বিয়ানীবাজারে বেশির ভাগ স্কুলে খেলার মাঠ নেই

বাংলারজমিন

মিলাদ জয়নুল, বিরানীবাজার থেকে | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার
বিয়ানীবাজারের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। যেসব বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করত, সেখানেও বর্তমানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বাসা-বাড়ির মতো বিদ্যালয়ে এসেও অনেকটা বন্দি সময় কাটাচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শুরুর আগে অথবা মধ্যবিরতিতে বাইরে বের হলেও সময় কাটাচ্ছে আড্ডায়, ফেসবুকে। উপজেলার মাটিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র সুফিয়ান আহমদ জানান ‘খেলার জায়গা নেই, কোথায় খেলবো। আগে যেখানে খেলতাম, সেখানে এখন ভবন তৈরি করা হয়েছে।’ খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সামি (৯) জানায়, ‘স্কুলে যে জায়গা আছে, তাতে দৌড়ানোও যায় না।’ পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র শিমুল জানায়, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে তাদের খেলার কোনো সুযোগ নেই।
কারণ এখানে পশুর হাট, ওয়াজ মাহফিল, সংগীতানুষ্ঠান, বড় টুর্নামেন্ট সারা বছর লেগে থাকে।’ মাথিউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুহুল আমীন জানান ‘ঠিক ক্লাস শুরুর আগে ছাত্ররা আসে। তারা বিরতির সময়ও বাইরে বের হওয়ার আগ্রহ দেখায় না। স্কুল ছুটি হলে বাড়ি ফিরে।’ তিনি বলেন ‘তার স্কুলের শ্রেণিকক্ষের পাশ দিয়ে প্রধান সড়ক বয়ে গেছে। এখানে খেলার মাঠ কোথায়?’ কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাহির উদ্দিন জানান ‘বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বাগান তৈরি করা হয়েছে। এখানে ক্ষুদে শিশুদের খেলার সুযোগ নেই।’ বিয়ানীবাজার উপজেলার কলেজ, মাদরাসা, হাইস্কুল কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কোনো খেলার মাঠ নেই। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় খেলার মাঠ হিসেবে যা ব্যবহৃত হচ্ছে তা স্কুলের সামান্য খালি জায়গা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবার এসব খালি জায়গাও নেই। কারণ সেখানে নতুন নতুন ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। গত কয়েকদিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা এবং কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্কুলেই শিশুদের খেলার মাঠ নেই। নামকরা প্রায় সব স্কুলেই নেই খেলার মাঠ। শিশুর বিকাশের দায়িত্ব নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেও পড়ানো ছাড়া আর কোনো দিকেই নজর রাখছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে, খেলার মাঠ ছাড়া কোনো স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। উপজেলার সরকারি কলেজ, পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়, বৈরাগীবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়ানীবাজার সিনিয়র আলিম মাদরাসা, ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো প্রাথমিক, মাধ্যমিক কিংবা কলেজে খেলার মাঠ নেই। হাফিজিয়া এবং কওমি মাদরাসার কোনোটিতেই নেই শিক্ষার্থীদের দম ফেলার জায়গা। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশ অফিসের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আরিফা শারমীন জানালেন, ‘শিশুদের খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে একবার সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল স্কুলগুলোকে। কিন্তু শহর এবং মফস্বল কোনো পর্যায়ের স্কুলই সে নির্দেশ মানেনি।’ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর স্কুলে খেলার মাঠ রয়েছে আর যেসব স্কুলে খেলার মাঠ নেই এদের মধ্যে যাদের স্কুলে খেলার মাঠ নেই সেসব শিশু তুলনামূলকভাবে নির্জীব, বিষণ্নতায় ভোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাঠ তো শুধু খেলার স্থান নয় এর সংস্পর্শে থেকে শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে। তারা দেশের পরিবেশকে বুঝতে শেখে, উপলব্ধি করতে শেখে। যারা সে সুযোগ পায় না তারা অনেকটা এক্যুরিয়ামের মাছের মতো বেড়ে ওঠে। সুস্থ-স্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের হয় না। বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় আচার্য জানান ‘শিশুরা স্কুলে গিয়ে শুধু লেখাপড়াই শেখে না সেখানে তাদের মানসিক বৃদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক বৃদ্ধিও ঘটে। বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে মিলেমিশে খেলা ও চলার পাঠও নেয় সে খেলার মাঠে।’ বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন ‘বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা খুবই জরুরি। বিষয়টি সত্যিই ভেবে দেখা দরকার।’


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নাই

২০১৭-০৯-২২ ১১:১০:৫০

বিয়ানীবাজার ; বিরানীবাজার হইল কেমনে?

আপনার মতামত দিন

বৃটিশ নারী এমপিদের যৌন নির্যাতনের কাহিনী

প্রাণ-আরএফএল’র মহিলা শ্রমিককে গণধর্ষণ

মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

সাবেকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসা, খদ্দের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে স্থানীয় রাজনীতিক

এম কে আনোয়ারের দাফন আগামীকাল

‘আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ক্যাবিনেটে সুপারিশ করা হয়েছে’

জঙ্গি অভিযান শেষ, আটক হয়নি কেউই

খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাচ্ছেন রোববার

রোনালদোই সেরাা

সেরা একাদশে যারা

রোহিঙ্গা ইস্যু- ফের  আসছেন চীনের বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি করা ভারতের জন্য কি কূটনীতির পরীক্ষা?