স্মার্ট সরকারের আন-স্মার্ট নাগরিক!

মত-মতান্তর

মাহবুব মাসুম | ৮ অক্টোবর ২০১৭, রবিবার
সেই ২০১১ সাল। বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১৫ শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে নাগরিকদের স্মার্ট করার প্রকল্প শুরু। বর্তমানে অনিশ্চিত। সত্যি কথা বলতে সব নাগরিক খুব সহসাই আর পাচ্ছে না স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু জনগনকে এ দেড় হাজার কোটি টাকার লাভ-সুদসহ ঠিকই গুণতে হবে। এর দায় কে নেবে? স্মার্ট বর্তমান সরকার তো উন্নয়নের কথা বলে গণতন্ত্রের নতুন মডেল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজ দলের নেতা-কর্মীরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। বিচার বিভাগ। সে তো অনেক আগেই হাওয়া হয়ে গেছে। এখন সামনে শুধু নাটক আর নাটক অপেক্ষা করছে। স্মার্ট সরকারের ভোটারদের ভোট দিতে আর কেন্দ্রে যেতে হয় না। তারপরও নাগরিকদের স্মার্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বলছিলাম স্মার্ট আইডি কার্ডের কথা। রকিব কমিশন গত ৫ বছরে এই প্রকল্পের টাকা দিয়ে নানা দেশ ঘুরেছে। খরচ করেছে কোটি কোটি টাকা। জনগনের টাকা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিলাসী সফর করেছেন বিভিন্ন দেশে। নিজেদেরকে স্মার্ট বানিয়েছেন। কত টাকা নয় ছয় হয়েছে কে জানে! শুধু কমিশনাররাই নন।সঙ্গে এই প্রকল্পের মহাপরিচালক, পরিচালক ও কমিশনের সচিবরাও নানা দেশ সফর করেছেন। সেই সময় এ নিয়ে অনেক রিপোর্ট করেছি। কাছ থেকে সবকিছু দেখার সুযোগ পেয়েছি। গত ৫ বছরে সরকারের আজ্ঞাবহ রকিব কমিশন তো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে ধংস করে দিয়ে চলে গেছে। বর্তমান কমিশন তো বোধ হয় একই পথে চলছে। যে দেশের কোন কাজে স্বচ্ছতা নেই, জবাবদিহিতা নেই, ভোটাধিকার নেই, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নেই, রাজনীতি করার অধিকার নেই, মিছিল-মিটিং করার অধিকার নেই, সততা-ন্যায়পরায়নতার স্থান নেই,  সে দেশের নাগরিকদের জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করে স্মার্ট বানানো বিলাসিতা মাত্র।
স্মার্ট কার্ড প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে কিছু সংখ্যক ভোটারকে দেয়া হয়েছে এ স্মার্ট আইডি কার্ড। যারা পেয়েছেন তারা ভাগ্যবান। বর্তমান সব ভোটাররাতো পাবেনই না। সামনে যারা ভোটার হবেন তাদেরও স্মার্ট কার্ড দেওয়া অনিশ্চিত। চুক্তি অনুযায়ী ৯ কোটি ভোটারের স্মার্ট কার্ড তৈরী করে দেওয়ার কথা ফ্রান্সের ওবার্থু কোম্পানির। জানা যায় বর্তমান আড়াই কোটি ভোটার স্মার্টকার্ড পাচ্ছে না। এছাড়া নতুন যারা হবে তারা তো পাচ্ছেই না। ফলে নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জনগণকে। বাংলাদেশের সবকিছুই যেন জবাবদিহিতার ঊর্ধে। যে যেমন পাচ্ছে লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, ফ্রান্সের ওবার্থু কোম্পানি ৯ কোটি কার্ডের মধ্যে সরবরাহ করেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ কার্ড। যার মধ্যে ১ কোটি ২৪ লাখ স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে; বাকি কার্ডে এখনো ডাটা এন্ট্রি করা হয়নি। এ ছাড়া সবাইকে স্মার্টকার্ড দেয়ার কথা বলে ২০১৩ সালের পর এখন পর্যন্ত যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধন হয়েছেন তাদের কোন ধরণের পরিচয়পত্র দেয়া হয়নি। ভোগান্তি বেড়েই চলছে নাগরিকদের। এ সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। কমিশন কর্মকর্তরা জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর না কি আবার নতুন করে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে স্মার্টকার্ড দেওয়ার চিন্তা করছে। স্মার্ট কার্ড দিবে ভাল কথা। কিন্তু জনগণের পকেট থেকে যে নতুন করে শত শত কোটি টাকা খসবে সে দায় কে নেবে? আগের প্রকল্পের টাকা ভ্রমন বিলাস ও অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে নানা খাত দেখিয়ে হরিলুট করার পর আগামী দিনে সরকারী অর্থায়নে কত শত কোটি টাকা ব্যয় হবে কে জানে? এ দেশটা কি এভাবেই চলবে......।
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক
masum86cu@yahoo.com

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

৭ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল