বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৫
বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে দিল্লি নজর রাখছে বলে এক রিপোর্টে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৩শে অক্টোবর ঢাকা সফরে এসে এ পরিস্থিতি নিয়ে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রিপোর্টে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বে-নজির ভাবে বিবৃতি জারি করে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ১০ কর্তাসহ বিচার বিভাগের মোট ২৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করে দিলো আইন মন্ত্রক।
বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল মামলার রায় নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সংখ্যালঘু প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে কয়েক মাস ধরেই শেখ হাসিনা সরকারের সংঘাত চলছে। প্রাথমিক ভাবে দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগারের পরে সংঘর্ষ-বিরতি ঘটায়। এই পদে সিনহার মেয়াদ শেষ হচ্ছে জানুয়ারির শেষ দিনে।
এ মাসের ৩ তারিখে সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি  নেন। তার পরে সেই ছুটির মেয়াদ আরো বাড়িয়ে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া রওনা হন। কিন্তু বলে যান, ১৪ই নভেম্বর দেশে ফিরে তিনি  ফের কাজ শুরু করবেন। তার অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।
কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন নজিরবিহীন ভাবে বিবৃতি জারি করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার ও অনিয়মের ১১ দফা অভিযোগ আনে। বিবৃতিতে বলা হয়, আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারপতি এই অভিযোগগুলো নিয়ে সিনহার সঙ্গে কথা বলেও সন্তোষজনক জবাব পাননি। এর পরে তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো বেঞ্চে না-বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের যে রেজিস্ট্রার জেনারেল  সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, রোববার তাকে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে বদলি করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব আনিসুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তীকেও। এই সব গুরুত্বপূর্ণ পদে  রোববার নতুন কাউকে নিয়োগ না করায় আইন মন্ত্রক যে খুবই তড়িঘড়ি বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোববার সংবাদ সম্মেলন করলেও সুপ্রিম কোর্টের বে-নজির বিবৃতি প্রকাশ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সরকার ও শাসক দলের কোনো  নেতা-মন্ত্রীকেও এ বিষয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে এই সংঘাতের সুযোগ নিতে না পারে, হাসিনা সরকার এখন সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে।
কিন্তু সিন?হা দেশে ফিরে ফের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সুপ্রিম  কোর্টের বিবৃতি এবং আপিল আদালতের অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বেঞ্চে বসতে অস্বীকার করার পরে সিন?হার পক্ষে আর কাজ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি। ২৩শে অক্টোবর দু’দিনের সফরে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা আসার কথা। সূত্রের খবর, এই সংকট নিয়ে সুষমা  শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলবেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হচ্ছে, বাংলাদেশের এই সংঘাত একান্তই অনভিপ্রেত। গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের বিরোধে রাজনৈতিক ব্যবস্থা  যে দুর্বল হয়, তা বিলক্ষণ জানে নয়াদিল্লি। যা ভারতের জন্য একেবারেই শুভ সংকেত নয়। তবে সঙ্গত কারণেই এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছে না সাউথ ব্লক।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ