চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৭
বছর ঘুরে আবারো এসেছে শারদ উৎসব। শারদীয় দুর্গাপূজা। গত ১৯শে সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে পা রেখেছেন। মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজা, দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ২৭শে সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ২৮শে সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী, ২৯শে সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ৩০শে সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গা হলেন শক্তির আরেক রূপ।
মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপের প্রকাশ পায়। দেবী দুর্গা ‘দুর্গতিনাশিনী’। তিনি সকল দুঃখ-দুর্দশার বিনাশকারিণী। ইতিহাস বলে, পুরাকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গলোকচ্যুত হন। তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর’র শরীর থেকে আগুনের  মতো তেজরশ্মি একত্রিত হয়ে বিশাল এক আলোকপুঞ্জে পরিণত হয়। ঐ  আলোকপুঞ্জ থেকে আবির্ভূত হন এক দেবী। এই দেবীই হলেন দুর্গা। তার আগমনে প্রতিষ্ঠা পায় শুভশক্তি। দিব্য অস্ত্রে সজ্জিত আদ্যাশক্তি মহামায়া হিসেবে অসুর কুলকে একে একে  বিনাশ করে স্বর্গ তথা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে শান্তি স্থাপন করেন ত্রি-নয়না দেবী দুর্গা। শাস্ত্রমতে, হিমালয়ের কৈলাশ থেকে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিবছর দেবী দুর্গা আসেন সমতল ভূমির এই বাংলায়। সঙ্গে নিয়ে আসেন গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে। প্রতিবছরের শরৎকালে দেবী দুর্গার এই আগমন হয় নিজ ভূমিতে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেবে এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবারের চাইতে এবারের পূজা বেড়েছে ৬৮২টি। জেলাওয়ারী সবচেয়ে বেশি পূজা হচ্ছে চট্টগ্রামে। বন্দরনগরীতে এবার ১ হাজার ৭৬৭টি মণ্ডপে সার্বজনীন ও ব্যক্তিগতভাবে পূজা হচ্ছে। রাজধানীতে এবার পূজা হচ্ছে ২৩১টি মণ্ডপে যা গেলবারের চেয়ে দুটি বেশি। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মন্দির, রমনা মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাংলাবাজার, কলাবাগান, মিরপুর, বনানী, ডেমরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পুরোদমে চলছে পূজা অনুষ্ঠানের শেষ প্রস্তুতি। চারদিকে এখন আনন্দ আয়োজন সম্পন্ন করার তাড়া। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা ও প্যান্ডেল নির্মাণ, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে। প্রতিমা নির্মাণে মৃৎশিল্পীরা পার করছেন ব্যস্ত সময়। প্রতিমায় দিচ্ছেন তুলির শেষ আঁচড়। পূজা উপলক্ষে চলছে কেনাকাটা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বরাবরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গাপূজায় উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী। সরজমিন ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে পূজা আয়োজনে আয়োজকদের তুমুল ব্যস্ততা। প্রতিমা ও প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আয়োজকরা জানান, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। বরাবরের মতো এবারেও ঢাকেশ্বরীতে মানুষের ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। সারা দেশে পূজা অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য এখানে থাকবে মনিটরিং সেল। থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল রায় মানবজমিনকে বলেন, এবার ঢাকা মহানগরে ২৩১টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। গতবারের চাইতে মহানগরে এবার দুটি পূজা বেড়েছে। তিনি বলেন, পূজার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিরাপত্তার বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে তাতে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।         
রাজধানীর পুরান ঢাকায় বরাবরই দুর্গাপূজার আয়োজনে থাকে ভিন্নতা। এবারেও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাবাজার, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজারসহ পুরান ঢাকার বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পূজা উদযাপনের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের এই একটি সময় তারা তুমুল ব্যস্ততায় কাটান। মাসখানেক ধরেই তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শাঁখারীবাজারে প্রতিমা নির্মাণ করছেন নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দের সুশীল নন্দী। তিনি বলেন, প্রতিমায় এখন রঙের কাজ চলছে। আয়োজকদের তাড়া আছে। দু’একদিনের মধ্যে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ শেষ করবো। আর ষষ্ঠীর দিন ব্রাহ্মণরা প্রতিমার চক্ষুদান করবেন। এরপরই দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে পূজা অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। এবারের পূজায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা নির্মাণে প্রতিমা শিল্পীরা ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন বলে জানান সুশীল নন্দী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে এবারও মহাসমারোহে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে বনানী-গুলশান পূজা কমিটি। বনানী খেলার মাঠে ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।   
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু মানবজমিনকে বলেন, জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এবারের পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, পূজার আনন্দের মধ্যেও রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে আমরা একটু বিচলিত। ৪ লাখের বেশি মানুষ আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা যদি না খেয়ে থাকেন, তাহলে এটি আমাদের জন্য আনন্দদায়ক হবে না। রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু সরকারের নয়, সকল জনগণের। এ জন্য আমাদের অনেক পূজারি রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠাচ্ছেন। দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জয়ন্ত সেন দীপু বলেন, ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। পূজায় নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। যতটুকু নিরাপত্তা দেয়ার দরকার, সরকার তাই দিচ্ছে।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা হিমঘরে পাঠালেন আরো এক বিচারক

পেপ্যালের জুম সেবার উদ্বোধন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কাল

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

‘এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই’

সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সেলোনার জয়

ম্যানইউ’র জয়ের ধারা অব্যাহত

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ সীমানায় অনীহা

আরো একটি পরাজয়

আরো অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় বিপর্যয়

চীন-রাশিয়া পাশে আছে