আঘাত ও প্রাথমিক চিকিৎসা

শরীর ও মন

| ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৬
নানা ধরনের যান্ত্রিক তাপমাত্রাগত ও রাসায়নিক হেতু এবং বিদ্যুৎ দ্বারা অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গে সৃষ্ট ক্ষতকেই আঘাত বলা হয়। বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বের নিরিখে পৃথক পৃথক যৌগিক আঘাতগুলো পরস্পরকে প্রকোপিত করে ও রোগীর অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় (বন্যা, ভূমিকম্প, ঘুর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস ইত্যাদি) কিংবা বিরাট কোন দুর্ঘটনা বা ঘটনা(আগুন, বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা, ভিড়সংশ্লিষ্ট ঘটনা ইত্যাদি) আহতদের সাহায্যের জন্য প্রাথমিক যে সমস্ত চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে সেগুলো হলো-
আহত অংশ উন্মুক্ত: একটি ক্ষতের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য আঘাতের জায়গাটিতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। প্রথমে অক্ষত হাত ও পা থেকে পোশাক সরিয়ে শেষে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আহত অংশটি উন্মুক্ত করা হয়।
পট্টি বাঁধা: যখন আঘাত মারাত্মক বিশেষত, অস্থিভঙ্গ সংশ্লিষ্ট এবং রক্তপাত বন্ধ ও প্রত্যঙ্গ অনড় করা প্রয়োজন, তখন পোশাক সেলাই বরাবর কেটে বা ছিড়ে ফেলা উচিত। বুটগুলি তলির পেছনের সেলাই বরাবর কেটে ফেলা দরকার। কখনো কখনো পট্টি বাঁধার জন্য পোশাকে যুতসই আকারে একটি ছিদ্র(বা টুকরা) করাই যথেষ্ট।
সতর্কতা: রোগীকে বহন বা স্থানান্তরে সর্বক্ষেত্রে আনাড়ি নাড়াচড়া, অস্বস্থিকর অবস্থান, ঝুঁকি ও হঠাৎ উঠা-নামায় যথাসম্ভব কম ব্যথা দেয়ার ও কম বাড়তি ক্ষতি ঘটানোর চেষ্টা করা উচিত।
সরিয়ে নেয়া: মারাত্মক আহত ব্যক্তিদের, বিশেষত অস্থিভঙ্গ ও বড় আকারের ক্ষত থাকলে, পায়ের গুল, পাছা ও পিঠে ধরে তিনজন লোকের সাহায্যে তাদের তোলা বা সরানোই সর্বোত্তম ব্যবস্থা শরীরের আলাদা অংশগুলো যেন বেঁকে বা ঝুলে না যায় সেদিকে নজর  রেখে তারা একসঙ্গে ও সতর্কভাবে কাজ করবে।
আঘাত ততটা মারাত্মক না হলে কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ এক বা দু’জনন লোক ও আহতকে বসিয়ে নিতে হবে। স্ট্রেচার, কাঁধে, হাতের উপর, একটি খুঁটি বা লাঠির সাহায্যে, কম্বলের উপর, জোড়া দেয়া স্কী ইত্যাদির সঙ্গে বসিয়ে নেয়া চলে। স্ট্রেচার না পাওয়া গেলে একটি কোট খুলে ফেলে সেটার সাহায্যে লাঠি ঢুকিয়ে বিকল্প স্ট্রেচার বানানো যায়। এভাবে ভাজ করা কম্বল, ব্যাগ বা ফিতাও ব্যবহৃত হতে পারে।
সতর্কতার সঙ্গে নামানো: আহতের অবস্থার প্রতি নজর রাখার সুবিধার জন্য মাথাটা সামনে রেখে বসিয়ে নেয়া উচিত। তাকে পাহাড়ের উপরে দিকে তোলার জন্য তা সুবিধাজনক। পাহাড় থেকে নিচে অথবা সিঁড়ি দিয়ে  নামার সময় স্ট্রেচার সমতলে রাখা এবং তা দুজন লোকের সাহায্যে একইসঙ্গে তোলা ও নামানো প্রয়োজন।
হাসপাতালে প্রেরণ: মারাত্মক আহত ব্যক্তিদের বহন ও স্থানান্তরের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত স্ট্রেচারই সর্বোত্তম। এদের বিশেষত লম্বা হাড় ভাঙ্গলে কিংবা গভীর ক্ষত থাকলে আরেকটি স্ট্রেচারে সরানো একাধারে উদ্বেগজনক ও বিপদজনক। সেজন্য একটি স্ট্রেচারে করেই হাসপাতালে বা অন্যত্র নেয়া বাঞ্ছনীয়। আহতকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোরও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
একাধিক আহত থাকলে বিশেষভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভ্যানে দুই বা তিন স্তরে স্ট্রেচার রাখা চলে। এক্ষেত্রে উপরে থেকে ক্রমান্বয়ে নিচে এবং মারাত্মক আহতদের নিচে রাাখাই নিয়ম। ঠান্ডা আবহাওয়ায় আহতদেরকে, বিশেষত যারা অভিঘাতপ্রাপ্ত এবং অধিক রক্তক্ষরণে দুর্বল, গরম রাখা প্রয়োজন।
[লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম রচিত ‘জনস্বাস্থ্য ও সমাজকর্ম’ শীর্ষক বই থেকে ]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Humayun

২০১৭-০৯-১৫ ২০:৫৩:১৭

Nice understand and think past future plan sytem

আপনার মতামত দিন

‘এখন ভালো কথা ও সুরের চেয়ে মিউজিকটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়’

ডেমরায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আটজন

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত’

আরো একটি লজ্জা

শাসন যেখানে বাছবিচারহীন

উচ্চ ব্যয়ের ঢাকায় নিম্নমানের জীবন

সৌদি আরবে অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন

জলাবদ্ধতার কী দেখেছেন কলকাতা-মুম্বই যান

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতার পায়ে আওয়ামী লীগ নেতার গুলি

গ্রাহক টানতে পারছে না ‘দোয়েল’

সিলেটে যে ছবিটি এখন ভাইরাল

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করলেন সিইসি

লড়াই হবে ত্রিমুখী

পাহাড়ে হঠাৎ বেপরোয়া সশস্ত্র সংগঠনগুলো

পাঁচ বিভাগীয় শহরে বিটিভি’র স্টেশন হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক প্রধান শিক্ষকের খোলা চিঠি