উত্তর-দক্ষিণে রকমফের অনেক

চলতে ফিরতে

কাজল ঘোষ, কুনমিং (চীন) থেকে | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৪
 চীনারা খুবই সময় মেনে চলে। লেটকামারদের ঘৃণা করে। বাঙালির নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে এখানে মানতে নারাজ শি মিন বি। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। তার স্পষ্ট কথা, নো লেট। ইফ ইউ লেট, ইউ উইল মিস।
কুনমিং পৌঁছানোর ক্লান্তি না কাটতেই সকাল সাতটায় ব্রেকফাস্ট কল। নয়টায় মিটিং। সাড়ে বারোটায় লাঞ্চ। সাতটা মানে যদি আমাদের সাতটা হতো তবু বুঝতাম। কিন্তু বাংলাদেশের সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা তারা এগিয়ে। এখানকার সকাল সাতটা মানে বাংলাদেশের ভোর পাঁচটা। ঠিক সময়ে না পৌঁছলে নাস্তা মিলবে না। সুতরাং মোবাইলের এলার্মকে ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব দিয়ে প্রস্তুতির সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়া। সকাল ঠিক নয়টায় গাড়ি প্রস্তুত হোটেল গেটে। ইউনান ইউনিভার্সিটির এক ঝাঁক তরুণী আমাদের দায়িত্ব নিলো। গাইড রিনডা ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। মজার সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয়-পর্ব সেরে নিয়ে গেলেন ফরেন ল্যাংগুয়েজ স্কুলের লেকচার হলে। সেখানে পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশ-চীনের পতাকা। দেখে বুকটা ভরে গেল। প্রথম দিনের কার্যসূচি নিয়ে কথা বললেন তংকু শুন। মনে করিয়ে দিলেন শৃঙ্খলা আর সময়ের কথা। চাইনিজ ভালো বুঝি না বলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারপ্রিটার তা ইংরেজিতে বলতে লাগলেন। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিতে দেখানো হলো দুটি প্রামাণ্যচিত্র। সবই চীনা ভাষায় নির্মিত। নব্বই বছর বয়স এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এটি একটি কানেক্টিভ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল প্রতিষ্ঠান। অনেকটা আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। তবে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে এটি পঞ্চাশটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। আর চীনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশকিছু এখানে একসঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশ্ব সেরা অবস্থানে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশাল দেশ চীন। নানান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। মিএডি আর শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইনিজ শিক্ষক আকাশ জানালেন চমকপ্রদ তথ্য। সঙ্গে থাকা দুজনের একজনের উচ্চতা লম্বা, আরেকজনের কিছুটা ছোট। এটা পুরো চীনের মানুষের মধ্যেই রয়েছে। এখানে উত্তরের লোকেরা বেশি লম্বা আর দক্ষিণের লোকেরা খর্বাকৃতি। তাদের ভাষাগত পরিবর্তনও আছে। চীনারা সাধারণত তাদের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে শব্দের উচ্চারণ ঘটায়। যেমন, ‘পা’ মানে পাঁচ। ‘পা’-এর উচ্চারণ হবে লম্বা টোনে ‘পা...আ...আ’। কিন্তু যদি আমি লম্বা টোনে না বলি তাহলে তা হয়ে যাবে ‘পাপা’ অর্থাৎ বাবা। একইভাবে ‘শি’ মানে দশ বা টেন। কিন্তু যদি বলতে গিয়ে কেউ ‘শিও’ বলে তাহলে এর অর্থ হবে ‘ইয়েস বস’। মার্কেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটায় কি বলতে হবে তাও শিখিয়ে দিলেন মিনডি। ‘নি হাউ’- শুভেচ্ছা। ‘চাইচিয়েন’-বিদায়। ‘শিয়ে শিয়ে’-ধন্যবাদ। ‘তো শাও চিয়ে’- দাম কত? আর ‘তা শুয়ে’ মানে বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বলতে হবে ‘দাকা তা শুয়ে’ মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একইভাবে ‘ইউনান তা শুয়ে’ মানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সোনাজয়ী শুটার হায়দার আলী আর নেই

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মুক্তামনি

খাল থেকে উদ্ধার হলো হৃদয়ের লাশ

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানকে কঠিন পর্যায়ে নিয়ে গেছে সরকার: খসরু

সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজন পরিবর্তন: দুদু

চোখের চিকিৎসা করাতে লন্ডনে গেলেন প্রেসিডেন্ট

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না

টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

বৌদ্ধ ভিক্ষু সেজে কয়েক শত কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক

৫০ বছরের মধ্যে জাপানে কানাডার প্রথম সাবমেরিন

ছিচকে চোর থেকে মাদক সম্রাট!

বোতলে ভরা চিঠি সমুদ্র ফিরিয়ে দিল ২৯ বছর পর!

কার সমালোচনা করলেন বুশ, ওবামা!

জুমের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেনা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা

অস্ট্রেলিয়ার গহীন মরুতে ১৮শতাব্দীর বাংলা পুঁথি

হারভে উইন্সটেন যেভাবে হোটেলকক্ষে অভিনেত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন