গণপিটুনিতে যুবক নিহত

অনলাইন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: | ১৩ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার, ৩:৪৩
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের যমুনা নদী বিধৌত প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে স্থানীয় ক্ষুব্দ লোকজন এক ব্যক্তিকে মারপিট ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহত উজ্জল মিয়া উজাল (৪২) উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের চরনাটিপাড়ার আজগর আলীর ছেলে। কাজিপুর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত তছলিম জানান, আজ শুক্রবার সকালে ওই এলাকা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

তছলিম উদ্দিন আরও বলেন, এলাকায় উজ্জলের সাথে বেশ কয়েকজনের দ্বন্ধ চলছিল, ওই সব ঘটনায় মামলাও চলছে। ধারনা করা হচ্ছে, তারাই ক্ষুব্দ হয়ে উজ্জলকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে জড়িতরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বিমল কুমার চাকী জানান, উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। অকারণে মানুষ ও জীব-জন্তুকে আঘাত করা ছিল তার নেশা। কয়েকদিন আগে একটি মারপিটের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্তি পেয়ে এসে আবারও সে আগের মতোই আচরণ শুরু করেছিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় চরগিরিশ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক মিন্টু জানান, উজ্জলের অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বেশ কয়েকদিন আগে সে নাটিপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক জাহিদকে হত্যা করার জন্য গভীর রাতে বাইরে থেকে ঘরের বেড়ার ভিতর দিয়ে টেটা নিয়ে ঘাঁ মারে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় জাহিদের গর্ভবতী স্ত্রী গুরুতর আহত হন। কয়েক দিন পর সে গভীর রাতে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম উদ্দিনের বোনের বাড়িতে গিয়ে জানালা দিয়ে তার বোনের শরীরে হাত দেয়। ১৪/১৫ দিন আগে সে একই এলাকার জুড়ানের বাড়িতে গিয়ে গোয়াল ঘরে থাকা ৪টি ছাগল জবাই করে রেখে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা ও জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। এ কারনে ক্ষুব্দ হয়ে উজ্জল গতরাত ২টার দিকে প্রথমে জুড়ানের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে। এরপর সে চিকিৎসক জাহিদের বাড়িতে গিয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। এ অবস্থায় গ্রামবাসী জড়ো হয়ে উজ্জলকে আটক করে মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে। এরপর গ্রামবাসী আশংকাজনক অবস্থায় উজ্জলকে স্থানীয় নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়নি। পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে সে উজ্জলকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে স্থানীয়রা নাটুয়ারপাড়া বাজার এলাকায় একটি ভ্যানের উপরে তার লাশ রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রকৃত পক্ষে ক্ষোভ থেকেই স্থানীয় লোকজন উজ্জলকে গনপিটুনী দিয়ে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর তছলিম উদ্দিন বলেন, অপরাধী হলেও কাউকে গনধোলাই দিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। গতরাতে উজ্জল কাউকে মারপিট করেছে কিনা, এলাকার লোকজন পলাতক থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
[এমকে]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘এখন ভালো কথা ও সুরের চেয়ে মিউজিকটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়’

ডেমরায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আটজন

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত’

আরো একটি লজ্জা

শাসন যেখানে বাছবিচারহীন

উচ্চ ব্যয়ের ঢাকায় নিম্নমানের জীবন

সৌদি আরবে অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন

জলাবদ্ধতার কী দেখেছেন কলকাতা-মুম্বই যান

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতার পায়ে আওয়ামী লীগ নেতার গুলি

গ্রাহক টানতে পারছে না ‘দোয়েল’

সিলেটে যে ছবিটি এখন ভাইরাল

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

লড়াই হবে ত্রিমুখী

পাহাড়ে হঠাৎ বেপরোয়া সশস্ত্র সংগঠনগুলো

পাঁচ বিভাগীয় শহরে বিটিভি’র স্টেশন হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক প্রধান শিক্ষকের খোলা চিঠি