ঢাবিতে ডিন নিয়োগে ‘অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের’ অভিযোগ

শিক্ষাঙ্গন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগে ‘অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। অধ্যাপক শফিউল ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে ওই অনুষদে ৯০ দিন আগে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে সরিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে নিয়োগ দেয়। এর পরপরই অভিযোগ উত্থাপন করেন ড. শফিউল। আজ শুক্রবার বিকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এক ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে আরেক ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও প্রচলিত রেওয়াজ পরিপন্থী এবং অধ্যাদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রেওয়াজ অনুযায়ী পরবর্তী ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ডিন দায়িত্ব পালন করেন।
যা ইতোপূর্বে হয়েছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ১৭ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন অনুষদের নির্বাচিত ডিনের অনুপস্থিতিতে অনোধিক ৯০ দিনের জন্য ভিসি ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ দেবেন।’ এই ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নতুন ডিন নির্বাচনের জন্য অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন ভিসি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন নির্বাচনের জন্য ১৫ দিন সময় নিয়ে তারিখ ঘোষণা করতে হয়। ড. শফিউল আলম ভূঁইয়াকে গত ২রা জুলাই ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অধ্যাদেশ অনুযায়ী গতকাল (আজ) তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়েছে। নিয়োগের পর ৬৪ দিনের মধ্যেও নতুন ডিনের জন্য নির্বাচনের আয়োজন করেননি তৎকালীন ভিসি। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর ১৪ কার্যদিবস পার হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে ডিন নির্বাচন না দেয়ার ব্যর্থতা কার জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শফিউল বলেন, আমি কোন ব্যক্তিকে দায়ী করছি না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ভিসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, তিন মাস পূর্ণ হতে আর বেশি দিন নেই। তাই হয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন, অন্যথায় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাকে ডিন হিসেবে কন্টিনিউ করুন। তবে এরপর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে আমাকে সরিয়ে দেয়া হল। কেন এমন করল, আমি তা জানতে চাই। অনুষদের সাবেক কয়েকজন ডিনদের ৯০ দিনের বেশি ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাহলে আমাকে কেন নির্বাচন না দিয়ে সরিয়ে দেয়া হল? তাহলে আমি কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আক্রোশের শিকার? এ সময় অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেক সিনিয়র নেতা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও বিভাগের চেয়ারম্যান পদে আছেন। প্রভোস্টের দায়িত্বে আছেন। যা অধ্যাদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে নতুন ডিন নিয়োগের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম ফায়েজ। তিনি বলেন, পূর্বের ভিসি যাকে নিয়োগ দিয়েছে তাকেই পুনরায় নিয়োগ দিতে হবে এমন কোন বাইন্ডিংস নেই। সিন্ডিকেট তার এখতিয়ার বলে যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই নিয়োগ দিতে পারবে।

[এফএম]

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না