রংপুরে ১টি মরিচ ১ টাকা

বাংলারজমিন

জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে | ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের পাড়া-মহল্লার সবজির দোকানে কেজি দরে বিক্রি না করে ১টি মরিচ ১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি বন্যায় শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামরিচের কেজি ২শ’ টাকা ছাড়িয়েছে। গতকাল পূর্ব শালবন এলাকার কয়েকটি সবজি দোকানে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষজন ও মেসের শিক্ষার্থীরা ৫ টাকার মরিচ নিতে গেলে গুনে গুনে তাকে ৫টি মরিচ দেয়া হয়। এর কারণ হিসেবে জানতে চাইলে দোকানী খদ্দেরকে বলেন, কাঁচামরিচ ১শ’ গ্রাম ২২ টাকা। ৫ টাকার মরিচ কিভাবে দেবো।
তাই প্রতি মরিচ হিসেবে দাম ধরছি, যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষজন ২ টাকায় দুটি মরিচ নিতে পারে। ক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, কাঁচামরিচের এমন আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে ভালো দাম পাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় দোকানী আবদুল মজিদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক মরিচ চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যারা মরিচ উৎপাদন করতে পেরেছে তাদের পোয়া বারো। এদিকে হারাগাছ মাহিগঞ্জ এলাকার কৃষক আবদুল জব্বার ও মজিবর মিয়াসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উঁচু জমিগুলোর যেখানে পানি জমে না, সেসব জমিতে মরিচ চাষ করেছেন তারা। সম্প্রতি বন্যায় জমির মরিচ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে দামের প্রভাব পড়েছে। তবে কৃষকরা খুব একটা বেশি দাম না পেলেও ফড়িয়া মহাজনেরা দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করছেন। আর ভোগান্তির কবলে পড়েছে সাধারণ মানুষজন। এদিকে রংপুর সিটি বাজারে পাইকারি মরিচের আড়ৎগুলোতে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতি কেজি মরিচ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এসব মরিচ দোকানীরা কিনে নিয়ে গিয়ে খুচরা ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নে ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি এমারুল হক বলেন, এ এলাকার ৮০ ভাগ মাটি পলি ও উর্বর দোঁআশ হওয়ায় মরিচ চাষ ভালো হয়েছে। আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। বন্যায় আড়াই বিঘা জমির কাঁচামরিচ নষ্ট হয়ে গেলেও আকস্মিকভাবে মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় হাফ বিঘা অর্থাৎ ১০ শতক জমি মরিচ উৎপাদন দিয়ে সব ক্ষতি পুষিয়েও বেশ লাভ হয়েছে। বিক্রেতার মুখে স্বস্তির কথা শোনা গেলেও বিরক্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের মুখে। মরিচ ক্রেতা আছিয়া বলেন, এ্যানকা আগোত হয় নাই, যা একন্যা মরিচ এক টেকায় বিক্রি হইচে বাহে। রংপুর কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যা ধকল কাটিয়ে কৃষকরা আবার নতুন উদ্যোগে শাক-সবজিসহ ফসল উৎপাদনে মাঠে কাজ করছে। আশাকরি খুব শিগগিরই সবজি, মরিচ ও পিয়াজের দাম কমে আসবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

‘ঢাকার জলাবদ্ধতা কী দেখেছেন, কলকাতা যান’

ফেনীর একরাম হত্যা মামলা: বিএনপি নেতা মিনারের জামিন

সুচির পদত্যাগ করা উচিত

‘প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতারা সরকারদলীয়’

রামের প্রার্থনা করা নারীরা অমুসলিম হয়ে গেছেন

রাজধানীতে ৫ ছিনতাইকারী আটক

টিপু জয়ন্তী নিয়ে কর্নাটকে কংগ্রেস-বিজেপি মুখোমুখি অবস্থানে

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

যুবলীগ নেতাকে গুলি করায় আ’লীগ নেতা আটক, সড়কে ব্যারিকেড

ব্রায়ান ঝড়ে বৃটেনে জীবনযাত্রা বিঘ্নিত

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১১জনকে জেরার আবেদন নিষ্পত্তি

সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামপন্থিদের নিয়ে টুইট করে বৃটেনে কড়া সমালোচিত ট্রাম্প

সমকামীদের অধিকার নিশ্চিত করতে চান বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করছে অস্ট্রেলিয়া

গ্রেপ্তার হতে পারেন স্বাধীনতা আন্দোলনের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট