কেসিসি ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে খুলনার রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
সিটি কর্পোরেশন ও সংসদ নিয়ে খুলনার রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। নেতাদের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। এ নিয়ে থানায় জিডি, ফেসবুক পেজে মন্তব্য আর জনসম্মুখে একজন অন্যজনকে তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন। গত রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রকাশ্যে দু’জনই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দলীয় নেতারাও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয় চেম্বার অব কমার্সের এক নেতা ও মহানগর যুবলীগের এক নেতা তাকে মেরে ফেলতে চান। এজন্য তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন। এর আগে খুলনার রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধ থাকলেও তা প্রকাশ্যে ছিল না। বুধবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান তার বক্তব্যে মেয়রের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন এবং পদত্যাগ দাবি করেন। একদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়র মনি তার ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যকে উল্টো দোষারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় দলের অনেক নেতাই আমাকে হিংসা করেন। তারা আমার জনপ্রিয়তাকে মেনে নিতে পারেন না। আমার আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটা তারা দেখেন না। আমার নামে মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছেন। দলের ভাবমূর্তি তারাই নষ্ট করছেন। খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, এটা নিজেদের বিষয়। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে একটু-আধটু হয়। দলের প্রয়োজনে আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ আছি। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আমার নিজের কোন ফেসবুক একাউন্ট নেই। আমার নামে কে বা কারা ওটা চালাচ্ছে তাও জানি না। এমন অবস্থায় আসলে কি করা উচিত আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চাইব। খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ফেসবুক একাউন্টটি নিঃসন্দেহে মেয়রের। শুধু আমাকে নয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তিনি এমনটি করেছেন। খুলনার জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মেয়র ব্যর্থ হয়েছেন। তার কারণে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের নিরাপত্তার জন্য জিডি করেছি (জিডি নং ৫০৪)। নিজ দলের দুই নেতাকে নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। তারা আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়।’ কোন দুই নেতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। চেম্বার অব কমার্স ও যুবলীগের দুইজন নেতার কথা জিডিতে বলেছি। খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু বলেন, মেয়র নির্বাচনের জন্য আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এডভোকেট সাইফুলও মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু রাজনীতিতে এমন নোংরামি করা ঠিক না। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আমার সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব নেই। অপরদিকে বিএনপির রাজনীতিতেও গ্রুপিং লবিং দ্বন্দ্বে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও আগামী শুক্রবার খালিশপুরে একই স্থানে যুবদলের দুই গ্রুপের পাল্টপাল্টি সভা ডাকা হয়েছে। কেএমপি ওই স্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। খুলনা পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, একই সময়ে কোনো স্থানে পরস্পরবিরোধী সভা-সমাবেশ করা যাবে না। যে দলের হোক না কেন, সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে তা করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। যা সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করতে হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘এখন ভালো কথা ও সুরের চেয়ে মিউজিকটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়’

ডেমরায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আটজন

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত’

আরো একটি লজ্জা

শাসন যেখানে বাছবিচারহীন

উচ্চ ব্যয়ের ঢাকায় নিম্নমানের জীবন

সৌদি আরবে অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন

জলাবদ্ধতার কী দেখেছেন কলকাতা-মুম্বই যান

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতার পায়ে আওয়ামী লীগ নেতার গুলি

গ্রাহক টানতে পারছে না ‘দোয়েল’

সিলেটে যে ছবিটি এখন ভাইরাল

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

লড়াই হবে ত্রিমুখী

পাহাড়ে হঠাৎ বেপরোয়া সশস্ত্র সংগঠনগুলো

পাঁচ বিভাগীয় শহরে বিটিভি’র স্টেশন হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক প্রধান শিক্ষকের খোলা চিঠি