রাশিয়ায় আইপিইউ সম্মেলনে এমার্জেন্সি আইটেম রোহিঙ্গা ইস্যু

অনলাইন

সংসদ রিপোর্টার | ১৬ অক্টোবর ২০১৭, সোমবার, ৭:৪৮ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২৪

রাশিয়ার সেন্টপিটাসবুর্গে চলমান ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের ১৩৭তম সম্মেলনে ইমার্জেন্সি আইটেম হিসেবে সাধারণ আলোচনায় হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। আলোচনার শিরোনাম দেয়া হয় ‘মিয়ানমারে মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন নিরসনের প্রচষ্টা বৃদ্ধি’। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া বিষয়টি সাধারণ আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করলে ভোটাভুটিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ করতালির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলনেতা মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়াকে অভিনন্দন জানান এবং তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আইপিইউ সম্মেলনে সাধারণ আলোচনায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলনেতা জোরালো ভাবে তুলে ধরেন। এ সমস্যা মোকাবিলায় মিয়ানমারকে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করতে আইপিইউভুক্ত দেশগুলোকে আহবান জানান তিনি।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তৃতায় বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং সাহায্যের কারণে আমি বাংলাদেশের জনগনের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল এবং মহানুভবতার কারণে তাদের আশ্রয় এবং খাবারের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু এই মানবিক বিপর্যয়ের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় যদি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থা স্বচক্ষে দেখতেন তাহলে জানতে পারতেন কিভাবে মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে। ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, নারী ও শিশু হত্যাসহ অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে যা বিশ্ব মানবতাকে কেবল আহত করেনি, যা ঘটেছে তা হয়েছে মানবাধিকারের চরম লংঘন ও পরিকল্পিত জাতিগত নিধন। এসময় তিনি মিয়ানমারে মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন নিরসনের প্রচষ্টা বৃদ্ধি করতে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মিয়ানমারে মুসলিম নিধনকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পুর্ণ নাগরিকের মর্যাদা দিয়ে নিঃশর্তভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহবান জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ৫ দফা প্রস্তাবনা এবং কফি আনান কার্যালয়ের প্রতিবেদনের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। ডেপুটি স্পিকার বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি উল্লেখ করে বলেন, চার দশক আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বাঙালি জাতি এমন একটি বৈশ্বিক কাঠামো উপহার দিতে চায় যেখানে সকল মানুষ শান্তিতে সহাবস্থান করবে। থাকবে না কোন বৈষম্য, শোষণ বঞ্চনা, থাকবে না কোন অনাহার দারিদ্র । থাকবে শুধু সামাজিক সাম্যাবস্থা। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তার মানবিক উদারতার কারনে আজ বিশ্বব্যাপী ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন।’

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু