নি র্বা চ নী হা ল চা ল - ময়মনসিংহ ১

কোন্দলই ফ্যাক্টর

শেষের পাতা

মতিউল আলম ও ওমর ফারুক সুমন, ময়মনসিংহ থেকে | ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৭
সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের ১২টি ও ধোবাউড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। ১৯৯০ সালের পর থেকে ধোবাউড়া উপজেলাটি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে আসছিল। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হালুয়াঘাটের সঙ্গে ধোবাউড়া উপজেলাকে যুক্ত করে ময়মনসিংহ-১ আসন করা হয়। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তাকে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০১৪ সালে ১০ম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারো অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি নির্বাচিত হন।
২০১৬ সালে প্রমোদ মানকিন মারা যাওয়ার পর উপ-নির্বাচনে তার ছেলে জুয়েল আরেং আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড়   বছর বাকি থাকলেও এখানে প্রচারণা জমে উঠেছে। এ আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। ২/৩ গ্রুপে বিভক্ত। নেতাকর্মীরা বলেছেন, কোন্দল নিরসন না হলে নির্বাচনী মাঠে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নামানো কঠিন হবে। এর জন্য নির্বাচনে মাশুল দিতে আওয়ামী লীগকে।
এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা ৮জন, বিএনপির ৪ জন ও জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান এমপি ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বয়সে নবীন জুয়েল আরেং, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ময়মনসিংহ ইউনিটের জেলা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া প্রতিবারের ন্যায় এবারও হালুয়াঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ভারতে গিয়ে জাতীয় মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি এই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য ২৬ মাস কারাবরণ করতে হয়েছে। এছাড়া ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান আকন্দ, ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট পীযূষ কান্তি সরকার, ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া ক্লিন ইমেজের উদীয়মান নেতা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মনোয়ার হোসেন মিনার মনোনয়ন চাইবেন বলে তার সমর্থকরা জানিয়েছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে- হালুয়াঘাটের সাবেক এমপি ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২ বার নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আলী আজগর। আলী আজগর বলেন, আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করে এই আসনটি উদ্ধার করতে হলে স্থানীয় ভাবে শক্তিশালী গ্রহণযোগ্য প্রার্র্থী মনোনয়ন দিতে হবে। অপর আরেক বিএনপির উদীয়মান নেতা ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ওমর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওমর রুবেলও মনোনয়ন পেতে নির্বাচনী মাঠে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 বিএনপিতেও মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স তাদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এক্ষেত্রে তাকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তারা মনে করেন। হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসনাত বদরুল কবির বলেন, আমাদের নেতা প্রিন্স হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলার দলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে দলীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তিনি প্রতিটি দুর্যোগে দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ান। এ জন্য তার জনপ্রিয়তা বেশি। তার পক্ষেই এই আসনটি উদ্ধার করা সম্ভব।
জাপা থেকে হালুয়াঘাট উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম পাপ্পু মনোনয়ন চাইবেন ।
ধোবাউড়ার চেয়ে হালুয়াঘাট উপজেলায় দ্বিগুণ ভোটার থাকার কারণে বড় দুই দলই হালুয়াঘাট থেকে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিবে এমনটা নেতাকর্মীদের ধারণা। তবে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে কোন্দলই ফ্যাক্টর। যে দলই কোন্দল মিটিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে সে দলই ভালো করবে এখানে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘এখন ভালো কথা ও সুরের চেয়ে মিউজিকটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়’

ডেমরায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আটজন

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত’

আরো একটি লজ্জা

শাসন যেখানে বাছবিচারহীন

উচ্চ ব্যয়ের ঢাকায় নিম্নমানের জীবন

সৌদি আরবে অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন

জলাবদ্ধতার কী দেখেছেন কলকাতা-মুম্বই যান

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতার পায়ে আওয়ামী লীগ নেতার গুলি

গ্রাহক টানতে পারছে না ‘দোয়েল’

সিলেটে যে ছবিটি এখন ভাইরাল

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

লড়াই হবে ত্রিমুখী

পাহাড়ে হঠাৎ বেপরোয়া সশস্ত্র সংগঠনগুলো

পাঁচ বিভাগীয় শহরে বিটিভি’র স্টেশন হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক প্রধান শিক্ষকের খোলা চিঠি