চুনারুঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ ১০ সেতু হুমকির মুখে যোগাযোগ

বাংলারজমিন

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট থেকে | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
একের পর এক ভাঙছে ব্রিজ। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল, নিম্নমানের কাজ আর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে চুনারুঘাটের ছোট-বড় ৬টি সেতুর এপ্রোচ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। আরো ১০টি সেতু মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। ১১ সেপ্টেম্বর চা বাগান ঘেরা রামগঙ্গা সেতুর এপ্রোচ ভেঙে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর কিছু দিন আগে শানখলা বাজার-লালচান চা বাগান সড়কে একটি সেতু, রাজার বাজার-বাসুল্লা সড়কে খোয়াই সেতু এবং কালেঙ্গা-পাকুরিয়া সড়কে করাঙ্গী নদীর উপর নির্মিত সেতুর এপ্রোচ ভেঙে গেলে ওই রোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পাহাড়ি ঢলে আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের নালুয়া চা বাগানের ৩টি ব্রিজ ভেঙে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমু চা-বাগানের সাঁওতাল লেন এলাকায় ১টি ব্রিজের এপ্রোচ  ভেঙে গেছে পাহাড়ি ঢলে। গাজীপুর ইউনিয়নের ইছালিয়া সেতু, মুড়িছড়া সেতু, আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের সাঁওতাল লেন, ঘনশ্যামপুর সেতু, রাজার বাজারে খোয়াই সেতু, দেওরগাছ ইউনিয়নে চানপুর, রামগঙ্গা সেতু, রানীগাঁও ইউনিয়নে পাকুল চা বাগানের কাছে ২টি সেতু, সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নে কালাপুর সেতু, শানখলা ইউনিয়নে লালচান সেতুসহ ছোট বড় আরো ১০টি সেতু চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েকদিনের পাহাড়ি ঢলে রামগঙ্গা ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক ভেঙে যায়। ফলে পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে সেতুটি ভেঙে পড়ায় সোমবার ভোর ৪টায় দিকে একটি মাইক্রোবাস রাস্তা থেকে ব্রিজের নিচে পড়ে যায়। এতে করে ৫ যাত্রী আহত হয়। ব্রিজের এপ্রোচ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণে ব্রিজটি সড়ক থেকে ১০/১৫ ফুট ফাকা হয়ে আলাদা হয়ে গেছে। গত ১০ই জুন ওই ব্রিজের পার্শ্বে চন্ডিচড়া চা বাগানে আরেকটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুনারুঘাট উপজেলাটি চা বাগান ও পাহাড়ঘেরা। বলতে গেলে পুরোটাই সিলিকা বালুতে পূর্ণ। খোয়াই নদী এবং পাহাড়-চা বাগান এলাকার ছড়া থেকে নির্বিচারে সিলিকা বালু উত্তোলনের কারণে ছড়াগুলো গভীর হয়ে পড়ে। ওই সব ছড়া এবং নদীর উপর নির্মিত সেতুগুলোর নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে। চলতি বর্ষা মওসুমে অধিক বৃষ্টিপাত ও উপর্যুপরি পাহাড়ি ঢলের কারণে সেতুগুলোর দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম জানান, রোববার সারারাত বৃষ্টি হওয়ার কারণে ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার পানি জমে যায় পাহাড়ি অঞ্চলের সেতুগুলোতে। আর এতেই ভেঙে পড়ে এপ্রোচ। তিনি বলেন, ২/৩ দিনের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থায় সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ে  টেন্ডারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি জানান, ওই সড়কে এ ধরনের আরও সমস্যা রয়েছে। সেগুলোরও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। এলজিইডি চুনারুঘাটের প্রকোশলী জামাল উদ্দিন বলেন, মুলত অতি বৃষ্টির কারণেই পাহাড় অঞ্চলে নির্মিত সেতুগুলোর এপ্রোচ ভাঙছে। কয়েকটির সেতুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যায়, অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজাম মুনিরা বলেছেন, তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পরিদর্শন করেছেন তবে এপ্রোচ ভেঙে পড়া ছাড়া সেতুগুলোর আর কোন ক্ষতি হয়নি। তবে চুনারুঘাটের বেশ কয়েকটি ভাঙ্গা-ছোড়া সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুব আলী সড়ক মেরামতের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আশা করা যায়, সড়কগুলো মেরামত হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’