রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানকে কঠিন পর্যায়ে নিয়ে গেছে সরকার: খসরু

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার, ৫:৪০
সরকার যথাযথ কূটনৈতিক অবস্থান না নেয়ায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে কঠিন পর্যায়ে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নির্মূল করতে মিয়ানমার সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। আর সঙ্কটের শুরুতেই সরকার যথাযথ কূটনীতিক অবস্থান না নিয়ে ‘সমস্যাকে দুর্বল করে’ দিয়ে সমাধানকে কঠিন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ সংকট সমাধানে দেশে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জিয়া পরিষদ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক আইনে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা, সমাধান ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। আমির খসরু বলেন, একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিধন করতে যে দেশ বাংলাদেশকে টার্গেট করে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়েছে, তারা একটি বিষয় খুব ভালো করেই জানে।
তারা জানে, রোহিঙ্গারা কেউ ভারতে যেতে পারবে না। থাইল্যান্ডে যেতে পারবে না। চীনেও যেতে পারবে না। বাংলাদেশ এখানে পরিকল্পিত আক্রমণের শিকার। সেই দেশ যখন পরিকল্পনাকারী দেশের সঙ্গে এক সুরে গান গায়, এক সুরে কথা বলে সেখানেই তো আমাদের অবস্থান শেষ হয়েছে গেছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সরকার প্রথম থেকে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেনি। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ক্ষমতাসীনদের নৈতিক কোন অবস্থান নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী ও ইসলামী জঙ্গি অভিহিত করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে একযোগে অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ওপর দমন পীড়ন ও জাতিগত নিধনের বিষয়ে সোচ্চার হলে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভের আশায় লোক দেখানো সহায়তার হাত বাড়িয়েছে সরকার। তিনি বলেন, যদি প্রথম দিন থেকে সরকার মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতেন, কূটনৈতিক অবস্থান নিতেন এবং একই সঙ্গে মানবিক অবস্থান নিতেন তাহলে আমাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারত বিশ্বের সামনে। বাংলাদেশের জনগণ এই ইস্যুতে একতাবদ্ধ ছিল। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বলেছি, এখানে কোন রাজনীতি নয়, আমাদের সবাই একতাবদ্ধ হতে হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের এ সদস্য বলেন, আমরা দেখেছিÑ এই অঞ্চলে যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপার ছিল সেখানে আমাদের কোন বন্ধুই নেই। যারা আমাদের বন্ধু বলেছিল এতদিন, এই সরকার প্রচারণা করেছিল... তারাও কেউ পাশে থাকেনি। বরং এরা সবাই মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। একদিকে আমরা একটা বন্ধুহীন অবস্থায় পড়েছি। অন্যদিকে নিজেকে আমরা দুর্বল অবস্থায় নিয়ে গেছি। আমরা ইস্যুটাকে পরিস্কার, স্বচ্ছ অবস্থান থেকে ডায়লুট করে ফেলেছি। যার কারণে আজকে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান একটা কঠিন পর্যায় চলে গেছে। আমির খসরু চৌধুরী বলেন, ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সফল হয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের আমাদের দুইটি অভিজ্ঞতা আছে। দুই বার এই সমস্যা বিএনপি সমাধান করেছে। আমরা এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তো সহযোগিতা নেবে না। কারণ সমস্যার মূল যেখানে, সেখানেই তারা এটা শেষ করে দিয়েছে। যেখানে সমাধানের মূল ছিল, সেখানেই তারা ভ্রান্ত পথে চলেছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাখাইনে মিয়ানমার সরকার গণহত্যা করছে। মিয়ানমার জাতি নিধন, গণহত্যার মতো কাজ করছে। এই কাজটি করার জন্য তারা একতাবদ্ধ। অং সান সু চি নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, এটা উনি ভুলে গেছেন। রোহিঙ্গার ব্যাপারে সু চি’র সরকার, মিয়ানমার সেনাবাহিনী একতাবদ্ধভাবে কাজ করছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের এ সদস্য বলেন, রোহিঙ্গা ইসু্যুতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ভালো ভালো কথা শুনবেন। কিন্তু আজকে রোহিঙ্গা ইস্যু যে জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, সেখান থেকে ফেরত নিতে হলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আছে। মিয়ানমারের চাপিয়ে দেয়া এই সমস্যা সমাধানে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে দেশে ‘জাতীয় ঐক্যের’ গড়ার বিকল্প নেই। নির্বাচিত সরকার, প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রয়োজন আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রয়োজন আছে। তাহলেই বিশ্বব্যাপী সরকারের অবস্থান অনেক শক্তিশালী হবে। আপনার অবস্থান শক্তিশালী হলে কূটনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী হবে। সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রফেসর এসএম হাসান তালুকদার। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর লুৎফর রহমান, প্রফেসর এমতাজ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান ও প্রফেসর ফিরোজা বেগম বক্তব্য দেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু