বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছেন সুচি

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৯
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে অপ্রিয় সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন অং সান সুচি ও তার সরকার। অব্যাহতভাবে ‘মিথ্যা বলে চলেছেন’। গতকাল রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির দেয়া বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অ্যামনেস্টির একজন পরিচালক জেমস গোমেজ সুচির বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অং সান সুচি তার বক্তব্যের মাধ্যমে আবারো দেখিয়েছেন যে, তিনি ও তার সরকার রাখাইন রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়ে বালিতে তাদের মাথা গুঁজে রেখেছেন (বেরিং দেয়ার হেডস ইন দ্য স্যান্ড বা অপ্রিয় সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন)।’
মি. গোমেজ অ্যামনেস্টির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান। অ্যামনেস্টি ছাড়াও সুচির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের উপ- পরিচালক ফিল রবার্টসন সুচির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, ‘৫ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে যদি রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বক্তব্য সত্য হয়, তাহলে গত দু’সপ্তাহে আমরা সেখানে যেসব গ্রাম পুড়ে যেতে দেখেছি, সেগুলোতে কারা আগুন দিচ্ছে?’
ওদিকে, ইউনিসেফের একজন কর্মকর্তা পল এডওয়ার্ডস সুচি’র বক্তব্যে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কেউই আসলে জানি না রাখাইনে কি ঘটছে। কারণ আমরা সেখানে যেতে পারছি না।’
উল্লেখ্য, মাত্র তিন সপ্তাহে রাখাইন রাজ্য থেকে চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এতোদিন চুপ থাকার পর গতকালই প্রথম এ ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন সুচি। এতোদিন নীরব থাকায় তীব্র সমালোচনার শিকার হন তিনি। আর গতকালের বক্তব্যের পর নতুন করে সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের এই নেতা। টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে সুচি বলেন, রাখাইন থেকে মুসলমানরা কেন পালাচ্ছে সেটা তিনি জানেন না। তার সরকারকে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
সুচি’র ভাষণের পরপরই জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা মিয়ানমারে পূর্ণাঙ্গ ও বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সেখানে কি ঘটছে তা স্বচক্ষে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান।
সুচির দাবি প্রত্যাখ্যান
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমরা। ২৫শে আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর মঙ্গলবার প্রথম মুখ খুলেছেন অং সান সুচি। তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। বলেছেন, রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অনেক বেশি সদস্য এখনো নিরাপদে আছেন। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা মুসলিম রাখাইন ছেড়ে যায় নি। বেশির ভাগ গ্রামে এখনো সহিংসতার ছোঁয়া লাগে নি। বক্তব্য দেয়ার সময় রাজধানীতে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিদেশি কূটনীতিকদের। যেসব গ্রাম এখনো নিরাপদে আছে তা দেখতে ওইসব কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু সুচির এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী আবদুল হাফিজ। তিনি বলেছেন, এক সময় তিনি সেনাবাহিনীর চেয়ে সুচির ওপর বেশি আস্থা রাখতেন। এখন তিনি সুচিকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যায়িত করছেন। বলছেন, আগেকার যেকোনো সময়ের চেয়ে রোহিঙ্গারা বেশি নির্যাতিত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা তাদের নিজেদের গ্রামে আগুন দেয়ার অভিযোগ যখন করা হয় তা শুনে ক্ষুব্ধ আবদুল হাফিজ। তিনি বলেন, যদি তা-ই হয় তাহলে তাদের পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়া গ্রামগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের অধিকতর সুযোগ বা অনুমতি দেয়া উচিত সুচির। তিনি আরো বলেন, যদি প্রমাণিত হয় যে, রোহিঙ্গারা ভুল, মিথ্যা বলছে তাহলে বিশ্ব যদি আমাদের সবাইকে সমুদ্রে ফেলে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় আমরা তা মাথা পেতে নেবো।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনটি রক্ষা করলো দুই শিশু

ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

বৃদ্ধা মিলু গোমেজ হত্যায় কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের আবেদন

শোকের উপর শোক, অসুস্থ হয়ে পড়লেন নওফেল

বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ

‘নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

ওয়ালটনে প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল