মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার
সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগারে বন্দি থাকা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা 
ও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন ওই সময়কার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। তিনি এ জন্য তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদকে চাপ দিয়েছিলেন। এসব বিষয়ে ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস ১৯৯৬-২০১২ বইতে খোলামেলা লিখেছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী। সেখানকার কিছু অংশ তুলে ধরেছে ইন্ডিয়া টুডে। এ অংশের শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ‘রেসকিউইং বাংলাদেশজ টু বেগমস’। অর্থাৎ বাংলাদেশের দুই নেত্রীকে উদ্ধার পর্ব।
এতে প্রণব মুখার্জী যা লিখেছেন তা সরাসরি এখানে তুলে ধরা হলো:
(২০০৭ সালের জানুয়ারিতে) জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বাংলাদেশের (তৎকালীন) প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জরুরি অবস্থা জারি করেন। ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তিনি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন। এ সময়ে বেশির ভাগ প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতা ছিলেন কারাগারে। জেলে ছিলেন শেখ হাসিনাও। এ সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে ভারত। এর মধ্য দিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে, বিশ্বাসযোগ্য, মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরি।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি। তখন বাংলাদেশে সেনাপ্রধান মইন-উ-আহমদ। তিনি ৬ দিনের ভারত সফরে এলেন। আমার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করলেন তিনি। অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আমি তাকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরলাম। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন শেখ হাসিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন তিনি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিলাম। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওই জেনারেলকে পদ টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিলাম। এ ছাড়া আমি যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইলাম। উদ্দেশ্য, তাকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করা, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়ের মুক্তি নিশ্চিত করা। আমি তখনকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণনের মাধ্যমে আমার হস্তক্ষেপে সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি নিশ্চিত করলাম এবং দেশটিতে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনলাম। বেশ কয়েক বছর পর, জেনারেল মইনের যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার পথ সহজ করে দিই, তখন তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।
শেখ হাসিনা (আমার) ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। যখন আমি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম তখন ভারত তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমে। যখন তিনি জেলে ছিলেন এবং তাকে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা ত্যাগ করেছিলেন, আমি তাদেরকে তাদের অবস্থানে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, তাদের কর্মকাণ্ড অনৈতিক। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হলো। সেই নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হলেন শেখ হাসিনা।
স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন। প্রণব মুখার্জীর সেই সাক্ষাৎকারটি এখানে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক জীবন অনেক দীর্ঘ। এমন কি কোনো ঘটনা আছে যা আপনার কাছে স্মরণীয়?
উত্তর: আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া ১২ বা ১৩ কোটি মানুষের এই দেশ। আমি এখনও স্মরণ করি তখনকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই হাউজকে জানিয়ে আনন্দিত হচ্ছি যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এখন ঢাকা হলো মুক্ত বাংলাদেশের মুক্ত রাজধানী’। সরকারি দায়িত্বে যোগ দেয়ার পর এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
প্রশ্ন: এটা কি দ্বিজাতিতত্ত্বের জন্য ঘটেছে?
উত্তর: এটা সমস্ত ইস্যুর একটি সরলীকৃত বিষয়। কারণ, ঘোষণা হওয়ামাত্র দ্বিজাতিতত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। এটা (পাকিস্তান ভাগ) আরো একবার প্রমাণ করলো যে, শুধু ধর্মই একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না। এক্ষেত্রে আরো অনেক ফ্যাক্টর আছে: ধর্ম, ভাষা, রীতিনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থা।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের বিজয়ের পর আপনি কি মনে করেন কাশ্মীর ইস্যুতে সন্তোষজনক সমাধান করতে পেরেছে ভারত?
উত্তর: ইন্দিরা গান্ধী একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভারত যদি একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করতো তাহলে যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে পড়তো। তা গ্রাস করতো ভারত ও পাকিস্তান, উভয়কেই। কারণ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পরাজিত হওয়ার তারা আশাহত হয়েছিল। এ কারণে, একীভূত পশ্চিম পাকিস্তানকে সুরক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া এ যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে পড়ুক এমনটা চায়নি তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন কূটনীতিই ভালো ফল দেবে?
উত্তর: যা করার তা করা হয়ে গেছে। শিমলা চুক্তি হয়েছে। এটা এমন একটি চুক্তি যা দ্বিপক্ষীয়। এ বিষয়ে সম্মত হওয়া গিয়েছিল যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছতে হবে এসব ইস্যুতে। এ সবই শিমলা চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আপনি যদি কথা না রাখেন তাহলে এমন কোনো বিষয় বা ইন্সট্রুমেন্ট নেই, যার অধীনে আপনাকে এটা মানতে বাধ্য করা যায়।
প্রশ্ন: আপনার বইয়ের প্রকাশনার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে আপনি বেশি যোগ্য ছিলেন।
উত্তর: ডক্টর সাহেব (মনমোহন সিং) সব সময়ই অতি চমৎকার একজন মানুষ। নিঃসন্দেহে তিনি অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন, ভালো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময়ে এবং আরো অনেক পরেও আমি বলেছি যে, কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে ডক্টর সাহেব ছিলেন সেরা প্রধানমন্ত্রী। আমি এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যোগ্যতার তুলনা করতে চাই না। কারণ, বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রক্ষার উপায় নেই। এর কারণ, হলো হিন্দিতে আমার দুর্বলতা আছে। বেশির ভাগ মানুষের ভাষায় যে ব্যক্তি যোগাযোগ করতে পারেন না তিনি তো প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। আর রাজনৈতিক কারণ তো বাদই রাখলাম। মিসেস সোনিয়া গান্ধীর উত্তম বাছাই ছিলেন ডক্টর সাহেব। প্রকৃতপক্ষে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম সোনিয়া গান্ধী হবেন প্রধানমন্ত্রী। তার নামে ভোট চাওয়া হয়েছিল। তিনি ভীষণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন। আমরা পেয়েছিলাম প্রায় ১৪৭টি আসন। তিনি দলীয় নেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ইউপিএ নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরজেডি, ডিএমকে, টিআরএস, ঝাড়খন্ড, মুক্তি মোর্টা ও এনসিপিসহ সব অংশীদার একমত হয়েছিল যে, তারই নেতৃত্ব নেয়া উচিত এবং তারই প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। এক্ষেত্রে ডক্টর সাহেব ছাড়া বিকল্প কোনো বাছাই ছিলেন না।
প্রশ্ন: কোন রাজনৈতিক কারণে আপনার প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকে গিয়েছিল?
জবাব: আমি যে রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ) প্রতিনিধিত্ব করেছি সেখানে ৩৪ বছর ধরে শাসন করেছে বামপন্থিরা। যদি কোনো নেতার প্রধানমন্ত্রী হতে হয় তাহলে তিনি তার নিজের রাজ্যের প্রতিনিধি বা তার ক্ষমতাসীন দল শাসন করেছে এমন হতে পারে না। এসব বিষয় ছিল না ডক্টর সাহেবের। (তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন) কংগ্রেস শাসন করছিল পাঞ্জাব।
প্রশ্ন: আপনার বইয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার বিষয়ে ২০১২ সালে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আপনার একটি সাক্ষাতের উল্লেখ আছে।
জবাব: ওই সময়ে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তারপর ডক্টর সাহেবের নাম প্রস্তাব করা হয়। ২০০৪ সালে তিনি (সোনিয়া গান্ধী) যেমন প্রধানমন্ত্রী হতে না চেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। কারণ ওই সময় তার এ সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস মেনে নেয় নি। তিনি ঠিক তেমনই কোনো চমক দেখাবেন- আমি এমনটাই ভেবেছিলাম। তাই এটা কোনো গুরুত্বর ইস্যু ছিল না কখনোই, এমনটা কখনো মনেই করা হয় নি।
প্রশ্ন: বেশ কিছু রেফারেন্সে বলা হয়েছে যে, এক সময় আপনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে বলেছিলেন- আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে চান না?
জবাব: এমন কোনো চিঠি বা এমন কোনো কিছু নেই। (১৯৮৪ সালের অক্টোবরে) আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনটাই সফর করছিলাম। আমরা জানতাম না (তখন) ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদেরকে একটি বার্তা দেয়া হলো। তাতে বলা হলো- প্রধানমন্ত্রী (ইন্দিরা গান্ধী) আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাই আমাদেরকে দিল্লি ফিরতে হবে। একসঙ্গে ছিলাম আমি, গণি খান, রাজীব এবং তার নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে একজন। নিজের ট্রানজিস্টরে বিবিসির খবর মনিটরিং করছিলেন রাজীব (গান্ধী)। কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি ককপিটে গিয়ে বসলেন। ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত হয়ে তিনি কিছু সময় পর সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন। এলেন সেখানে থাকা তখনকার স্পিকার বলরাম জাখার, রাজ্যসভার উপ চেয়ারম্যান শ্যামলাল যাদব, গণি খান চৌধুরী, উমা শঙ্কর দিক্ষীত ও মিসেস শীলা দিক্ষীত। আমি রাজীবকে পরামর্শ দিলাম তার উচিত ক্ষমতা নেয়া। কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি বোর্ড বৈঠকে বসলো। সেখানেও সমস্ত সদস্য ছিলেন না। মাত্র দু’জন উপস্থিত ছিলেন। আমার সঙ্গে তারা হলেন পিভি নরসীমা রাও, কমলাপতি (ত্রিপাটি) ও মার্গাথাম চন্দ্রশেখর। এ ছাড়া কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির আরো দু’জন সদস্য এলেন পরে। সেখানকার রেজুলেশন নিয়ে আমরা গেলাম জইল সিংয়ের কাছে। তিনি নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে যোগাযোগ করলেন।
প্রশ্ন: আপনি যখন (প্রেসিডেন্টের) দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তখন (প্রধানমন্ত্রী) নরেন্দ্র মোদি আপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?
জবাব: আপনি এটা জানতে পারবেন না। কারণ, এসব উচ্চমাত্রায় ক্লাসিফায়েড বা গোপনীয় বিষয়। এমন কি আদালতকেও এ বিষয়টি জানা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক কেমন ছিল সে বিষয়টি আমার স্মৃতিকথার চতুর্থ খণ্ডেও, যা আমি এখন লিখছি, তাতেও আনার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। এটা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। তা সত্ত্বেও তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কারণ, তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসেছেন।
প্রশ্ন: ২০১৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলে কি আপনি বিস্মিত হয়েছিলেন?
জবাব: ওই সময়ে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না। আমি একজন মানুষকেই কৃতীত্ব দেবো। বিজেপির সিনিয়র নেতারা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৮০ থেকে ২০০ আসন পেতে পারেন বলে আমাকে জানালেন। তবে পীযূষ গোয়েল আমাকে বললেন, বিজেপি কমপক্ষে ২৬৫ থেকে ২৭০টি আসন পাবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে তিনি আমাকে এ কথা বলেছিলেন। আমরা ছোট্ট একটি সাইড টেবিল ছিল। সেখানে আমি বসতাম। সেখানে ছিল একটি নোটপ্যাড। রূপার ফ্রেমের সেই নোটপ্যাড। আমি তাতে তাদের নাম লিখলাম এবং তাদের অনুমান লিপিবদ্ধ করে রাখলাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৫ থেকে ২০টি নাম পেলাম আমি।
প্রশ্ন: কোনো একটি দলকে আন্ত্রণ জানানোর সরকারে স্থিতিশীলতা কি কোনো ভূমিকা রাখে?
জবাব: অবশ্যই। ভারতে ৮০ কোটি ভোটার আছেন। আছে ৫৪৩টি সংসদীয় আসন। তা ছড়িয়ে আছে ৩৩ লক্ষাধিক বর্গ কিলোমিটারে। আছে কয়েক লাখ ভোট কেন্দ্র। এখনকার দিনে আপনি নির্বাচন করলেন। কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো না। আপনি নির্বাচন বাতিল করে দিলেন। আবার নির্বাচন দিলেন। বর্তমানে এটা কি কৌতুকের বিষয়? যদি কোনো প্রেসিডেন্ট এটা করেন তাহলে তা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনের কাজ। একজন প্রেসিডেন্টকে একটি সরকার গঠনের জন্য কাউকে বেছে নিতেই হবে। এক্ষেত্রে তিনি ঠিকও হতে পারেন। ভুলও হতে পারে। তার এভাবে সরকার গঠনের জন্য কাউকে বেছে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে যদি একটি একক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং তারা সরকার গঠনের জন্য কাউকে নির্বাচিত করে তাহলে প্রেসিডেন্টের করার কিছুই নেই। তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন তিনি।
প্রশ্ন: আপনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর মনিশঙ্কর আয়ার এক লেখায় লিখেছেন যে, কংগ্রেস দলের জন্য আধ্যাত্মিক গাইড হওয়া উচিত আপনার। এক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি?
উত্তর: আমি সব সময়ই পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবো না। কোনো প্রেসিডেন্ট এটা করেননি। রাজেন্দ্র প্রসাদ অথবা শঙ্কর দয়াল শর্মা কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এমন কি তারাও রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথা চিন্তা করেননি। কেউ উপদেশ দিতে পারেন, কিন্তু তা চাইতে হবে।
প্রশ্ন: আপনার এ পরামর্শ কি শুধু কংগ্রেসের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে নাকি অন্য রাজনৈতিক দলের জন্যও, যদি তারা আপনার পরামর্শ চায়?
জবাব: সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে।
প্রশ্ন: এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, কংগ্রেস যখন ২০০ আসনে জেতে তারা এমন ভাব দেখায় যেন ২৮০ আসনে জিতেছে।
জবাব: আমি আসলে বলেছি (এ অবস্থায়) কংগ্রেস ভাবতে শুরু করে যে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে গেছে। কারণ, ১৯৯৯ সালে তারা মাত্র ১১২টি আসন পেয়েছিল। ২০০৯ সালে ২ শতাধিক আসন পেয়েছিল কংগ্রেস এবং তারা মনে করেছিল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। কিন্তু (শেষ পর্যন্ত) তারা গঠন করলো জোট সরকার। এটা হলো জটিল অবস্থা এবং এটা হলো আমাদের দলীয় নেতাদের ব্যর্থতা। সাধারণত জোট সরকারের আরো একটি ত্রুটি আছে। এতে প্রাধান্য বিস্তার করে আঞ্চলিক দলগুলো। আর তারা হলেন রাজ্যভিত্তিক আঞ্চলিক দল। এমন দলগুলোর উপস্থিতি থাকে একাধিক রাজ্যে। অনেক সময় আঞ্চলিক স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের সমন্বয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। জোট সরকার ব্যবস্থার ত্রুটি হলো, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সরকার না হলে একজন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব ভোট করতে পারেন না। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। একজন প্রণব মুখার্জী বা পি চিদাম্বরমকে বর্জন করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য কঠিন হতে পারে। এটা কছিন। এটাই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা।
প্রশ্ন: ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে কি ভুল ছিল বলে আপনি মনে করেন, যার জন্য তাদেরকে হতাশাজনক ফল করতে হলো?
জবাব: ভুল কি ছিল? আমরা ভোট পাইনি। তাই আমরা হেরে গিয়েছি।
প্রশ্ন: সব রাজনৈতিক দল, অংশীদার যদি আপনার কাউন্সিলিং নিতে চায় তাহলে তারা কি নিতে পারবে, আপনার কাছে আসতে পারবে?
জবাব: হ্যাঁ। তবে এক্ষেত্রে ইস্যু থাকতে হবে।
প্রশ্ন: অনেক ইস্যুর মধ্যে একটি, যা প্রেসিডেন্ট ও সরকারের ভিতরে আসে, তা হলো অর্ডিন্যান্স ঘোষণা। আপনি এই ইস্যুকে কিভাবে দেখেছেন?
জবাব: ইউপিএ’র সময়ে আমি দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে একটি অর্ডিন্যান্স আনতে হয়। যখন নিজেরাই একটি বিল আনেন এবং তার স্ট্যান্ডিং কমিটি দ্বারা গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সুপারিশ করা হয় তখন একটি অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রে কি করতে হবে তা আমি ইউপিএ সরকারের সময়ে দেখিয়ে দিয়েছি। আর আজকাল আপনি একটি অর্ডিন্যান্সের কথা বলছেন? প্রয়োজনীয়তা কি? প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে অর্ডিন্যান্স। আবারো বলি এক্ষেত্রে জরুরিটা হলো গুরুত্বপূর্ণ। এ বিবেচনায় পার্লামেন্ট অধিবেশন কখন বসবে তার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। তারপর আসে, কেন একটি অর্ডিন্যান্স? ইউপিএ সরকার এটা প্রত্যাহার করেছিল। এনডিএ প্রস্তাবিত একটি অর্ডিন্যান্সেরই সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। তাদেরকে অন্য কাউকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে হয়েছে। তখন আমি সরকারকে বলেছি, আপনারা পরবর্তীতে এটা অন্যভাবে করতে পারেন, আমি এভাবে অর্ডিন্যান্স দিতে যাচ্ছি না। এটা পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ অনুমোদন করেছে। আসলে অর্ডিন্যান্স একটি সমস্যা। ইউপিএ সরকারের সময়ে অর্ডিন্যান্স আনা হয়েছিল হাই কোর্টের কোনো অযোগ্য ঘোষণার রায়কে নাকট করে দিতে। আমি ওই অর্ডিন্যান্সের কোনো উৎকর্ষতা দেখি না। ওই অর্ডিন্যান্সের প্রক্রিয়াগত দিকে কি যৌক্তিক কারণ তা জানার চেষ্টা করছিলাম। দ্বিতীয়টি ছিল শত্রু সম্পত্তি আইন। আমার মনে হয় সেটা এনডিএ সরকারের অধীনে।
প্রশ্ন: তাহলে প্রেসিডেন্টকে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ও তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হয় এমন জটিল বিষয়ে?
জবাব: কখনো কখনো প্রেসিডেন্টদের তা করতে হয়। কখনো প্রেসিডেন্টরা সারা জীবনে কিছুই লেখেন না। তবে আমি সহ সব প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিই। আমি ফোন করেছি এটর্নি জেনারেলকে এবং তার পরামর্শ নিয়েছি।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Musa Jubary

২০১৭-১০-২০ ২০:৩৬:২৬

Who gonna trust you Pronob ??

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু