দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিযোগিতায় চীন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাপান

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন চলছে মূলত চীন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাপানের সঙ্গে। সবাই এখানে প্রভাব বিস্তারের জন্য লড়াই করছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে চীন ও ভারত। এমন অবস্থায় ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্র যদি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়ায় বা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে তাহলে তার একটিই ফল পাওয়া যাবে। তাহলো মিয়ানমারকে ঠেলে দেয়া হবে চীনের দিকে। উপরন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের যারা চান মিয়ানমারে গণতন্ত্র টিকে থাকুক তারা অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারের ওপর আর চাপ সৃষ্টি করতে চাইবেন না।
এসব ঘটনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা স্থায়ী হয়ে যেতে পারেন বা এমন মানসিকতা গড়ে উঠতে পারে। তারা মনে করতে পারেন, তাদের আর দেশে ফিরতে হবে না। এতে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। এমন মন্তব্য করেছেন লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাঙ্ক বিষয়ক প্রতিষ্ঠান চ্যাটহ্যাম হাউজের এসোসিয়েট ফেলো বিল হেটন। এ নিয়ে তিনি চ্যানেল নিউজ এশিয়ায় একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মার জনগোষ্ঠীর ভিতরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মাত্রায় রয়েছে শত্রুতা। মাঝে মাঝেই এ নিয়ে তারা রাজপথে সহিংসতা সৃষ্টি করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ অবস্থা কিছুটা স্তিমিত। মুসলিম বিরোধী যেকোনো উসকানিতে তাদের সহজেই উত্তেজিত করে তোলা যায়। তাই মিয়ানমারের রাজনীতিতে ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রায় আধিপত্য বিস্তারকারী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দেশকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। এ সময়ে বর্তমান সরকার তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না যাতে ওই অবস্থা ফিরে আসে। ওদিকে আসিয়ানের ১০ সদস্যের অন্যতম মিয়ানমার। এ সংগঠনও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থপূর্ণ কোনো চাপ সৃষ্টি করছে না। প্রকাশ্যে মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করেছে মালয়েশিয়া। সংকটে মধ্যস্থতা করার উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে মুখোমুখি বসেছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয় নি। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া দু’দেশই রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ অথবা বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার কোনো কথা নেই। এর প্রেক্ষিতে যে প্রশ্ন সামনে চলে আসে তাহলো- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কি হবে? এক্ষেত্রে একটি জবাব হতে পারে পুনর্বাসন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ বা অন্য কোনো রাষ্ট্র নিতে রাজি নয়। এমনিতেই মালয়েশিয়ায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এ সংখ্যা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার। এর বাইরে রয়েছে অনিবন্ধিত অবস্থায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা। কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে গেছে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে ও ইন্দোনেশিয়ায়। নৌপথে এ দেশগুলোতে পাড়ি জমাতে গিয়ে তারা পাচারকারীদের কবলে পড়ছে। এবার থাইল্যান্ড ঘোষণা দিয়েছে, তারা বোটে করে আসা নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে তাদের ভূমিতে অবতরণ করতে দেবে না। তাহলে ঘটনা কি দাঁড়ায়! এক্ষেত্রে একটিই তথ্য বেরিয়ে আসে। তাহলো, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলই হচ্ছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার প্রায় স্থায়ী উপস্থিতি বা বাস। তাদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো বিলম্বিত হলে তাদের মধ্যে একটি আশা জেগে উঠবে। তারা মনে করছে তারা স্থায়ী হয়ে গেছেন। এমনটা হলে পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ। বিল হেটন আরো লিখেছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে, ভয়াবহ মানবেতর অবস্থা দেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রাজনীতিকরা সহানুভূতি ঢেলে দিচ্ছেন। কেউ কেউ বিবৃতি দিচ্ছেন। মিয়ানমারে নৃশংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তারা এখানে কর্দমাক্ত শরণার্থী শিবিরে, ঝড়ঝঞ্ঝা কবলিত এলাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে বসবাস করছে। করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন আলোচনা করছে, বিতর্ক করছে তখন পরিস্থিতির দিকে আরো খোলাভাবে দৃষ্টি দেয়া দরকার। নিরেট সত্যকে মেনে নিতে হবে। সেটা হলো: এসব রোহিঙ্গা সুনির্দিষ্টভাবে আর তাদের দেশে ফিরে যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, শুধু বাংলাদেশই এসব রোহিঙ্গাকে অস্থায়ী আশ্রয় দিয়েছে। এক্ষেত্রে অতি আশা করা হলে (অর্থাৎ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে) তাতে দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যাবে। বিল হেটন আরো লিখেছেন, ১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে দশকের পর দশক ধরেই দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অপারেশন ড্রাগন কিংয়ের মাধ্যমে দুই লাখ মুসলিমকে বাংলাদেশে পুশ করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাদের অনেককে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সামরিক জান্তা। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আবারও প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে জোর করে বের করে দেয়। পুশ করে বাংলাদেশে। ওই সময়ে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনারের অধীনে এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় সেনাবাহিনী। কিন্তু তার আগেই ওইসব রোহিঙ্গার বেশির ভাগকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে রাখাইনে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই নৃশংসতা নাটকীয়ভাবে সবচেয়ে খারাপের দিকে যায় ২০১২ সালে। ওই সময়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। এর মধ্যে অনেকে আবার দেশের ভিতরেই রয়ে যায়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ