দার্জিলিং থেকে বনধ তোলা নিয়ে অচলাবস্থা চলছে

বিশ্বজমিন

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৩
দার্জিলিং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুই দফা বৈঠকের পরেও পাহাড় থেকে বনধ তোলা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয় নি। মঙ্গলবার বৈঠকে পাহাড়ের সব দলকে বনধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক বার্তায় বনধ তোলার পক্ষে যে তিনি নন, সে কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আলোচনায় যোগ দিয়ে মোর্চার নেতা বিনয় তামাং দলের সভাপতি গুরুংয়ের উদ্দেশ্যে বলেছেন, পাহাড়ে কোনও তালিবানি শাসন চলবে না। কিন্তু হুঁশিয়ারি ও পাল্টা হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও পাহাড়ে বুধবারেও বনধ উঠে যাবার কোনও    লক্ষন দেখা যায় নি। এক গোর্খা নেতার কথায়, পাহাড় থেকে বনধ তুলে নেবার দায়িত্ব কোনও নেতাই এককভাবে নিতে চাইছেন না। অথচ পাহাড়বাসী চাইছেন বনধ উঠে যাক।
মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে দ্বিতীয় দফার বৈঠককে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ‘সদর্থক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন  আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। একই কথা বলেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে দার্জিলিংয়ে বনধ তুলে নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য  পাহাড়ের সব দলকে উদ্যোগী হতে বলেছেন । বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবর পরবর্তী বৈঠকে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এদিন মমতা মোর্চার অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছেন। পাহাড়ের মানুষের স্বার্থে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও ঘোষনা করেছেন। এদিনের বৈঠকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, জন আন্দোলন পার্টি, গোর্খা ন্যাশানাল লিবারেশন ফ্রন্ট ও অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগ যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া পাহাড় থেকে নির্বাচিত দুই বিধায়কও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম দফায় গত ২৯ অক্টোবর কলকাতায় রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দার্জিলিং সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। গত ৯০ দিন ধরে চলা বনধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। মোর্চার দাবি মেনে পুলিশের গুলি চালনা এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারি কর্মীরা কাজে যোগ দিলে এক মাসের বেতন অগ্রিম হিসেবে দেওয়ার কথাও এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন।  পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বনধের ফলে জনজীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে তা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে ২৯ অক্টোবরের প্রথম বৈঠক থেকে ফিরে বিনয় তামাংরা বনধ তুলে নেবার ঘোষনা দিলেও তা মানেন নি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং ও তার অনুগামীরা। বরং বিমল তামাং ও অনীত থাপাকে বহিষ্কার করেন গুরং।  তবে বিনয় তামাং ও অনীত থাপারা জোর জবরদস্তী বনধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য গত কয়েক দিনে পাহাড়ে মিটিং মিছিল করেছেন। প্রকাশ্যে গুরুংয়ের রাজনীতির সমালোচনাও করেছেন। দলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রমাণে মোর্চার হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপ থেকে রোশন গিরিকে বাদ দিয়েছেন বিনয় তামাং। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের সব বিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা ভাষা পড়ানোর ঘোষণা দিলে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা তা না মেনে এর বিরোধিতায় মাঠে নামেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কিন্তু প্রত্যাহার না হওয়ায় আন্দোলন চাঙা রাখার জন্য জনমুক্তি মোর্চার নেতারা শুরু করেন পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের আন্দোলন। দার্জিলিং পাহাড়ে গত ৯০ দিন ধরে টানা বনধ চলছে। স্কুল কলেজ, বাজার হাট, কল কারখানা সবই বন্ধ। বন্ধ দার্জিলিংয়ের চা বাগানের উৎপাদনও।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন বিদায়ের দুটি পথ খোলা’

আহত ২০, বিএনপির ৬১ জন আটক

১৩ বছরের প্রতিবন্ধীকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণ

সাংসদের গাড়ি উল্টোপথে, ট্রাফিক পুলিশের বাধা(ভিডিওসহ)

পঙ্কজ রায়ের জামিন মঞ্জুর

আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিবের এ কেমন আচরণ!

‘ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না’

পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে ময়মনসিংহ

রাজধানীর নতুন থানা হাতিরঝিল

জঙ্গি হামলায় আরেক অর্থ সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ২৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তারেক রহমানসহ চারজনের বিচার শুরু

আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে : ফখরুল

‘হাসপাতালে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে মরদেহ আটকে রাখা যাবে না’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার