বরিশালে আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাণ্ড

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ২০ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫০
বিচারকের আদেশের অপেক্ষা না করেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট মামলার ১০ বিবাদীকে নোটিশ পাঠিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় আদালত ভবনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অপকর্ম ধরা পড়ার পরে নিজের মুখেই তার সত্যতা স্বীকার করেন বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম। আদালত কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন। উল্লেখ্য, বেআইনিভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগে গত ৫ই অক্টোবর বরিশালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি দায়ের করেন বরিশালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল জসিম উদ্দিন।
কনস্টেবল নং ৮০৯। মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বরিশাল রেঞ্জ ডিআইডি, আরআরএফ’র কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার), আরআই, রেশন স্টোরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পোশাক ভাণ্ডারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আরআরএফ অফিসের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষককে বিবাদী করা হয়। মামলাটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন মামলার গ্রহণ বিষয়ক শুনানির জন্য আগামী ১লা নভেম্বর দিন ধার্য্য রাখেন। কিন্তু মামলা গ্রহণ বিষয়ক শুনানির অপেক্ষা না করেই পরে নিজেই সমন নোটিশ জারি করে দেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম। গত ১১ই অক্টোবর বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ মামলার ১০ বিবাদীর কাছে পাঠানো হয়। গত ১৫ই অক্টোবর এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি নজরে পড়ে বরিশালের বিচার বিভাগের। এ সময় প্রকাশিত সংবাদ পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন জানতে পারেন মামলা গ্রহণের আগেই বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি। এনিয়ে আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে তলব করেন। তারা জানান, বেঞ্চ সহকারী তাদের এ সংবাদ সরবরাহ করেছেন।
এরপরই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, বিবাদীদের যে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে তা সত্যি নয়। বিচারকের আদেশ না থাকা সত্ত্বেও প্রভাবিত হয়ে বিচারকের সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিবাদীদের কাছে নোটিশ জারি করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম। বুধবার বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুদিপ্ত দাস’র কাছে ঘটনাটি ধরা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের এক সূত্র। আদালতে দাখিলকৃত নালিশি মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ই অক্টোবর কনস্টেবল পদে চাকরি হয় জসিম উদ্দিনের। এরপর গত ১৮ই মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কোনো রকম কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে সরাসরি বরখাস্ত করায় ওই বরখাস্তের আদেশের উপর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজিকে বিবাদী করে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি আপিল দায়ের করে জসিম উদ্দিন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আপাতত ভাত-রুটি থেকে দূরে আছি’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

দেখা হলো কথা হলো

দল থেকে বহিষ্কার মুগাবে

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতন যুদ্ধাপরাধের শামিল’

আন্ডা-বাচ্চা সব দেশে, বিদেশে কেন টাকা পাচার করবো

জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষিত

আসামি ‘আতঙ্কে’ সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতারা

ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

ভারতের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করতেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

সময় হলে বাধ্য হবে সরকার

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

কায়রোয় আরব নেতাদের জরুরি বৈঠক

পুলিশি জেরার মুখে নেতানিয়াহু