের নির্বাচিত ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খান দুলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। দল থেকে ছিটকে পড়লেও দুলুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন, মূলত এখানে শক্তিশালী প্রার্থী নেই। তবে এখানে ভিআইপি প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যারা রয়েছেন ২/১ জন ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় জোরালো তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, আমরা সহায়ক সরকার হলে নির্বাচনে যাবো। দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ময়মনসিংহে রাজনৈতিক সহাবস্থান অনেক উন্নত। কিন্তু প্রশাসনে কিছু উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তার ইঙ্গিতে ৩ মাস ধরে অবরুদ্ধ জেলা বিএনপির কার্যালয়। অনুমতি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসতে হয়। এতে প্রমাণ করে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ ও নবায়ন করার মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে।
জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ সদরের সন্তান। তিনি ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন, শিক্ষা বোর্ড স্থাপনসহ ময়মনসিংহের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।
সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে ময়মনসিংহ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত প্রার্থী হবেন। তিনি ২বার পৌরসভা নির্বাচনে ৩য় হয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা বারের ২বার সহ-সভাপতি ছিলেন। জেলা জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক, জনউদ্যোগের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু জাসদ থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু