নি র্বা চ নী হা ল চা ল, মেহেরপুর- ২

বড় দুই দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি

শেষের পাতা

সাহাজুল সাজু, গাংনী (মেহেরপুর) থেকে | ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩
মেহেরপুর-২ আসনে চলছে অন্যরকম প্রচারণা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দাবড়ে বেড়াচ্ছেন মাঠ। ফেসবুকে চালাচ্ছেন নিজের গুণকীর্তন। নিজের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অন্য নেতাদের দুর্বলতার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন ফেসবুকে। এছাড়াও দল বা জোট থেকে মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং নিয়েও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ।
আওয়ামী লীগ থেকে ১১ জন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী।
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানু টুলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম শফিকুল আলম, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়সিম সাজ্জাদ লিখন, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরজাহান বেগম, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদুজ্জামান খোকন, সদস্য ও গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আহম্মদ আলী, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মজিরুল ইসলাম, ডাক্তার এসএম নাজমুল হক সাগর। এছাড়াও মেহেরপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বৃটিশ এয়ারওয়েজের পাইলট মেজর (অব.) শরীফ হোসেন মুকুল, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মোরাদ আলী। তবে এ দল থেকে আরো কয়েকজন নিজ নিজ পক্ষে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করবেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।
এছাড়াও ৩ বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ ও (বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি) এলডিপির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য নুর আহমেদ বকুল, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) জেলা সভাপতি আব্দুল হালিম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, গাংনীতে আওয়ামী লীগ দ্বিখণ্ডিত রয়েছে। একদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক ও অপরদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০০৪ সালে। ওই কমিটি দিয়েই চলছে দীর্ঘদিন। কাউন্সিল না হওয়াই দলটির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে চরমে।
এ ক্ষেত্রে বিএনপির মধ্যে মাঝে মাঝে দ্বন্দ্বের ফলে দু’ভাগে বিভক্ত হলেও গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস পূর্বেই পুনরায় এক হয়ে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নজিরও রয়েছে। আগামী নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে দলের নেতারা জানান।
তবে গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আহম্মদ আলী আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে প্রতিনিয়ত তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ২০০৪ সালে ছাত্রদলের হাতে হামলার শিকার, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার হটাও আন্দোলনে অন্যতম নেতা ও গাংনী পৌর সভা নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী সাবেক মেয়র আহম্মদ আলীকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। আহম্মদ আলী জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের জন্য ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেবেন। তিনি হাইব্রিড নেতাদের পরিহার করতে কোনো দ্বিধাবোধ করবেন না।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী এমএ খালেক জানান, গত নির্বাচনগুলোতে দলের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী, আবার কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও ওই সমস্ত নেতাকর্মীরা এখন সচেতন। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। এদিকে বিএনপির দলীয় পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের ও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ বা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনসহ দলের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী রাজনৈতিক মামলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়। বর্তমানে ওইসব মামলা বিচারাধীন। এসব মামলায় ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসামি। আগামী নির্বাচনের আগেই মামলাগুলোর রায়ে সাজা হলে বিপাকে পড়বে নেতাকর্মীরা। ফলে নেতাশূন্য হয়ে পড়বে দলটি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলাকে ভয় পায় না। এ ধরনের মিথ্যা মামলায় সাজা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের অধিকার পেলে দলের জয় নিশ্চিত।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মেজর (অব.) শরীফ হোসেন মুকুল বলেন, দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আগামী নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। তাই দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে অবশ্যই ধানের শীষ বিজয়ী হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু