স্মার্টকার্ড প্রকল্পে তালগোল সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে চায় ইসি

প্রথম পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৬
নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় পৌনে আট কোটি স্মার্টকার্ড তৈরির লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষের আগে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. সাইফুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্মার্টকার্ড প্রকল্পে সহায়তা চেয়ে একটি চিঠি ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, সেনাবাহিনী প্রধানের সচিবালয়, সামরিক সচিবের দপ্তরেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে- ইতিমধ্যে ১২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার কার্ড তৈরি (ব্ল্যাঙ্ক কার্ডের মধ্যে নাগরিক তথ্য ইনপুট সম্পন্নকরণ) হয়েছে। এরমধ্যে ১০ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ৭৭ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার কার্ড সম্পন্ন করে দেশব্যাপী বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এই অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ কার্ড সুষ্ঠুভাবে তৈরি ও সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা আইডিইএ প্রকল্পে সংযুক্ত করার জন্য প্রকল্প পরিচালক অনুরোধ করেছেন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাও সম্মতি দিয়েছেন। ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার কার্ড উৎপাদন এবং আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট করে কার্ড পৌঁছানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিসার অথবা জেসিও/ও আর আইডিইএ প্রকল্পে জরুরিভিত্তিতে সংযুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ জন কর্মকর্তা চেয়েছে ইসি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের আগে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছিল। এরপর তারা ২০১১ সালে এসে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্মার্টকার্ড তৈরির প্রকল্প-‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)’ প্রকল্পটি হাতে নেয়। ২০১৫ সালের ১৪ই জানুয়ারি স্মার্টকার্ড সরবরাহকারী ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ওবার্থুর টেকনোলজিসের (ওটি) সঙ্গে ১০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮১৬ কোটি টাকার) চুক্তি করে ইসি। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০শে জুনের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের জন্য স্মার্টকার্ড উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে মাত্র এক কোটি ৯৮ লাখ (১২ দশমিক ২০ শতাংশ) কার্ড পৌঁছাতে পেরেছে। জুন পর্যন্ত তারা ঢাকায় ফাঁকা কার্ড পাঠিয়েছে ছয় কোটি ৬৩ লাখ ছয় হাজারটি। এর মধ্যে পারসোনালাইজেশন হয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ। এখনো ফাঁকা কার্ড আসেনি দুই কোটি ৩৬ লাখ চার হাজার। এ পর্যন্ত ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিল নিয়েছে এ কোম্পানিটি। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার গত ২৬শে জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সোফি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। কাজ ধরে রাখার নানা দেন-দরবারের পরও স্মার্টকার্ড সরবরাহকারী ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ওবার্থু টেকনোলজিসের (ওটি) সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্কের ইতি টেনেছে নির্বাচন কমিশন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ছয়মাস সময় বাড়ানোর আবেদন, ওই আবেদন বিবেচনার জন্য ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর চিঠিও আমলে নেয়নি কমিশন। সম্প্রতি এ প্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। আগামী ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সাড়ে ১০ কোটি স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ছাপা হয়েছে মাত্র ১ কোটি। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দিলেও গত ৬ই সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে ইসিকে। তারপরও গত ৬ই সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক চিঠি দিয়ে ইসিকে জানিয়েছে, আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে না। এজন্য গত মাসে নিজেরাই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে উৎপাদনে যায় ইসি। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। তাই এবার সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি।
গত বছরের ২রা অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরদিন ৩রা অক্টোবর থেকে রাজধানী ঢাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের মাঝে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার বিতরণ কার্যক্রম চলে। রাজধানীর বাইরে গত ১৬ই মার্চ চট্টগ্রাম ও গত ২রা এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীতে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ৫টি বিভাগীয় শহরে বিতরণ শুরু হয়েছে। তারপর জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্ড বিতরণ হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Rubo

২০১৭-০৯-২৭ ০২:১৪:৪৪

সব কিছুতেই যদি সেনাবাহিনীকে জড়াতে হয় তাহলে সিভিল প্রশাসনের প্রয়োজনটা কি ? আমাদের প্রশাসনে প্রতিযোগিতার মাদ্ধমে সেরা ও মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া হয় । কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তারা সীমাহীন বের্থতার পরিচয় দেন । সব কিছুতেই সেনাবাহিনীকে ডাকা ভালে লক্ষন নয় ।

kazi

২০১৭-০৯-২৭ ০১:০১:১৬

এই তালগোল পাকানোতে প্রমানিত হয় আমাদের সরকারী অফিসে অপদার্থ ব্যক্তি কত বেশী । যাদেরকে স্মার্ট কার্ডের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল কত অপদার্থ । এদেরকে চাটাই করা উচিত। এবং নতুন ভাবে যোগ্য ও স্মার্ট বুদ্ধি সম্পন্ন লোক পদায়ন করা দরকার ।

mustafizur

২০১৭-০৯-২৬ ১১:৫০:১০

thank...

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ