হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন

ভারত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারে না

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এক টুইটে বলেছেন- তার দেশ রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে ফেরত পাঠিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে না। কারণ, ভারত ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত রিফিউজি কনভেনশন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। থামুন। ভারত যদি কনভেনশন এগেইন্সট টর্চারে (নির্যাতনের বিরোধী চুক্তি) স্বাক্ষর না করতো তাহলে কি ভারতের কর্তৃপক্ষরা যেকোনো কয়েদির ওপর ইচ্ছামতো নির্যাতন ও অসদাচরণ চালাতো? অবশ্যই না। ভারত এটা ভালোভাবেই জানে যে, আন্তর্জাতিক আইনের কিছু নীতিমালা প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে ধরা হয়। এরকম নির্যাতন চালানো আইনবহির্ভূত।
কারণ বিশ্বজুড়ে দেশগুলো বহুদিন ধরে আইনের অংশ হিসেবে এমন চর্চা করা থেকে বিরত থেকেছে। একটি দেশ ওই বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কি-না সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। আর কারও ওপর নির্যাতন বা নিপীড়ন চালানো যদি অন্যায় হয়ে থাকে- তাহলে কাউকে জোর করে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানোটাও অগ্রহণযোগ্য, যেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৫১ রিফিউজি কনভেনশনকে ‘নন-রিফাউলমেন্ট নীতি’ সমপর্কিত আইনের একটি সূত্র হিসেবে সঠিকভাবে উদ্ধৃত করেছেন। উল্লেখ্য,
নন-রিফাউলমেন্ট হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি যেটি অনুসারে, শরণার্থী গ্রহণকারী কোনো দেশ থেকে শরণার্থীদের এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত- যেদেশে গেলে তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হবে ও তারা নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হবে। তিনি ১৯৮৪ সালে ‘কনভেনশন এগেইন্সট টর্চার’ও উদ্ধৃত করতে পারতেন। এই চুক্তি অনুসারে, কাউকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ যে দেশে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই দুটি ছাড়াও অন্যান্য আরো আঞ্চলিক চুক্তি ও ঘোষণা রয়েছে যেগুলো এই নীতির সমর্থন করে- যেমন, ১৯৬৯ সালে করা ‘ওএইউ রিফিউজি কনভেনশন’, ১৯৬৯ সালের ‘আমেরিকান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস’ ও ১৯৬৬ সালে করা ‘ব্যাংকক প্রিন্সিপালস অন স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট অফ রিফিউজিস’। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের কিছু নিয়ম রয়েছে। যেগুলো এতই গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো সরকারই সেগুলো লঙ্ঘন করতে পারবে না। এমনকি কোনো চুক্তি সেসব নিয়ম ভঙ্গ করার অনুমতি দিলেও কোনো সরকার সেসব আইন লঙ্ঘন করতে পারবে না। দাসত্ব ও নির্যাতন সমপর্কিত নিয়মগুলোও এমন সুদৃঢ় নিয়মের (পিরেম্পটরি রুল) অন্তর্ভুক্ত। ভারতসহ ১০১টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের নির্বাহী কমিটি ১৯৮২ সালেই এটা নিশ্চিত করে যে, নন-রিফাউলমেন্ট সমপর্কিত নীতি দ্রুতগতিতে আন্তর্জাতিক আইনের একটি সুদৃঢ় নিয়মে রূপ নিচ্ছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা ভারতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশ আছে এমন রোহিঙ্গাদের প্রবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি এমনটিই হয় তাহলে তাদের উচিত এর জন্য প্রমাণ দেখানো ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা।  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্টে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালালেও, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পেছনে দায়ী হচ্ছে সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ। আপনার প্রতিবেশী তার জ্বলন্ত ঘর ছেড়ে পালালে, তাকে অনুপ্রবেশকারী ভেবে সে ঘরে পুনরায় ঠেলে দেয়ার অধিকার আপনার নেই। রোহিঙ্গারা আক্ষরিকভাবেই তাদের জ্বলন্ত বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। তাদেরকে সেখানে ঠেলে ফেরত না পাঠানোর দায়িত্ববোধ, একটি কাগজে করা স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৈরি হয় না, যতটা বৈশ্বিক মানবতাবোধের মৌলিক নীতি থেকে তৈরি হয়।
(মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী বিষয়ক প্রোগ্রামের পরিচালক বিল ফ্রেলিক।)  

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা হিমঘরে পাঠালেন আরো এক বিচারক

পেপ্যালের জুম সেবার উদ্বোধন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কাল

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

‘এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই’

সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সেলোনার জয়

ম্যানইউ’র জয়ের ধারা অব্যাহত

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ সীমানায় অনীহা

আরো একটি পরাজয়

আরো অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় বিপর্যয়

চীন-রাশিয়া পাশে আছে