কার সমালোচনা করলেন বুশ, ওবামা!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয় নি। তবু তর্জুনি ইশারা বলে দেয়, তাকেই বুঝিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও তারই সমালোচনা করেছেন সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ দখলে ছিল বুশের। এ সময়ে আফগানিস্তান, ইরাক যুদ্ধ সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জটিল অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি দেখে মনে হচ্ছে আরো বেশি বিপন্ন হয়ে পড়েছে বিতর্কিত তত্ত্বে ও বানোয়াট বিষয়ে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের ২০ শে জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন বারাক ওবামা।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে বলেছেন দৃশ্যত এখন অনেক বেশি রেষারেষি ও নোংরামিময়। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের মূল্যবোধের প্রতিফলনের পরিবর্তে আমাদের রাজনীতি এখন আমাদের সম্প্রদায়গুলোকে আক্রান্ত করছে। এসব বক্তব্যে তারা সরাসরি ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও তার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ ও বারাক ওবামা। জবাবে হোয়াইট হাউজ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন নি বুশ ও ওবামা। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবে স্যান্ডার্স শুক্রবার এমন দাবি করেন। তিনি বলেন, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেন নি। তারা যদি তাই করতেন তাহলে তারা নাম উল্লেখ করতেন। তাই তাদের বক্তব্যকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বলে ধরে নেয়া ঠিক নয়। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গত ৬ দশক ধরে একটি রীতি প্রচলিত। তা হলো, ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন না সাবেক প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্টরা। এমনটা বেমানান। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও ১৫ বছরের ছোটবড় দু’জন প্রেসিডেন্ট তাই করেছেন। এতে অনেকেই হয়তো বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে তারা যে আক্রমণ হেনেছেন সে আক্রমণ কার বিরুদ্ধে তার সুস্পষ্ট নাম উল্লেখ করেন নি তারা। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার মিলার সেন্টারে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টাডিজের পরিচালক বারবারা পেরি বলেছেন, অনেক দিন ধরেই আমরা মেরুকরণ হয়ে আছি। সাবেক প্রেসিডেন্টরা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারপর ধরুন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কথা। তিনি অপ্রত্যাশিত। কারণ, তার নেই কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। রাজনৈতিক আদর্শকে তিনি মানেন না। হয় তো এ জন্যই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা যে যুক্তরাষ্ট্রে মোটেও হয় না তা নয়। প্রথম দিকে রিপাবলিকান দল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এডামস। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। জেফারসন পরে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্রেট দলের হ্যারি ট্রুম্যান। তারপরে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন রিপাবলিকান দলের ডউইট আইজেনহাওয়ার। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম কমান্ডার ইন চিফ। প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান কিন্তু কথা বলেছিলেন আইজেনহাওয়ারের বিরুদ্ধে। এছাড়া বর্তমানে জীবিত সাবেক পাঁচজন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে তাদের মুখ একেবারে বন্ধ করে রাখেন নি। ইরাকের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করে তারা ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছিলেন বলে তাদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তিনি বলেছিলেন, ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ার কোনো কারণই নেই। তার ভাষায়, আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট বুশ ও প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সম্ভবত জানতেন যে, (ইরাকের বিরুদ্ধে) যেসব গোয়েন্দা তথ্য ছিল তা নিশ্চিত নয়।
প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্টদের অবস্থানের বিরুদ্ধে এমন কথা বাল বা সমালোচনা বিরল। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শিশু, কিশোর কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে একটি কর্মসূচি পাস করিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর নাম দেয়া হয়েছিল ‘ডিফারড একশন ফর চাইল্ডহুড এরাইভালস’। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে তার কড়া সমলোচনা করেন বারাক ওবামা। তিনি ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে নিষ্ঠুর ও আত্মপরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বারবারা পেরি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া কোনো সদস্যের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা বা লিখিতভাবে সমবেদনা জানানো বিরল প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার এ দাবির প্রেক্ষিতে বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ তাকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন। ওবামা কথা বলেছেন ভার্জিনিয়ায়। বুশ কথা বলেছেন নিউ ইয়র্কে। বারবারা পেরি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধে নিহতদের বিষয়ে এগিয়ে আসছেন। তাদের বিষয়টিকে সামনে তুলে ধরছেন। এটা যেন নতুন একটি প্রথায় পরিণত হচ্ছে। ওদিকে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অব গভর্নমেন্ট রবার্ট শাপিরো বলেছেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি খুব সামান্যই সহানুভূতি আছে প্রেসিডেন্ট বুশ ও ওবামার।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আপাতত ভাত-রুটি থেকে দূরে আছি’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

দেখা হলো কথা হলো

দল থেকে বহিষ্কার মুগাবে

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতন যুদ্ধাপরাধের শামিল’

আন্ডা-বাচ্চা সব দেশে, বিদেশে কেন টাকা পাচার করবো

জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষিত

আসামি ‘আতঙ্কে’ সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতারা

ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

ভারতের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করতেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

সময় হলে বাধ্য হবে সরকার

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

কায়রোয় আরব নেতাদের জরুরি বৈঠক

পুলিশি জেরার মুখে নেতানিয়াহু