কোম্পানির ফাঁদে ওসমানী মেডিকেলের ১৮০ কর্মচারী

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
ফাঁদে পড়েছেন ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের ১৮০ কর্মচারী। কোম্পানি কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মচারীরা চলছে ‘উপরি আয়ে’। রোগী, স্বজনদের জিম্মি করে চালাতে হচ্ছে তাদের সংসার। এতে করে ওসমানীর স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের পদে পদে বাড়ছে ভোগান্তি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যে লোকবল রয়েছে সেই লোকবল দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না। লোকবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কোম্পানির মাধ্যমে টেন্ডারে অস্থায়ী লোক নিয়োগ করে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।
কোম্পানির কর্মকর্তারা বেতনভুক্ত লোক দিয়ে কাজ পরিচালনা করে হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত বিল আদায় করে থাকে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’ নামের এক কোম্পানিকে এক বছরের মেয়াদে কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। কোম্পানির মালিক ও পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সিকিউরিটি গার্ড পরিচ্ছন্নকর্মীসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ১৮০ জন পুরুষ ও মহিলা নিয়োগ দেন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর থেকে গত ১১ মাস যাবত কোনো কর্মচারীকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি। কোম্পানির শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’-এর পরিচালক জাহাঙ্গীর বেতন-ভাতা না দিয়েই হাসপাতালে নিয়োগকৃত তার কর্মচারীদের কাছ থেকে উল্টো সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক বখরা আদায় করে থাকেন। আর কর্মচারীরা ওই টাকা হাসপাতালের রোগী, এটেন্ডেন্ট ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা ও বখশিশ হিসেবে আদায় করে থাকে। তারা জানান, কোম্পানির মালিক পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ১০দিন পর পর মেডিসিন ওয়ার্ডে তার নিয়োজিত কর্মচারীদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা, লেবার ওয়ার্ডের জনপ্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা, গাইনিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫শ’ টাকা, প্রতি প্রবেশ গেটে দিনে ৩ শিফটে সিকিউরিটিপ্রতি ২শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকেন। বছর শেষে প্রত্যেক কর্মচারীকে ২২শ’ ৮০ টাকা করে দিতে হয় ওই কোম্পানির কর্ণধার জাহাঙ্গীরকে। জাহাঙ্গীর তার সহযোগী জসিম ও শামসুজ্জামানের মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করে থাকেন।
প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রতিটি বিভাগে ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’- নিয়োজিত কর্মচারী টাকা বা বখশিশ ছাড়া কোনো কাজই করে না। রোগী বহনকারী একটি ট্রেচার বা হুইল চেয়ার নিতে হলেও যমুনা কর্মচারীদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে দিতে হয়। নতুবা তারা ট্রেচার ও চেয়ার লুকিয়ে রেখে দেয়। লিফটে চড়ে উপরে উঠতে হলে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০টাকা করে দিতে হয়। হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশ গেটে নিয়োজিত কর্মচারীদের দর্শনার্থী ও এটেন্ডেন্টদের জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিয়ে উঠতে ও প্রবেশ করতে হয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এটেন্ডেন্টদের নিয়মিত পাসকার্ড দেয়া হয় না। ফলে রোগীর নির্ধারিত এটেন্ডেন্টকেও দিতে হয় প্রবেশ টাকা। এভাবে কর্মচারীরা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে চলেছেন। এ বছরের জুন মাসে যমুনা স্টার সেভ গার্ড কোম্পানির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর গত ৩ মাস যাবত অবৈধভাবে হাসপাতালের কাজ ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওসমানী মেডিকেলে এডি এডমিন আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- তিনি নতুন করে যোগদান করেছেন। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে তিনি এখনো অবগত নন। অভিযোগের ব্যাপারে যমুনা স্টার সেভ গার্ড কোম্পানির ডাইরেক্টর জাহাঙ্গীর আলম জানান, সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তার ১৮০ জন কর্মচারী কর্মরত আছে। এদের ১৩০ জনকে তিনি নিয়মিত বেতন দিয়ে থাকেন এবং বাকি সিকিউরিটি গার্ডদের কোনো বেতন-ভাতা দিতে হয় না। তারা রোগী-দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ‘উপরি রোজগার’ করে থাকে। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে কর্মচারী প্রতি মাসে ১২শ’ টাকা করে পেয়ে থাকেন।
এ টাকা দিয়ে সবার বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই অনেক কর্মচারীকে বিনা বেতনে ‘উপরি’ টাকার উপর কাজ করতে হয়।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’