সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

বাংলারজমিন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, রবিবার
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের (সিএইচটিডিবি) চাকমা উপজাতীয় এক নারী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী। প্রথম পর্যায়ে লোকলজ্জা আর ভয়ে নিত্যদিন ধর্ষিত হয়েও কিছুতেই প্রতিরোধ করে নিজেকে রক্ষা করতে পারছিলেন না ছোট চাকরিটি চলে যাওয়ার ভয়ে। বেকার স্বামী, ছেলে-মেয়ের আহার ও পড়ালেখার খরচের দিকে তাকিয়ে নীরবেই সব সহ্য করে কেঁদে যাচ্ছিলেন এই অসহায় নারী। কিন্তু নিত্যদিনকার ধর্ষণে অতিষ্ঠ হয়ে নীরবতা ভেঙে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ধর্ষিতা। তবে ধর্ষিতার এই অভিযোগ পেয়েও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর এ সুযোগে ধর্ষকের বিচার চাওয়া ধর্ষিতার চরিত্রে কলঙ্কের দাগ লেপন করে ধোয়া তুলসীপাতা বনে যায় উক্ত ধর্ষক প্রকৌশলী।
গতকাল সকালে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ধর্ষিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগেরই সত্যতা জানালেন। ধর্ষিতা সিএইচটিডিবির ভাইস চেয়ারম্যানকে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ছোট্ট একটি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিন অফিসে পৌঁছার আগেই দায়িত্বপালনে ছুটে যেতে হয় তাকে। তিনতলা ভবনে অফিসের প্রতিটি কক্ষ ও ফ্লোর ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেন এ সময়ে। আর এই সুযোগে কাজের বাহানায় অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক) মিহির কুমার চাকমা। এ সময় হাতে পাঁচশত টাকা গুঁজে দিয়ে কড়াভাষায় জানিয়ে দেন, কাউকে বললে চাকরিচ্যুত করা হবে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলে। এরপর থেকে প্রতি দু’একদিন পর পরই ধর্ষণ করা হয় তাকে। দীর্ঘ দু’বছর ধরেই চলতে থাকে ধর্ষণ। ধর্ষিতা পরে একপর্যায়ে সাহায্য চান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অফিস তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা অপর উপজাতি নারী উস্যাং মা চৌধুরীর নিকট। এ সময় উস্যাং মা চৌধুরী অভয় দিয়ে বলেন, লিখিত অভিযোগ দাও চেয়ারম্যানকে। তবেই বিহিত ব্যবস্থা একটা হবে। অভিযোগ দেয়ার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার পাশাপাশি নেয়া হয়নি কোনো  প্রতিকার। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএইচটিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক) মিহির কুমার চাকমা বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। যা জানার বোর্ড থেকে জানতে পারেন। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলতে তার অফিসে আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন সাংবাদিককে। এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে।  

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনটি রক্ষা করলো দুই শিশু

ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

বৃদ্ধা মিলু গোমেজ হত্যায় কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের আবেদন

শোকের উপর শোক, অসুস্থ হয়ে পড়লেন নওফেল

বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ

‘নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

ওয়ালটনে প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল