প্রতিবাদে বিক্ষোভ শনিবার

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:১৭
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন ঢাকার দুইটি আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান ও ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী গতকাল এ আদেশ দেন। এদিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এ ঘোষণা দেন। এদিকে আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ চলছে। এ দুটি মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন- জিয়া পরিবারের বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। অন্যদিকে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন- খালেদা জিয়াসহ চারজনের নাম। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশের ব্যাপারে তার আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আদালতে অনুপস্থিত থাকায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ২০১৬ সালে করা মানহানির এক মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি জারি করেছেন ঢাকার মহানগর হাকিম নুর নবী। মামলার বাদী এ বি সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৭ই সেপ্টেম্বর আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ই অক্টোবর হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিনও তিনি আদালতে হাজির হননি। তাই আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩রা নভেম্বর সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে এই মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। আদালত তেজগাঁও থানার পুলিশকে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। চলতি বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য প্রতিবেদনে আবেদন করা হয়। ২২শে মার্চ ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে হুমকি দেন এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন। অন্যদিকে ২০০১ সালে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তাদের বাড়িতে এবং গাড়িতে তুলে দিয়েছেন। যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকাকে অপমানিত করা হয়েছে। এদিকে বাসে পেট্রলবোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় গত ৯ই অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ দলটির ৭৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম।
সরকারের কুটিল ছক বাস্তবায়নের অংশ: বিএনপি
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকে সরকারের ক্রমাগত কুটিল ছক বাস্তবায়নের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি দাবি করেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের হুকুমেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুবলীগ-ছাত্রলীগের মিছিল প্রমাণ করে, সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে মিথ্যা মানহানি মামলায় ও বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। দেশবাসী জানে- বিএনপি চেয়ারপারসনের চোখের অপারেশন হয়েছে লন্ডনে। সেখানে তিনি নিয়মিত চেকআপে আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরবেন। তার দেশে ফিরতে আর বেশি বিলম্ব হবে না। ঠিক এ মুহূর্তে জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি সরকারের ক্রমাগত এক কুটিল ছক বাস্তবায়নের অংশ। রিজভী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসী কায়দায় স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করে তাকে যেভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এখন জোর জবরদস্তি করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা কোথাও ঘটেনি। প্রধান বিচারপতির নাজেহালের দৃশ্য দেখে গোটা বিচার বিভাগ এখন শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এজন্য তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এই সুযোগে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু, তা ভোটারবিহীন সরকারের সর্বোচ্চ স্থান থেকেই হুকুম হয়েছে বলে দেশবাসী বিশ্বাস করে। বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, সন্ত্রাসী কায়দায় বিচার বিভাগকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একক কর্তৃত্বে নিয়ে আসার কাজ বাস্তবায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আদালতকে নতজানু রাখার নীতি চলমান রাখতে বাতিকগ্রস্তদের মতো উদ্ভট উল্লাসে এখন সরকারপ্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে দমন করার অপচেষ্টায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। ইতিহাস বলে, ‘স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে চলতে পারে না- এ দু’টি সম্পূর্ণরূপে অসঙ্গতিপূর্ণ।’ রিজভী বলেন, দেশবাসীর মনে আছে- যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সংলাপ বা সমঝোতা হবে না।’ এ কথার মধ্য দিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় দেশের বৃহৎ ও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচন করার জন্য আবারও ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পূনরাবৃত্তি করার নীলনকশা আঁটছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর খায়েশ পূরণ হবে না। স্বপ্নবিলাস ঘুমের ঘোরেই কেটে যাবে। জনগণের শক্তি প্রবল বেগে আওয়ামী লীগের নির্বাচন নিয়ে কারসাজি প্রতিহত করবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

‘আশ্রয়শিবিরে ৫০০ রোহিঙ্গা নারীর যৌন ব্যবসা’

এম কে আনোয়ারের দাফন আগামীকাল

‘আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ক্যাবিনেটে সুপারিশ করা হয়েছে’

জঙ্গি অভিযান শেষ, আটক হয়নি কেউই

খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাচ্ছেন রোববার

রোনালদোই সেরাা

সেরা একাদশে যারা

রোহিঙ্গা ইস্যু- ফের  আসছেন চীনের বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি করা ভারতের জন্য কি কূটনীতির পরীক্ষা?

সুষমার সতর্ক কূটনীতি

সেসিপ প্রকল্পে ১৩২ কোটি টাকা লোপাট

রোহিঙ্গাদের পাশে রানী রানিয়া

‘সব বিষয় ইমানদারির সঙ্গে মিটিয়ে ফেলবো’

‘সবুজ বিপ্লবের’ পথে পোশাক শিল্প