ফের মৃত্যুঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক

সিলেটের শারপিন টিলায় বোমা মেশিনের তাণ্ডব

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৭
কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত শারপিন টিলায় ফের থাবা মেলেছে পাথরখেকো সিন্ডিকেট। শ্রমিক ‘মৃত্যুর মিছিল’ ঠেকাতে আলোচিত এ টিলায় পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় শারপিন টিলায় অবাধে শুরু হয়েছে পাথর উত্তোলন। চলছে  বোমা মেশিনের তাণ্ডব। গত বৃহস্পতিবার ওই টিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্সের অভিযান চালালেও তারা হাতেগোনা কয়েকটি মেশিন জ্বালিয়ে চলে আসে। বেশিরভাগ মেশিনেই হাত দেয়নি অভিযান পরিচালনাকারী টাক্সফোর্সের সদস্যরা।
মাটির প্রায় ৪০ থেকে ৮০ ফুট গভীর থেকে পাইপের সাহায্যে এ যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এতে ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর পরিবর্তন হয়ে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বোমা মেশিন নিষিদ্ধ করে। শক্তিশালী পাওয়ার পাম্প যন্ত্রের সঙ্গে বড় বড় পাইপ সংযুক্ত করা যন্ত্রই ‘বোমা মেশিন’ নামে পরিচিত। এখনো সক্রিয় কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরপিন টিলার বোমা মেশিন। বৃহস্পতিবার যখন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই টিলায় অভিযান চালান তখনও সেটি লক্ষ্য করা গেছে। বোমা মেশিন রেখে পালিয়ে গিয়েছিল সিন্ডিকেটের সদস্যরা। আর বেশি সংখ্যক বোমা মেশিন থাকার কারণে তিন ঘণ্টার অভিযানে টাস্কফোর্সের সদস্যরা কমসংখ্যক বোমা মেশিন পুড়াতে সম্ভব হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে- যারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বোমা মেশিন চালাচ্ছে তাদের মেশিনেই অভিযান চালানো হয়েছে। এ কারণে অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন থাকলেও অনেক ছিল অক্ষত। স্থানীয়রা জানান- শাহ আরপিন টিলায় পার্শ্ববর্তী জালিয়ারপাড় এলাকার নাসির, বাবু নগরের ইছনাত, নোয়াগাওয়ের মনাফ, শারপিন বাজারের কালা মিয়া, পাড়ুয়ার বাবুল মিয়া, মামুন খান, উত্তর রাজনগরের মুন্না, পাড়ুয়া গ্রামের শফিক, পাড়ুয়া লামাপাড়া গ্রামের ফজল, নোয়াগাঁও গ্রামের আল আমীন, পাড়ুয়া গ্রামের আব্দুর রহমান, নারাইনপুর গ্রামের আইয়ূব আলী, জালিয়ার পাড়ের আব্দুর রহিম, চিকাডহরের তৈয়ব আলী, আবুল আহমদ, পুরান জালিয়ারপাড় গ্রামের নাসির, শারপিন টিলার মানিক মিয়া, কাঠালবাড়ির উসমান আলী, রতনপুরের বাদল ও পুরান জালিয়ার পাড়ের সামাদের নেতৃত্বে শারপিন টিলায় অবাধে পাথর উত্তোলন চলছে। শ্রমিক নিয়োগ করে পাথর উত্তোলনের ফলে আবারো পুরো শারপিন টিলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আবারো ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা- এমন আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন- দিনের বেলা প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকার কারণে কিছুটা কাজ থাকে। তবে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় লুটপাট। এদিকে- পাথর লুটপাট বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোম্পানীগঞ্জের পাথর লুটপাট নিয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা  পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছে না। তবে লোকবল কম হওয়ার কারণে প্রতিদিনই অভিযান চালাতে পুলিশ দেয়া হচ্ছে না বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। এদিকে শুধু শারপিন টিলাই নয়, পাথর লুটের মহোৎসব চলছে প্রায় সব এলাকায়। এর মধ্যে দয়ারবাজার, কালাইরাগ, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে লুটপাটকারীরা বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে চলেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- পাথর লুটপাট বন্ধ করতে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে পাথর থেকে রয়্যালিটিও আদায় করছে। প্রশাসন দ্বৈত নীতি গ্রহণ করার কারণে পাথর লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না কোম্পানীগঞ্জে। নদী ও সড়ক পথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রয়্যালিটি আদায় করা হয়। তবে- কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয় এমপির নির্দেশে ম্যানুয়েলিভাবে পাথর উত্তোলনের বৈধতা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার কোথাও ম্যানুয়েলি পাথর উত্তোলন করা হয় না। বোমা মেশিন দিয়ে উত্তোলিত পাথর থেকে প্রশাসন রয়্যালিটি আদায় করে কৌশলে বোমা মেশিন চক্রের সদস্যদের উৎসাহিত করছে বলে দাবি করেন জনপ্রতিনিধিরা।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বৃটিশ নারী এমপিদের যৌন নির্যাতনের কাহিনী

প্রাণ-আরএফএল’র মহিলা শ্রমিককে গণধর্ষণ

মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

সাবেকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসা, খদ্দের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে স্থানীয় রাজনীতিক

এম কে আনোয়ারের দাফন আগামীকাল

‘আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ক্যাবিনেটে সুপারিশ করা হয়েছে’

জঙ্গি অভিযান শেষ, আটক হয়নি কেউই

খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাচ্ছেন রোববার

রোনালদোই সেরাা

সেরা একাদশে যারা

রোহিঙ্গা ইস্যু- ফের  আসছেন চীনের বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি করা ভারতের জন্য কি কূটনীতির পরীক্ষা?