চির বসন্তের দেশে, ৩

যেখানে হিমালয়ের শান্ত রুপ

চলতে ফিরতে

কাজল ঘোষ, চীন থেকে ফিরে | ৮ অক্টোবর ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১২
ত্বালি শহর কেমন হবে? কল্পনায় নানা ছবি এঁকেছি। কিন্তু ত্বালি শহরকে ঘিরে রেখেছে হিমালয় পর্বতমালার সবশেষ অংশ সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। ১৯শে সেপ্টেম্বর ইউনান ইউনিভার্সিটি টাউন এলাকা থেকে সকাল ৭টায় যখন বাস যাত্রা শুরু করে গাইড জুলিয়া তখন আমাদের প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জানিয়ে দেয়। কিন্তু অনেক বেশি বিস্ময়ের মধ্যে পড়ি যখন ত্বালি ডাউন টাউনে আমাদের গাড়ি প্রবেশ করে তখন থেকে। গাড়ি যতদূর যাচ্ছে বাঁ-পাশ দিয়ে চলে গেছে পর্বতমালা। গাইড আমাদের গাড়িতে বসেই বলে দিয়েছিল এটি চাংশান মাউনটেন।
অনেকে একে থিয়ানকাং মাউনটেন বলেও নাম দিয়েছেন। হিমালয় যেখানে এসে তার পথচলা থামিয়েছে এটি সেই পর্বতমালা। এর রয়েছে ১৯টি চূড়া। এই বলে তিনি হ্যান্ড মাউথপিস বন্ধ করে দিলেন। আধঘণ্টা গাড়ি চলার পর তিনি আমাদের কাছে জানতে চাইলেন কয়টি চূড়া আমরা অতিক্রম করেছি চাংশানের। অথবা চাংশান পর্বতমালার ১৯টি চূড়া ঠিক ঠিক আছে তো। আমরা তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আসলেই তো গণনা করিনি। প্রকৃতির এক অপরিসীম মুগ্ধতা আমাদের বে-খেয়াল করে রেখেছিল পুরোটা সময়। তখনই ঘোষণা হলো তিনদিন ত্বালি শহরে অবস্থানের একেবারে শেষ বেলায় আমরা ক্যাবল কারে চড়ে চাংশান মাউন্টেনের একটি পিকের কাছাকাছি যেতে পারবো। যেখান থেকে দেখা যাবে জীববৈচিত্র্য আর অনন্য সুন্দর প্রকৃতি। মেঘ যেখানে ছুঁয়ে যাবে হৃদয়।
২১শে সেপ্টেম্বর বেশকিছু স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সাতটায় ব্রেকফাস্ট শেষ করে সবাই ঘুমকাতুরে চোখে ওঠি গাড়িতে। প্রথমেই আমাদের গন্তব্য গঞ. ঈড়হমংঁহ এবড়ঢ়ধৎশ। যেখানে আমরা ক্যাবল কারে চড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উপরে প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করবো। ক্যাবল কারে আসন সংখ্যা ৬। সুতরাং ভাগ্য কাকে কার সঙ্গে দেয়। তার অপেক্ষা না করে সবাই ৬ জন করে ইউনিট হয়ে যাই। প্রথমবারে আমি, টিপু ভাই, জাহাঙ্গীর, মারুফ, শুভ্র আর শান্ত। আর ফেরার সময় সঙ্গী পাই টিপু ভাই, জাহাঙ্গীর, তিথি, জবা আর তামান্নাকে। এর আগে নেপালে ক্যাবল কারে চড়ে মনোকামনায় মায়ের মন্দির দর্শন করেছি। এবার টপভিউ থেকে দেখবো ত্বালি শহর আর মুন লেক। ছুঁয়ে দেবো মেঘের শরীর।
ক্যাবল কার চাংশান মাউন্টেনের পিকে যখন উঠছে তখন মেঘেরা যেন ঘিরে ধরে আছে আমাদের। ক্যাবল কারের পাশ দিয়ে মেঘ উড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আড়াল হচ্ছে। যতদূর চোখ যাচ্ছে শুধু সবুজ আর সবুজ। দীর্ঘকায় গাছের সারি ঢেকে আছে মাইলের পর মাইল। দু’পাশে গভীর বন আর শূন্যে ঝুলে আছি আমরা। গা ছমছম করছিল। ছবি তুলতে গিয়ে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করছিলাম। ক্যাবল কার কেঁপে উঠে কি-না। টপভিউ থেকে দূরে দেখা যাচ্ছে ত্বালি শহর আর মুন লেক। ক্যাবল কার যত উপরে উঠছে ততই ঠাণ্ডা বাড়ছে। শুধু টি-শার্ট পরায় কিছুটা ঠাণ্ডায় পেয়ে বসেছে আমাকে। কেবল মনে হচ্ছিল কোন সুদূরে যেন আমরা হারিয়ে যাচ্ছি। যেখানে পাহাড় আর আকাশে মিতালী। এ যেন পৃথিবী থেকে অনেক দূরে।
চাংশান পর্বতমালা ভিয়েতনাম সীমান্তের পাশে অবস্থিত। ত্বালি শহর ঘিরে এর অবস্থান। বছরের বিভিন্ন সময়ে এই পর্বতমালায় অভিযানে আসে পৃথিবীর নানান প্রান্তের মানুষ। চাংশান পর্বতমালার ১৯টি চূড়া যা ৩৫০০ মিটার উচ্চতায় সমুদ্র থেকে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া মালং ৪,১২২ মিটার উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ৭৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। এই পর্বতমালার শেষেই রয়েছে নীল পানির হ্রদ ইরহাই। চাংশান পর্বতমালা জীববৈচিত্র্য, পশু-পাখি আর খনিজে সমৃদ্ধ। এই পুরো পর্বতমালা ঘিরে প্রায় ৩০০০ ধরনের নানান প্রজাতির গাছ রয়েছে। অসংখ্য ছোট ছোট ঝর্ণার পানি দিয়ে তৈরি হয়েছে বেশকিছু লেক যা চাংশান পর্বতমালার সৌন্দর্য আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বলা হয়ে থাকে ৫টি বিষয়ের আঁধার এই পর্বতমালা। মেঘ, বরফ, চাঁদ, চূড়া আর ঝর্ণা। এই পাঁচের সমাহারে চাংশান পৃথিবীর সেরা সৌন্দর্য্যের একটি। ১৯টি চূড়ায় ঋদ্ধ চাংশান পর্বতমালায় ১৮টি বিখ্যাত ঝর্ণা রয়েছে। যার জলে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট লেক। এই ১৮টি ঝর্ণার জলপ্রবাহ মিলে তৈরি হয়েছে ব্ল্যাক হুইয়ে রিভার। যা পর্বতমালার পশ্চিমপাশে অবস্থিত। ইউনানের দক্ষিণে অবস্থিত এই পর্বতমালায় সর্বোচ্চ চূড়াগুলোর বেশকিছু অংশে সব সময়ই বরফাচ্ছন্ন থাকে। আর নানা ঢংয়ের মেঘেরা সব সময়ই খেলা করে। আর মেঘেদের নানা নামে আখ্যায়িত করে স্থানীয়রা। তেমনি দু’টি নাম জানা যায় তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে। ‘জাদে বেল্ট ক্লাউড’ আর ‘হাজব্যান্ড এক্সপেকটিং ক্লাউড’। বছর জুড়েই বরফাচ্ছন্ন থাকে চাংশান পর্বতের চূড়া। ইরহাই লেকের ২৫০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে চাঁদের আলোর প্রতিবিম্ব যখন চাংশান পর্বতে পড়ে তখন এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে ত্বালিতে। একেই বলা হয় ‘চাংশান বিউটি’। প্রতিবছরই বেশকিছু অভিযাত্রী চাংশানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য কাছ থেকে উপভোগ করতে অভিযাত্রায় বের হন। যেমন ক্যাবল কার দিয়ে আমরা মেঘের ভিড়ে এগিয়ে গিয়েছি চিংপি স্ট্রিম দেখতে। ট্রেইল পথে চলতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু উপরের লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য্য না দেখে ফিরবো এটা মানতে পারছিলাম না। যেতে যেতে উপর থেকে দেখছিলাম সবুজের মিছিল। আমরা যখন চাংশানের চূড়ায় বরফ আর মেঘের সৌন্দর্য্য ছুঁয়ে দেখার আভাস পায় তখন ক্লান্তি কেটে যায়। অনেকে অভিযাত্রীর ভাগ্য ললাটে থাকলে চাঁদের আলোর বর্ণিল খেলায় গা ভাসাতে পারেন। অভিযাত্রীদের চলার পথেই পড়ে ছোট ছোট ঝরনা যার মুগ্ধতা একেবারেই অন্যরকম। বুনোফুল আর ফল আপনাকে স্বাগত জানাবে দীর্ঘ পর্বতমালা। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হচ্ছে আপনি হয়তো হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া প্রদক্ষিণ করলেন। কিন্তু যে হিমালয় পৃথিবীজুড়ে এক প্রশান্তি আর রহস্যময়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার শেষ তো চাংশানেই। তার সৌম্য, শান্ত রূপ তো দেখতে যেতে হবে ত্বালিতে। চাংশান পর্বতমালার অভিযাত্রীদের জন্য ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রেইল এলাকা রয়েছে যেখানে মেঘেদের বসতবাড়ি। তবে অভিযাত্রীদের জন্য পরামর্শ রয়েছে গ্রীষ্ম ও বসন্তে পর্বত অভিযানের পরিকল্পনা করতে। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর চাংশান তা নয়। এতে রয়েছে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য। বিশেষত চাংশন মাউন্টেন তার মার্বেলের জন্য দুনিয়াজুড়ে খ্যাত। এখানকার মার্বেল দিয়ে নানান শিল্পচর্চা চীনজুড়েই হয়ে থাকে। চাংশানের মার্বেলে তৈরি নানান অলঙ্কার ত্বালিতে কিনতে পাওয়া যায়। নানান রঙের মার্বেল পাওয়া যায় চাংশানে। লাল, হলুদ, সবুজ আর মিশ্রিত। চাইনিজ ভাষায় ত্বালি শি বলা হয়ে থাকে এখানকার মার্বেলকে। ত্বালি শি অর্থ হচ্ছে ত্বালি স্টোন। এই পর্বতমালার চারধার ঘিরে রয়েছে বেশকিছু বৌদ্ধ মন্দির। যদিও আমাদের শুধু থ্রি প্যাগোডায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
আধাঘণ্টার ক্যাবল কারে দুটি চূড়ার মধ্যখানে একটি কফি স্টেশনে আমরা নেমে ছুটতে শুরু করি নির্ধারিত ট্রেইল পথ ধরে। বেশকিছু সাবধান বাণী লেখা রয়েছে বোর্ডে। যা অনুসরণ না করায় আমাদের দুই সহযাত্রী আসিফ ও দেবাশীষ পথ হারিয়েছিল। যদিও লিও লাওসি ও গাইড জুলিয়ার খেয়ালি চোখ থাকায় তারা ফিরে আসে। সব মিলে আমাদের ঘণ্টাখানেক অস্থিরতায় কাটে। ফিরে আসি চাংশানের মুগ্ধতায়। হিমহিম ঠাণ্ডা ও ঝিমঝিম, ছমছম শব্দে প্রকৃতি আমাদের বরণ করে নেয়। মেঘেরা লুকিয়ে লুকিয়ে ঘোমটা পরা নতুন বউয়ের মতো আড়াল হয়ে যায় থেকে থেকে। আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও খনিজ সম্পদের সমাহার বলেই একে বলা হচ্ছে জিওলজিক্যাল পার্ক। ত্বালি শহরের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন চাংশান আপনার চোখ জুড়াবেই। অথবা বলা হয়, চাংশান সবকিছু দেখছে বলেই এমন কোনো বিষয় নেই যে, চাংশানকে আপনাকে দেখতেই হবে। প্রথম জিওপার্ক চীনে যাত্রা শুরু করে ২০০১ সালে। তারপর চীনে প্রায় ২০০ জিওপার্ক তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ত্বালির চাংশান জিওপার্ক। এটি ২০০৫ সালে চীনের ন্যাশনাল জিওলজিক্যাল পার্কের স্বীকৃতি পায় এবং ২০১৪ সালে ইউনেস্কো গ্লোবাল জিওপার্কের স্বীকৃতি অর্জন করে। চাংশাং পর্বতমালাকে বলা হয় ‘ঊাবং ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ ভধংঃরমরঁস’।
একজন চিংপিসির অবদান
চাংশান পর্বতমালায় রহস্য লুকিয়ে আছে খাঁজে খাঁজে। একদিনে সব রহস্য উন্মোচিত হয়নি। শত শত বছর ধরে প্রকৃতির এই আদিমতাকে আবিষ্কার করেছেন অভিযাত্রীরা। তাদেরই একজন সু শিয়াক। খ্যাতনামা এই পর্যটক ত্বালি শহরে এসে চাংশান পর্বতমালা অভিযানে যান। সঙ্গী ছিলেন চিংপিসি জর্জ। এটা ১৬৩৯ সালের মার্চের কথা। মিং ডায়নেস্টির রাজত্ব তখন চীনে। এই দুই অভিযাত্রী চাংশান-এর মালং চূড়ার দুর্গম পথে আবিষ্কার করে এক বিশেষ ঝরনাকে। যেখানে চূড়ার বরফ গলে নিচে নেমে আসে। আর এই দৃশ্যটি ঘটেছে একদিকে মালং চূড়া এবং অন্যদিকে শেংবিং চূড়ার ঠিক মধ্যখানে। বলা হয়ে থাকে প্রতি দু’টি পাহাড় চূড়ার মাঝখানেই একই রকম ঝরনা রয়েছে। আর এইসব ঝরনার জলে এক ধরনের পুকুর তৈরি হয়। যাতে স্বচ্ছ ও ঠাণ্ডা পানির একটি সরবরাহ নিশ্চিত হয় সব সময়ের জন্য। ক্যাবল কারে চড়ে নেমে যে চূড়ায় আমরা অনেকটা পথ ট্রেইল করে উঠি তা চিংপি স্ট্রিম। পথ প্রদর্শক ও গাইড চিংপিসির স্মরণেই এ ঝরনার নাম রাখা হয়। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২২০৬ মিটার উপরে।
১৯ চূড়ার ১৮ ঝরনা
চাংশান পর্বতমালার ১৯ চূড়ায় বড় আকারের ১৮টি ঝরনা রয়েছে, এদের রয়েছে নানান নাম। উত্তর থেকে দক্ষিণে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এরা হলো- ইউনং, চাংলং, উথাই, লোটাস, ক্লাউড, হিউয়ান, সানং, লান, সুইরেন, ইয়ংলি, গুয়েনিন, কারই, লংচুয়ান, উঝু, মালং, শেংইং, ফথিং, মায়ের ও সান সেটিং চূড়া। আর ১৮টি ঝরনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সিয়াই, ওয়ানহুয়া, ইয়াংসি, ম্যাংইয়ং, সিনচি, লিংচুয়ান, পাইশি, সুয়ান ঘুয়ান, ইনসিয়ান, মেইক্সি, তাও, মিলে, গ্রিন জেদে, ড্রাগন, চিংপি, মোকান, তিনমিং ও ইয়াংনান ঝরনা।

ছবি: নিউটন চাকমা
কাল পড়ুন: অনন্য স্থাপত্য থ্রি প্যাগোডা

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

৭ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল