টানা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে দুর্ভোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩১
কার্তিক মাসের বৃষ্টিতে শহরে থৈ থৈ পানি জমেছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও হাঁটু সমান। তলিয়ে গেছে শহরের নিম্নাঞ্চল থেকে শুরু করে অলিগলি সর্বত্র। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটু সমান পানি উঠেছে। এমনকি শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল দিনভর বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
বিরামহীন এই বৃষ্টিতে কর্মব্যস্ত নাগরিকদের দুর্ভোগই ছিল ছুটির দিনের সঙ্গী। টানা বৃষ্টির কারণে কর্মমুখী মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেননি। আর যারা বের হয়েছেন যানবাহন সংকটেও গন্তব্য পৌঁছাতে গুনতে হয়েছে বেশি ভাড়া। বৃষ্টির কারণে গতকাল রাজধানীর মিরপুর, কালশী, গোড়ান, বাসাবো, খিলগাঁও, মতিঝিল, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মালিবাগ, সিদ্ধেশ্বরী নাজিম উদ্দিন রোড, পুরান ঢাকার একাধিক এলাকা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বনশ্রী, ফার্মগেট, আগারগাঁও, তালতলা, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী, ধানমন্ডিসহ আরো একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোড, সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও ড্রেনের পানি রাস্তায় চলে আসে। সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা আলী আহসান জানান, বিরামহীন বৃষ্টিতে সিদ্ধেশ্বরীর অবস্থা নাজেহাল। ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। ড্রেনের নোংরা পানি সড়কে উঠে হাঁটা চলা করা যায়নি। বলতে গেলে ঘর বন্দি হয়ে কাটিয়েছেন শুক্রবার। নাজিম উদ্দিন রোডে গিয়ে দেখা যায় জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করে কাটিয়েছেন তারা ছুটির এই দিন। একদিকে বৃষ্টির কারণে এই এলাকার অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। অন্যদিকে যানবাহন সংকট আর ড্রেনের নোংরা পানি প্রধান সড়কে উঠায় পথ চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। নূর হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, নগরবাসীর মধ্যে এই এলাকার বাসিন্দারা সব থেকে অসহায়। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে চলতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে যায়। বিশেষ করে এখানকার ড্রেনগুলো সব সময় বন্ধ থাকে। বৃষ্টি হলে পানি প্রবাহিত হয় না। তাই পানি সড়কের উপরে চলে আসে।
জলাবদ্ধতায় বাসাবো গোড়ানের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ছিল লক্ষণীয়। নিম্নাঞ্চল হয়ায় সেখানের অনেক বাসমায় পানি প্রবেশ করে। রাস্তা ঘাটের অবস্থা ছিল জলাবদ্ধতায় ভরপুর। নেহাত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস করতে পারেননি। আর যারা বের হয়েছেন তাদেরকে পড়তে হয়েছে বিড়ম্বনায়। রাস্তায় যানবাহন চলাচল একেবারেই কম। বৃষ্টিতে রাস্তায় রিকশাও পাওয়া যায়নি। আর দু’-একটি পাওয়া গেলেও চালকরা ভাড়া হাঁকিয়েছেন আকাশচুম্বি। বাসাবোর বাসিন্দা শাহরিয়ার জানান, অসুস্থ রোগী দেখতে ঢাকা মেডিকেল যাবেন। অন্য সময় ৭০ থেকে ৮০ টাকা হলে মেডিকেল যাওয়া যায়। কিন্তু আজ (গতকাল) ১৫০ টাকা দিয়েও কোনো রিকশাচালক ঢাকা মেডিকেল যেতে চায় না। গোড়ানের রিয়াজ নামের এক রিকশাচালক জানান, টানা বৃষ্টিতে ভেজার কারণে শরীরে বেশিক্ষণ শক্তি পাওয়া যায় না। এছাড়া অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বৃষ্টি হলে রাস্তা ঘাটের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রিকশা চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। মহাখালী গিয়ে দেখা যায়, বনানী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় রাস্তায় যানবাহনের তেমন চাপ ছিল না। তবে সড়কে অল্প কিছুসংখ্যক যানবাহনের চলাচল রয়েছে। খুব বেশি মানুষ বের না হলেও প্রয়োজনের তাগিদে কিছুসংখ্যক মানুষের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আল আমিন নামের সিএনজিচালক জানান, রাস্তায় যাত্রীদের চাপ তেমন একটা নাই। টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বেশি জলাবদ্ধতা থাকলে পানি প্রবেশ করে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তখন ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। তিনি বলেন, যাত্রীরা প্রায়ই আমাদের ভুল বুঝেন। কিন্তু আমাদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝার চেষ্টা করেন না। এদিকে টানা বর্ষণে কাকরাইল মোড় থেকে পল্টন, ফকিরাপুল ও মালিবাগগামী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যায়। এসব সড়কে অল্পসংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল প্রায় ছিল না বলে দেখা যায়। যদিও সারাদিন অপেক্ষারত নগরবাসী সন্ধ্যার পরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া গতকাল প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটর ও কারওয়ানবাজার এলাকায়ও গণপরিবহন ও যাত্রীদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে শুক্রাবাদ, খামারবাড়ী, কলাবাগান এলাকায় ভোগান্তি ছিল চরমে। অলি-গলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তির ছিল চরমে। ছুটির দিনটিকে কেন্দ্র করে যাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল তাদের অনেকেই ঘরের ভেতরে বন্দি হয়ে সময় পার করতে হয়েছে। মিরপুর কালশী এলাকায় নিম্নাঞ্চলের অনেক ঘরে পানি প্রবেশ করে। ফলে এই এলকায় সাধারণ মানুষদের দিনব্যাপী কষ্ট করতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের ভোগান্তি ছিল চরমে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আপাতত ভাত-রুটি থেকে দূরে আছি’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

দেখা হলো কথা হলো

দল থেকে বহিষ্কার মুগাবে

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতন যুদ্ধাপরাধের শামিল’

আন্ডা-বাচ্চা সব দেশে, বিদেশে কেন টাকা পাচার করবো

জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষিত

আসামি ‘আতঙ্কে’ সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতারা

ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

ভারতের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করতেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

সময় হলে বাধ্য হবে সরকার

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

কায়রোয় আরব নেতাদের জরুরি বৈঠক

পুলিশি জেরার মুখে নেতানিয়াহু