গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার নতুন ছবি প্রকাশ

আবারো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র-ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:২১
নতুন করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র-ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে ভয়াবহ নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সম্পদ জব্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওদিকে রাখাইনে গণহারে গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার নতুন ছবি হাতে পেয়েছে তারা। স্যাটেলাইটে পাওয়া তাদের হাতে আসা নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ২৮৮টি গ্রাম একেবারে অথবা আংশিক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে ২৫ শে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর। ওদিকে নির্যাতনের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে আবার নতুন করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ঢল নামছে বাংলাদেশে।
নতুন করে গতকাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। স্যাটেলাইটে পাওয়া সর্বশেষ ছবিগুলো সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, এসব ছবিই বলে দেয় কি কারণে মাত্র চার সপ্তাহে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শত শত গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছে। এতেই ক্ষান্ত হয় নি তারা। একই সঙ্গে ভয়াবহভাবে ধর্ষণ, গণহত্যা ও মানবতার বিরোধী অন্যান্য অপরাধ করেছে। এ কারণে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে। ১৭ই অক্টোবর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এসব কথা লিখেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে আরো বলা হয়েছে, যেসব গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সেখানে রয়েছে হাজার হাজার বাড়ির অবকাঠামো। এসব বাড়িতে বসবাস করতেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে শুধু রোহিঙ্গারা বসবাস করতেন এমন সব গ্রামে। মিয়ানমার সরকার যখন দাবি করেছে তাদের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস’ চালাচ্ছে তারপরই অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে। ছবিতে অনেক এলাকা দেখা যায়, যেখানে পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গ্রাম রয়েছে। এতে দেখা যায়, ৫ই সেপ্টেম্বরের পরে কমপক্ষে ৬৬টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি বলেছিলেন, ৫ই সেপ্টেম্বর থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস’ বন্ধ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) ৩০ টি পুলিশ ক্যাম্প ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এরপর প্রতিশোধ নিতে সেনাবাহিনী ভয়াবহ নৃশংসতা চালায়। এর ফলে কমপক্ষে ৫ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ জাতি নিধন হিসেবে আখ্রায়িত করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মংডু, রাথেডাং ও বুথিডাংয়ে মোট ৮৬৬টি গ্রামে মনিটরিং করা হয়েছে এবং সেখান থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষগ্রিস্ত হয়েছে মংডু। ২৫ শে আগস্ট থেকে ২৫ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানকার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ এলাকার শতকরা ৬২ ভাগ গ্রাম হয়তো একেবারে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে না হয় আংশিক ধ্বংস করা হয়েছে। এ এলাকার দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে শতকরা ৯০ ভাগ গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দেখতে পেয়েছে এসব বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে আগুন দিয়ে। যেসব গ্রামে রোহিঙ্গা ও রাখাইনরা পাশাপাশি বসবাস করতেন সেগুলো ভয়াবহভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমন গ্রামের মধ্যে রয়েছে ইন দিন এবং ইয়েত হ্নয়ো তুং। সেখানে যেসব এলাকায় রোহিঙ্গাদের বসবাস ছিল তা পুড়িয়ে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার মিয়ানমার সরকার দাবি করছে, আরসার সন্ত্রাসীরা ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা এসব অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ী। তবে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারে নি সরকার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে একশত রোহিঙ্গার সাক্ষাতকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারা ওই মংডু, বুথিডাং ও রাথেডাং তেকে পালিয়ে এসেছেন। তাদের কথায় এমন কোনো ইঙ্গিত মেলে নি যে, রোহিঙ্গা গ্রামবাসী বা আরসা অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ী। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনী পক্ষপাতহীন তদন্তও করেন নি। কাউকে তারা বিচোরের মুখোমুখিও করে নি। এ অবস্থায় জাতিসংঘের ম্যান্ডেট আছে এমন ফ্যাক্ট ফাইর্ন্ডি মিশনকে সেখানে নির্যাতন তদন্তের সুবিধা দিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর। পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের। ভয়াবহ নৃশংসতার জন্য দায়ী মিয়ানমারের কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত। মিয়ানমারের বিরুদ্বে ব্যাপকভাবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত বিভিন্ন দেশের সরকারের। এর আওতায় থাকবে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ ও সেনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করা। ফিল রবার্টসন বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া এবং বাংলাদেশে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে তাদের দুর্ভোগ যেন একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। এমন অবস্থায় সচেতন সরকারগুলোর উচিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধের জরুরি আহ্বান জানানো ও সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু