ইসি’র সংলাপে যেসব মত আসছে

প্রথম পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৬
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাঝ পথে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৮টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করেছে ইসি। সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি’র কাছে নানা রকম সুপারিশ রেখেছে দলগুলো। ইসি’র কাছে সবচেয়ে বেশি সুপারিশ এসেছে নির্বাচনকালীন সরকার ও সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জানিয়েছে ইসি। আর নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি ইসি’র এখতিয়ারে নেই বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।
ইসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংলাপ শেষে যেসব বিষয় ইসি’র এখতিয়ারে নেই সেগুলো প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। ইসি’র পক্ষে ওইসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর এসব দাবি সরকারের কাছে লিখিত আকারে পাঠানো হবে। সরকার যদি দাবিগুলোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব না দেখায় তবে ইসি কী করবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম মানবজমিনকে বলেন, আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত হচ্ছে যেগুলো রাজনৈতিক বিষয় এবং নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে নেই সেগুলো আমরা সরকারের কাছে পাঠাবো। এটা আমরা দিতে চাচ্ছি এই কারণে যেন একটা ভালো ফলাফল আসে। পাঠানোর পরে কি হবে এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো সরকারের এখতিয়ারে পড়ে। সে বিষয়গুলোতে আমরা অপেক্ষা করব কী হচ্ছে। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন কি হবে। নির্বাচনী আইন সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, নির্বাচনী আইন সংস্কারে সংলাপ থেকে আসা সুপারিশগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হবে।  অক্টোবরে আমাদের সংলাপ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংলাপে যে বক্তব্যগুলো উঠে আসছে সেগুলোকে গুরুত্ব দেব আমরা।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৮টি দলের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। সংলাপে ১৩টি দল বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে না। তারা নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে অস্থায়ী বা সহায়ক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে বিভিন্ন রকম ফর্মুলা এসেছে দলগুলোর পক্ষ থেকে। দলগুলো ইসিকে জানিয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আর একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচন হলে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা কঠিন। প্রধানমন্ত্রীকে ঐচ্ছিক ছুটিতে পাঠিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাহী প্রধান করে অপরাপর কমিশনার এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও সরকারি কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)। এসময় মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রস্তাবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক বিচারপতি এবং দেশের বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে সৎ গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় ব্যক্তি দ্বারা সরকার গঠিত হতে পারে। গণফ্রন্টের পক্ষ থেকে করা সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংশোধন করে হলেও (তত্ত্বাবধায়ক নয়, অরাজনৈতিক সরকার নয়) একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। স্বাধীনতার পরে যে সব নিবন্ধিত দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল (বিতর্কিত নির্বাচন যেমন ’৮৮, ’৯৬ এবং ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ব্যতীত) তাদের  সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সমঝোতার মাধ্যমে সে সরকারের প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। সংলাপে ১৪টি দল নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুপারিশ করেছে। এসব দলের মধ্যে অধিকাংশই সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানিয়েছে। দশের অধিক দল নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসি’র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুপারিশ করেছে। সংলাপে অংশ নেয়া অধিকাংশ দল প্রবাসীদের ভোটার বানানো ও তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া দলগুলোর করা সুপারিশের মধ্যে সীমানা পুনঃনির্ধারণ, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ‘না’ ভোট চালু, কয়েক ধাপে জাতীয় নির্বাচন, সংসদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, ইভিএম বাতিল, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, সরকারিভাবে প্রার্থীদের প্রচারণা, ধর্ম ও স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল উল্লেখযোগ্য।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের অংশ হিসেবে মূল অংশীজন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। গত ২৪শে আগস্ট এ সংলাপ শুরু হয়। এর আগে সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। আগামী ১৫ই অক্টোবর বিএনপি এবং ১৮ই অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন আয়োজনকারী এ সংস্থাটি। ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abdul halim

২০১৭-০৯-২২ ১২:১৩:১০

In the time of election need army & caretaker governments .

আপনার মতামত দিন

দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনটি রক্ষা করলো দুই শিশু

ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

বৃদ্ধা মিলু গোমেজ হত্যায় কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের আবেদন

শোকের উপর শোক, অসুস্থ হয়ে পড়লেন নওফেল

বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ

‘নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

ওয়ালটনে প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল