কংগ্রেস জোট করুক, তা চাননি প্রণব

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৭ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার
ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়ে নিয়মিত ডায়েরি লিখে থাকেন। আর তার সেই ডায়েরির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বেরিয়েছে তার তৃতীয় বই ’দ্য কোয়ালিশন ইয়ার্স: ১৯৯৬ টু ২০১২’। সম্প্রতি বইটি সোনিয়া গান্ধী, মনোমোহন সিং প্রমুখ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইয়ে তিনি লিখেছেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী না করার সিদ্ধান্তে তিনি অখুশিই হয়েছিলেন। তবে কংগ্রেসের জোটের রাজনীতি করার যে প্রবল বিরোধী ছিলেন সে কথাও জানিয়েছেন ইউপিএ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি তার বইয়ে জানিয়েছেন, শুধু ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে যেন তেন প্রকাওে জোট গড়ার পক্ষে নন।
প্রণব বলেছেন, যেভাবে ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপিকে হারানোর জন্য তার আগের বছর কংগ্রেস অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত নেয়, তাতে তার সম্মতি ছিল না। তার সেই মত এখনও পাল্টায়নি। প্রণবের মতে, কংগ্রেসের একলা চলা উচিত। তাহলেই তারা নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে। তিনি বলেছেন, ২০০৩ সালে দলের সিমলা অধিবেশনে ঠিক হয়, আগের পাঁচমারি অধিবেশনের সিদ্ধান্ত বদলে  জোট বেঁধে চলার চেষ্টা হবে। সোনিয়া গান্ধী ও মনমোহন সিংয়ের মূল বক্তব্য ছিল- পাঁচমারির সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। একা তিনিই উল্টো কথা বলেন। তিনি বলেন, অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধলে ক্ষুণ্ন হবে শতাব্দী প্রাচীন দলটির স্বকীয়তা ও পরিচয়। শুধু সরকার গড়ার জন্য এভাবে তা হারানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো জানিয়েছেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, কংগ্রেস নানা মত, ব্যক্তিত্ব ও নানা স্বার্থে আসা গোষ্ঠীর সমাহার।  যেখানে দলের মধ্যেই এতবড় জোট সামলাতে হচ্ছে, সেখানে বাইরের নানা দলের জোটের নেতৃত্ব করা কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
রামদেবের সঙ্গে দেখা করা ভুল ছিল: ২০১১ সালের আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনে যোগগুরু রামদেবকে ঠাণ্ডা করতে দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন প্রণব ও তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আরো এক মন্ত্রী কপিল সিবাল। ৬ বছর পর প্রণব মুখোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন, তাঁদের সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। প্রণব বলেছেন, আন্না হাজারের অনশন অবস্থানে এমনিতেই বেকায়দায় ছিল ক্ষমতাসীন কংগ্রেস। তাই রামদেবও কালো টাকা দেশে ফেরানোর দাবিতে অনশনে বসার ঘোষণা করায় সেই আন্দোলন অঙ্কুরেই শেষ করে দিতে তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব। রামদেবের ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে তার কথা হয়। তিনি বলেন, রামলীলা ময়দানে অনশনে বসার আগে যোগগুরুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আন্দোলন শুরু না করার অনুরোধ করতে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে তিনি  যোগগুরুর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী