টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে নাগরিকত্ব দিতেই হবে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৩
এখন অবশ্যই মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির উচিত শরণার্থীদের ফেরত নেয়া এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়া। এক্ষেত্রে মিয়ানমারকে রাজি করাতে নয়া দিল্লির উচিত ন্যাপিড’র সঙ্গে তার সম্পর্ক ব্যবহার করা ও আন্তর্জাতিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে মিয়ানমারকে রাজি করানো। আর শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতেই হবে মিয়ানমারকে। অং সান সুচি রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর দেয়া প্রথম বক্তব্যে বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছেন। এটা এক রকম কপটতা। ভারত সরকার প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার নিন্দা না জানালেও এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলেছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
‘রোহিঙ্গা এক্সোডাজ: সুচি মাস্ট ফ্যাসিলিটেট রিটার্ন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ ফর দ্য পারসিকিউটেড কমিউটিনি’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। এতে মিয়ানমারের শাসকচক্রকে বর্ণবাদী যুগের মতো শাসক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, অবশেষে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগের বিষয়ে নীরবতা ভাঙলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচি। তিনি বলেছেন, শরণার্থী সঙ্কটের মূলে কি কারণ তা অনাধাবনের চেষ্টা করবে তার সরকার। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করবে। গত মাসে রাখাইনে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নৃশংস দমনপীড়ন শুরু হওয়ার পর প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। এক্ষেত্রে সুচি বাস্তবতা উপেক্ষা করে কপটতার পরিচয় দিয়েছেন। সম্ভবত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যে চাপ তার ওপর আসছে তাতে তিনি বাধ্য হয়ে ওই বক্তব্য রেখেছেন। এখন তার উচিত হবে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়া এবং তার পদের সদ্ব্যবহার করে নির্যাতিত এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যাতে আর সহিংসতা না হয় তা নিশ্চিত করা।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করলেও তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে না। দেশের ভিতরে তাদের চলাফেরায় দেয়া হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। স্বাস্থ্য সুবিধা, শিক্ষা ও নাগরিক অন্য সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। এটা দৃশ্যত একটি বর্ণবাদী শাসকচক্র। তারা সংখ্যালঘুদের উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষ নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের অধীনে। মিয়ানমারের গণতন্ত্রের প্রত্যুষে, এটা এখন সময়ে পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গাদের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গির ইতি ঘটানো।
যদি এমন হয়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন, এমন হয় যে, তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাহলে তাদের কারণেই দশকের পর দশক এই সম্প্রদায়টি নৃশংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের দলে দলে দেশ ত্যাগ ও রাখাইনে টালমাটাল পরিস্থিতি বন্ধ করতে পারে শুধু ন্যাপিড। সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। যারা পালিয়ে গেছেন জীবন নিয়ে তাদেরকে দেশে ফিরতে দেয়া উচিত। উপরন্ত, সুচি যেহেতু রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার উচিত জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে রাখাইন রাজ্য সফরের অনুমতি দেয়া।
শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে মিয়ানমারকে। তারা (মিয়ানমার) এমনটা আশা করতে পারে না যে, বাংলাদেশ বা ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করে নেবে। রোহিঙ্গাদের সেবা মতো সম্পদের ঘাতটি আছে জনবহুল এ দুটি দেশেই। এর প্রেক্ষিতে ভারতকে শরণার্থী ইস্যুতে একটি সুস্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিতে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ হিসেবে সম্পদের ঘাটতিকে একমাত্র কারণ হিসেবে প্রতিপাদন করতে পারে না ভারত। এ ছাড়া অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব বিষয়ক একটি পন্থা তৈরির জন্য পার্লামেন্টে আনা হয়েছে অ্যামেন্ডমেন্ট বিল। তাই শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে দিল্লির উচিত ন্যাপিড’র সঙ্গে তার সম্পর্ক ব্যবহার করা ও বিশ্বের অন্য শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বৃটিশ নারী এমপিদের যৌন নির্যাতনের কাহিনী

প্রাণ-আরএফএল’র মহিলা শ্রমিককে গণধর্ষণ

মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং

সাবেকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার

আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসা, খদ্দের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে স্থানীয় রাজনীতিক

এম কে আনোয়ারের দাফন আগামীকাল

‘আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে ক্যাবিনেটে সুপারিশ করা হয়েছে’

জঙ্গি অভিযান শেষ, আটক হয়নি কেউই

খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাচ্ছেন রোববার

রোনালদোই সেরাা

সেরা একাদশে যারা

রোহিঙ্গা ইস্যু- ফের  আসছেন চীনের বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি করা ভারতের জন্য কি কূটনীতির পরীক্ষা?