সীমিত আকারে প্রবাসীদের ভোটার করার উদ্যোগ

শেষের পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৭
সীমিত আকারে প্রবাসীদের ভোটার করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি দেশে প্রবাসীদের ভোটার করা হবে। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার ও মালয়েশিয়া। পরবর্তী সময়ে সব প্রবাসীকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে প্রবাসীদের ভোটার করার ওপর প্রস্তাবনার খসড়া তৈরি করে বর্তমানে তার ওপর পর্যালোচনা চলছে। সব ধরনের প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে এনআইডি উইং কমিশনে উপস্থাপন করবে।
তাদের দেয়া প্রস্তাব আরেক দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর ইসি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির ওপরে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের ভোটার করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। কমিশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে করা টিম প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশি অধ্যুষিত দেশগুলোতে গিয়ে তাদের ভোটার তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। দেশে ফিরে সংগৃহীত তথ্য সংশ্লিষ্ট ভোটারের নিজ উপজেলায় পাঠিয়ে কমিশনের থানা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর এ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হবে। তথ্য সব ঠিক থাকলে প্রবাসী সব নাগরিককে দেয়া হবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্টকার্ড। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের ভোটার করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি, কীভাবে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তৈরি একটি প্রস্তাবনা পর্যালোচনা চলছে, যে সব প্রবাসী বাংলাদেশে আসবে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়া সহজ করে যত দ্রুত সম্ভব ভোটার করে পরিচয়পত্র সরবরাহ করা যায়। পাশাপাশি তাদের ভোটার করার ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবে এভিডেন্সগুলোর শর্ত শিথিল করে পরিচয়পত্র দেয়া যায় সেটিও ওই প্রস্তাবের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসি সূত্রে জানা যায়, ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে সব নাগরিকের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় কোনো ভিন্নতা নেই। কিন্তু কমিশনের ডাটাবেজ ব্যবহার করে প্রবাসীদের ভোটার করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব কমিশনে আসে। পরবর্তীতে প্রবাসীদের প্রবাসে থাকাবস্থায় কোন পদ্ধতির আলোকে ভোটার করা যায়, সেই উদ্যোগ শুরু হয়। এনআইডি উইং একটি খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনায়, প্রবাসীদের প্রবাসেই ভোটার করা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিসের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ভোটার করা, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দূতাবাসগুলোতে পাঠানো, এর জন্য বছরের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা, টিমের সদস্য সর্বোচ্চ ১০ করা, প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ সংগ্রহ করা, বিদেশে সংগৃহীত তথ্য দেশে এনে যার যার উপজেলায় পাঠানো, সেগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং তথ্য সঠিক থাকলে এনআইডির সার্ভারে আপলোড করা ইত্যাদি। তবে, কার্ডটি মুদ্রণের আগে পারসোলাইজেশন করিয়ে স্মার্টকার্ড হিসেবে মুদ্রণ করা হবে। এ হিসেবে সব প্রবাসী ভোটারকে দেয়া হবে স্মার্টকার্ড। প্রবাসীদের মুদ্রিত কার্ডগুলো সংশ্লিষ্টদের দূতাবাসে কমিশন পাঠাবে এবং সেখান থেকেই প্রবাসী ভোটাররা তাদের নিজ নিজ পরিচয়পত্রটি সংগ্রহ করে নেবেন। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এনআইডির কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় সব প্রবাসীকে ভোটার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। তাদের প্রবাসেই ভোটার করার শুরুতে একটি পাইলট প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত সব দেশকে প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসীদের ভোটার করার উদ্যোগটি বিদায়ী কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময়ে শুরু হয়। গত বছরের ৫ই অক্টোবর সাবেক এনআইডির মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় কার্যপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হয়। ইসি সচিবালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি নোটে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্ড দেয়ার জন্য অনুরোধ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি দূতাবাসের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে অনুরোধ করেছেন। এ জন্য নোটে বিদ্যমান ভোটার নিবন্ধন আইন সংশোধনসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে, এনআইডির মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে বায়োমেট্রিক সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিভিন্ন দেশে ছোট ছোট দল পাঠিয়ে হালনাগাদের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পরে এই নোটে সম্মতি দিয়ে এনআইডি শাখাকে দ্রুত কার্যপত্র দেয়ার নির্দেশ দেন সাবেক ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তী সচিব ও এনআইডির ডিজি পরিবর্তন হওয়ার পর এ উদ্যোগটি থেমে যায়। আগের প্রস্তাবের আলোকে বর্তমান এনআইডি উদ্যোগ নিয়ে প্রবাসীদের প্রবাসে থাকাবস্থায় ভোটার করার প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে, যা পর্যালোচনার পর শিগগিরই কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কোটির ওপর প্রবাসী অবস্থান করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি’র সংলাপে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে জোরালো সুপারিশ করেছেন।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা হিমঘরে পাঠালেন আরো এক বিচারক

পেপ্যালের জুম সেবার উদ্বোধন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কাল

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

‘এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই’

সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সেলোনার জয়

ম্যানইউ’র জয়ের ধারা অব্যাহত

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ সীমানায় অনীহা

আরো একটি পরাজয়

আরো অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় বিপর্যয়

চীন-রাশিয়া পাশে আছে