‘এখন মৌলিক গান করার চেষ্টা কম’

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৮
ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন ফোক ও লালন গানের জনপ্রিয় শিল্পী শাহনাজ বেলী। গান নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ সময়। এতটা সময় পরও এই মাধ্যমে সমান ব্যস্ত তিনি। নতুন গানের বাইরে সারা বছরই স্টেজ শো নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন দেশ বিদেশে। তবে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এখন স্টেজ শো খানিক কম আয়োজন হচ্ছে। তাই নতুন গানে মনোযোগী হয়েছেন এ শিল্পী।
সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে চলতি সময়টা? উত্তরে শাহনাজ বেলী বলেন, অনেক ভালো কাটছে। গানের মাঝেই সময় কেটে যায়। স্টেজ শো এর কি অবস্থা? তিনি বলেন, স্টেজ নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকি। তবে এই সময়ে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কম হচ্ছে শো। আর লন্ডন ও আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা থাকায় আর যাইনি। নতুন গানের কি খবর? শাহনাজ বেলী আতœবিশ্বাসের সুরে বলেন, কবির বকুল ভাইয়ের কথা ও ইমন সাহার সুরে একটি গান করছি। ফোক ঘরানার এ গানটির কাজ এখন চলছে। খুব শিগগিরই কন্ঠ দেবো এতে। এছাড়া আরও কিছু গানের পরিকল্পনা করছি। রাধারমনের  গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার কথা ছিলো। সেটা কতদূর? শাহনাজ বেলী বলেন, সেটার কাজতো শেষ করে ফেলেছি। ১০টি গানের রেকর্ডিং হয়েছে। মাস্টার আমার হাতে। তবে অ্যালবাম কোন সময়টাতে বের করবো সেটা চিন্তা করছি। কারণ একটি অ্যালবামের পেছনে অনেক আর্থিক ব্যাপার থাকে। তাই সময় সুযোগ মতোই অ্যালবামটি প্রকাশ করতে চাই। এখন যারা কাজ করছে তারা বেশিরভাগই নিজেদের অর্থায়নেই অ্যালবাম করছে। আসলে শিল্পীদের এখন সম্মান ও সম্মানীর মূল জায়গা হলো স্টেজ শো। সব শিল্পী কিন্তু আবার সেটা করতে পারছেন না। যারা পরিচিত মুখ ষ্টেজে তাদের কদরটাই বেশি। তাছাড়া ফোক গানে ডলি আপা, মমতাজ আপা ও আমার পরে তেমন একটা কেউ বের হয়ে আসেননি। অনেকের মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারছেন না। আসলে গানে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হলেতো কষ্ট করতে হবে। সেটা কি রকম? শাহনাজ বেলী বলেন, দেখুন আমার বাবা ছিলেন একজন বাউল। তার কাছেই আমার হাতেখড়ি। এরপর অনেকের কাছে আমি শিখেছি। আমাদের বাসায় বাউলদের আড্ডা হতো। গান হতো। আমি সেখান থেকেও শিখেছি। আমি খুব উপভোগ করতাম। গান আমার আতœার সঙ্গে মিশে আছে। আমি যেহেতু বাউলের কন্যা তাই বিভিন্ন ধরনের গানই গাইতে পারি। তবে লালনের গানের শিল্পী হিসেবেই আমি বেশি পরিচিত। আমি লালনের গান বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক কষ্ট করে সংগ্রহও করেছি। কিন্তু এখন অনেকেই দেখছি সব ধরনের গান গাইছেন। আধুনিক, ফোক, লালন, রক এ সব ধরনের গানই অনেক শিল্পী গেয়ে থাকেন। যার ফলে স্পেশালিটি তৈরি হচ্ছে না। একটি জায়গা ধরে কাজ করলে হয়তো এই শূণ্যতাটা মিটবে। তাহলে এখান থেকে বেরিয়ে আসার আর কি উপায় আছে বলে মনে করেন? শাহনাজ বেলী বলেন, এখনকার শিল্পীরা রেডিমেড গান পাচ্ছে। কথা-সুরের গভীরতা অনুভব করছে না। আমি কুষ্টিয়া গিয়ে বিভিন্নভাবে লালনের অপ্রকাশিত গান সংগ্রহ করেছি। এখনও করছি। সেগুলো শুনেছি, গেয়েছি। ভালোবাসা থেকে সেগুলো পরবর্তীতে স্টেজে,  অ্যালবামে গেয়েছি। শুধু লালন না, আমি বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে বাউলদের কাছ থেকে গান সংগ্রহ করি, গাই। তাদের গানগুলো নিজের কন্ঠে ধারণ করি। এখনকার ছেলে মেয়েরা বেশিরভাগই নামই উল্লেখ করে না মূল শিল্পী, সুরকার ও গীতিকবিদের। এটা খুব দুঃখজনক ব্যাপার। শাহনাজ বেলী আরও বলেন, এখন গানে নিজস্বতা তৈরির চেষ্টা খুব কম দেখি। মৌলিক গান করার চেষ্টা কম। অন্যের গান গাওয়ার প্রবণতা বেশি এখনকার শিল্পীদের মধ্যে। তবে সবার কথা বলছি না। অন্যের গান গেয়ে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। শক্ত অবস্থানও তৈরি সম্ভব না। তাই আমি বলবো অবশ্যই মৌলিক গান তৈরি করার কথা। পাশাপাশি নিজের একটি আলাদা স্টাইল তৈরি করতে হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা হিমঘরে পাঠালেন আরো এক বিচারক

পেপ্যালের জুম সেবার উদ্বোধন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কাল

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

‘এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই’

সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সেলোনার জয়

ম্যানইউ’র জয়ের ধারা অব্যাহত

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ সীমানায় অনীহা

আরো একটি পরাজয়

আরো অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় বিপর্যয়

চীন-রাশিয়া পাশে আছে