ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি নিয়ে নতুন জটিলতা

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১২
 ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ। প্রায় সবকিছূ চূড়ান্ত হওয়ার পরই বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ বহনকারী ক্যাবল বহন করতে অনীহা জানিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সঞ্চার নিগার লিমিটেড (বিএসএনএল)। দীর্ঘদিন আলোচনার পর বিষয়টি যখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে তখনই এ জটিলতা তৈরি হলো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন বিকল্প কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের একটি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (পিজিসিআইএল) এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে বিএসএনএল কেন শেষ মুহূর্তে অনীহা জানিয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি।
ভুটানে বাংলাদেশের ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ রপ্তানির কথা। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ভাণ্ডারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ১৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এ ধরনের দু’টি ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হলো। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবলে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই ক্যাবলের মাধ্যমে প্রথমে ৪৪ দশমিক ৬ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। পরে ক্যাবলটির আপগ্রেড করার পর এখন ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসছে। এর ১২ বছর পর চলতি বছর দ্বিতীয় সাব-মেরিন ক্যাবলে প্রবেশের ঘটনা ঘটলো। নতুন এ ক্যাবল থেকে পাওয়া যাবে ১৫শ’ জিবিপিএস। এদিকে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি নিয়ে নতুন জটিলতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, প্রথমত ভুটানের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোন সীমান্ত নেই। তাই যে কোনো লাইন দিয়ে যাই না কেন তা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর আগে ভারতের কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত বিএসএনএল এর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু তারা ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত লাইন নিয়ে যেতে কত টাকা নেবে তার রেট দিতে পারেনি। পার এমবি কত খরচ হবে তাও বলতে পারেনি। সবমিলিয়ে তারা এ বিষয়ে আমাদের কিছুই দিতে পারেনি। তখন আমরা বাধ্য হয়ে অন্য ভারতীয় কোম্পানির কাছে গিয়েছি। সেটাই হলো পিজিসিআইএল। এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে এগোতে পারবো বলে মনে করছি। মনোয়ার হোসেন জানান, আগস্ট মাসে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিষয়টি নিয়ে ভারত সফর করেন। দিল্লি থেকে পিজিসিআইএল-এর কর্মকর্তারা কলকাতায় আসেন। সেখানেই হাইপ্রোফাইল বৈঠক হয়। কোম্পানিটি বলেছে, তারা ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ পৌঁছে দেবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। আশা করি এক বা দুই মাসের মধ্যে ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এর আগে আমরা ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ১২ থেকে ১৮ ডলারের একটি রেট দিয়েছিলাম। তখন ভুটান কর্তৃপক্ষ খুব খুশি ছিলো। কিন্তু তখন আমরা জানতাম না ভারত আসলে কত রেট নেবে। তিনি বলেন, পিজিসিএল-এর সঙ্গে এখন পর্যন্ত রেট ঠিক হয়নি। তবে ভুটান অনেক টাকা দিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে। কিছুদিন আগে ভুটান ভারত থেকে ৫২ ডলারে (পার মেগাবাইট) ব্যান্ডউইথ কিনেছে। এখন সম্ভবত ৩২ ডলারে নেমে এসেছে। আমরা যে রেট দিয়েছি তার সঙ্গে যদি পার এমবি আরও ৫ ডলার করে যোগ করে তারপরও ভুটান অনেক কম দামে ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে। তবে ভারতের রেট কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। রুট অনুযায়ী আমরা ১২ থেকে ১৮ ডলার ঠিক করেছি। এখন চূড়ান্ত হয়েছে আখাউড়া-আগরতলা ও ত্রিপুরা রুটটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে রুট নির্ধারণ নিয়েও কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। সম্প্রতি ভুটানের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেছে।  ট্রানজিট হিসেবে ভারত থাকায় দুই দেশের পক্ষ থেকে দেশটির সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা  করেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য সম্ভাব্য তিনটি রুট নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হচ্ছে: ঢাকা-কুমিল্লা-ব্রাক্ষণবাড়িয়া-সিলেট-তামাবিল-শিলং-গোহাটি-ভুটান, ঢাকা-ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট-মেঘালয়-ভুটান ও তৃতীয় রুট হচ্ছে-ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী-আসাম-ভুটান। রুট র্নিধারণ নিয়ে তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ-আলোচনা হয়। রুটগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের পছন্দ সিলেট-তামাবিলের রুটটি। অন্যদিকে ভুটানের পছন্দ ছিলো ময়মনসিংহ দিয়ে যাওয়া রুটটি। দূরত্ব বিবেচনায় এটা ভুটানের সবচেয়ে কাছের রুট। এতে ব্যয় অনেক সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করে ভুটান। অন্যদিকে এ রুটের বিরোধিতা করে ভারত। যুক্তি হিসেবে দেশটি জানিয়েছে, অন্য দু’টি রুট পুরনো। এতে অবকাঠামোগত অনেক কিছু রয়েছে। কিন্তু ময়মনসিংহ রুটটি একেবারে নতুন। তাছাড়া রাস্তাঘাট ভালো না। প্রত্যন্ত ও কিছুটা দুর্গম অঞ্চল। এটাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে ভারতকে নতুন করে অবকাঠামোসহ অনেক কিছু নির্মাণ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে আখাউড়া-আগরতলা ও ত্রিপুরা রুটটি। এদিকে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি শুরু করে গত বছর থেকে। এক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ধরা হয়েছে ১০ ডলার। এ হিসাবে আয় হচ্ছে ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আরও ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিতে পারে ভারত। তখন এ খাত থেকে বছরে বাংলাদেশের আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের এ ব্যান্ডউইথ ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচল রাজ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য আপাতত ৩ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। ব্যান্ডউইথের আন্তর্জাতিক দাম উঠানামা করে। এজন্য প্রতি বছর দামের বিষয়টি পুনঃর্নিধারণ হবে।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বৃটিশ নারী এমপিদের যৌন নির্যাতনের কাহিনী

প্রাণ-আরএফএল’র মহিলা শ্রমিককে গণধর্ষণ

মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

সাবেকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসা, খদ্দের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে স্থানীয় রাজনীতিক

এম কে আনোয়ারের দাফন আগামীকাল

‘আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ক্যাবিনেটে সুপারিশ করা হয়েছে’

জঙ্গি অভিযান শেষ, আটক হয়নি কেউই

খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাচ্ছেন রোববার

রোনালদোই সেরাা

সেরা একাদশে যারা

রোহিঙ্গা ইস্যু- ফের  আসছেন চীনের বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি করা ভারতের জন্য কি কূটনীতির পরীক্ষা?