কিছু দেখলে, কিছু বলুন (ভিডিও)

অনলাইন

হাসনাইন মেহেদী | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার, ৭:২৮ | সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৯
অং সান সুচি’কে এক হাত নিলেন মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক কমেডি সেন্ট্রালের উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াহ। হাস্যরস আর রূঢ় ঠাট্টায় তুলে ধরলেন বাস্তবতা। বললেন, শান্তিতে নোবেল জয়ী ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তির প্রতি অন্তত নিউ ইয়র্কের সাবওয়েতে প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সেটা হলো- কিছু দেখলে, কিছু বলুন। ইফ ইউ সি সামথিং, সে সামথিং। ‘ডেইলি শো উইথ ট্রেভর নোয়াহ’ অনুষ্ঠানটি কমেডিনির্ভর হলেও, নোবেল দেয়ার পদ্ধতি পাল্টানোর পক্ষে সঙ্গত যুক্তি তুলে ধরেন উপস্থাপক।
বলেন, আমরা কাকে নোবেল দিচ্ছি আর কখন দিচ্ছি সেটা ভাবা উচিত।  
গেল সপ্তাহে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটির ওই পর্বে ট্রেভর বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার সব থেকে মর্যাদার পুরস্কার। তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটা ভালো একজন মানুষ হওয়ার জন্য অস্কার পাওয়া। ভালো মানুষের অভিনয় করার জন্য নয়। সম্প্রতি নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে মিয়ানমার। আর দেশটির নেতা অং সান সুচি। অনেকে বলছেন, তাকে নোবেল পুরস্কার ফেরত দিতে বাধ্য করা উচিত।’ এ পর্যায়ে রাখাইন পরিস্থিতি তুলে ধরা এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। ট্রেভর বলেন, ‘মিয়ানমারের আর্মি পরিকল্পিতভাবে  দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে টার্গেট করছে। এই বিভীষিকা নজিরবিহীন। আরো অবিশ্বাস্য হচ্ছে এর নেপথ্যে কারা সেটা।’ উপস্থাপক বলেন, ‘আমি জানতামও না বৌদ্ধরা সহিংস হতে পারে। আমি যা জানতাম এটা তার সম্পূর্ণ উল্টো। আর একইরকম মর্মাহত করার মতো বিষয় হলো শান্তিতে নোবেলজয়ী একজন ক্ষমতার শিখরে থেকে এই সহিংসতা দেখছেন। আর তা উড়িয়ে দিচ্ছেন।’
এরপর বিবিসিতে দেয়া সুচির একটা সাক্ষাৎকার দেখানো হয়। সেখানে সুচিকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আপনার কি এমন উদ্বেগ কখনো এসেছে যে, আপনাকে বিশ্ব মনে রাখবে মানবাধিকারের এমন একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যিনি কিনা জাতিগত নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এর জবাবে সুচি বলেন, ‘না, আমার মনে হয় না কোনো জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে। আমার মনে হয় যা হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করতে জাতিগত নিধনযজ্ঞ এক্সপ্রেশনটা অনেক বেশি শক্ত।’
এ পর্যায়ে স্পষ্টত বিরক্ত উপস্থাপক ট্রেভর রূঢ় ঠাট্টা করে বলেন, বিষয়টা যেন জাতিগত নিধন বলার জন্য যথেষ্ট মানুষ হত্যা হয়নি। এটাকে হালকা পাতলা জাতিগত সাফাই মনে করুন-এটাই কি বলতে চাইছেন।
মিয়ানমারের শাসন ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ না থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন- অনেকে বলছেন, সুচির এখানে কিছু করার নেই। কিন্তু এই ধরনের নৈতিক মানদণ্ডসম্পন্ন একজন নেতার জন্য অন্তত নিউ ইয়র্কের সাবওয়েতে প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত যে- কিছু দেখলে, সেটা বলুন (ইফ ইউ সি সামথিং, সে সামথিং)। সেটাই নিয়ম হওয়া উচিত। হ্যাঁ কিছু দেখলে কিছু বলুন। আর এটাও বলবো, যখন আপনি কিছু বলার চেষ্টা করবেন তখন দয়া করে চেষ্টা করবেন ডনাল্ড ট্রাম্প না হওয়ার।  
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু সমাধান করতে পারবো না। আমি মিয়ানমার সমস্যাও সমাধান করতে পারবো না। তবে, আমি এটা জানি যে, কে নোবেল পাচ্ছেন আর কখন পাচ্ছেন সেই পদ্ধতিতে আমাদের পরিবর্তন আনা উচিত।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abdul Hakim

২০১৭-০৯-২০ ০৩:২৫:২৯

People around the world will be clear about what is actually happenning at Arakan in Myanmar and it will be able to the world's peoples' support to the Rohinga Muslim Refugees.

Citizen

২০১৭-০৯-১৯ ১০:৫৫:২৫

Good. But what benefit to Myanmar Muslims minority people.

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা হিমঘরে পাঠালেন আরো এক বিচারক

পেপ্যালের জুম সেবার উদ্বোধন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কাল

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

‘এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই’

সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সেলোনার জয়

ম্যানইউ’র জয়ের ধারা অব্যাহত

ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ সীমানায় অনীহা

আরো একটি পরাজয়

আরো অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় বিপর্যয়

চীন-রাশিয়া পাশে আছে