বাফুফের সিদ্ধান্তে অখুশি ক্লাবগুলো

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬
কথায় কথায় লীগ বন্ধের সংস্কৃতি থেকে এবারও বেরুতে পারলো না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শুরুর আগেই ৪৭ দিন পিছিয়েছিল রমজান, চিকুনগুনিয়া ও ফিলিস্তিনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সফর ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে। ২৮শে জুলাই অবশেষে দশম প্রিমিয়ার লীগ মাঠে গড়ায়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের কাদা মাঠে খেলা চলে, আবার সেই কাদার কারণে তিনদিন বন্ধ থাকে খেলা। ৬ দিন ছিল ঈদের ছুটি। ৬ই সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চললো মাত্র দুইদিন। এরপর ৯ তারিখ শুরু হয়ে চললো চারদিন। এরপর ফের ২০ দিনের লম্বা ছুটি! অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের সাফ টুর্নামেন্ট খেলতে ভুটান যাওয়াই এই লম্বা বিরতির কারণ। ১৮-২৭ সেপ্টেম্বর এই টুর্নামেন্ট শেষে লীগ আবার শুরু হবে।
অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সাইফ স্পোর্টিংয়ের পাঁচজন, মুক্তিযোদ্ধা ও আরামবাগের চারজন করে খেলোয়াড় আছে। রহমতগঞ্জের দুজন, ঢাকা আবাহনীর একজন, শেখ রাসেলের একজন আছে। তবে এই তরুণদের বেশির ভাগেরই জায়গা হয় বেঞ্চে। সাইফ স্পোর্টিং খেলার পক্ষে থাকলেও কয়েকটি ক্লাব নাকি আপত্তি জানিয়েছে। বাফুফে ক্লাবগুলোকে জাতীয় স্বার্থে খেলোয়াড় ছাড়তে অনুরোধ করেছে। সব মিলিয়েই খেলা বন্ধ। তবে জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পর অনূর্ধ্ব-১৮ দলের জন্যও হঠাৎ তিন সপ্তাহ লীগ বন্ধ রাখায় ক্ষুব্ধ ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান, ‘অনূর্ধ্ব-১৮ দলের জন্য খেলা বন্ধ রাখা নজিরবিহীন। এভাবে যখন-তখন খেলা বন্ধ করে লীগটাকে হাস্যকর করে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি শেখ জামালের ম্যানেজার আনোয়ারুল হক হেলাল। ‘দেখুন আমরা অনুশীলন শুরু করেছি সবার আগে। আট মাস ধরে আমাদের ক্যাম্প চলছে। এখনও লীগের অর্ধেক শেষ হয়নি। পুরো লীগ যে কবে শেষ হবে আল্লাহ জানেন। সেখানে কখায় কথায় লীগ বন্ধ করে দিলে আমাদের অবস্থা কি হয় একটু বুঝেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় স্পন্সর থাকায় হয়তো শেখ জামাল ধকল সামলিয়ে উঠতে পারবে।
কিন্তু ফরাশগঞ্জ, রহমতগঞ্জ আরামবাগের অবস্থা কি হবে সেটা শুনুন রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবুর মুখেই। ‘আমাদের মতো ছোট দলগুলোর জন্য একটা বাড়তি চাপ। খেলা বন্ধ থাকলে আর্থিক সংকটে আমরা ক্যাম্প চালাতে পারি না। আর ক্যাম্প না চললে খেলোয়াড়দের ফিটনেস থাকে না। টানা খেলে আমরা যখন একটু ভালো খেলতে শুরু করি, তখনই বাফুফে লীগ বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমরা ভালো করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কর্মকর্তারা হারিয়ে ফেলেন দল গড়ার আগ্রহ-বলেন তিনি।
কামাল বাবুর মতো ক্ষুব্ধ আরামবাগের কোচ মারুফুল হক। একবার বিরতি দিলে খেলার টেম্পু নষ্ট হয়ে যায়, যা  ধরে রাখতে লীগ বন্ধের মাঝেও ক্যাম্প চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়নি আমরা। এতে করে বিরাট আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় আমাদের মতো কম বাজেটের ক্লাবগুলো। বড় বাজেটের ক্লাব আবাহনীও স্বস্তিতে নেই ঘনঘন লীগ বন্ধে। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপু জানান, লীগ কমিটির সভাতেই আমি লীগ পেছানোর বিরোধিতা করেছি। আমি বলেছি, যাদের খেলোয়াড় বেশি তাদের খেলাগুলো বন্ধ রেখে লীগ চালিয়ে যেতে। কিন্তু সেটা না করে দীর্ঘ বিরতি দেয়া হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে লীগে। ক্লাবগুলো বিরোধিতা করলেও লীগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর দাবি ক্লাবগুলোর আবেদনের কারণেই তারা লীগ পেছাতে বাধ্য হয়েছেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন