নি র্বা চ নী হা ল চা ল - টাঙ্গাইল ১

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে অন্যরকম হিসাব-নিকাশ

শেষের পাতা

নজরুল ইসলাম, মধুপুর (টাঙ্গাইল) থেকে | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৮
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। প্রথমদিকে এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও স্থানীয় হেভিওয়েট প্রার্থীর অভাবে তা আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।
মধুপুর ও ধনবাড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৩টি আসন পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও মধুপুরের এ আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহেন্দ্র লাল বর্মণকে প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন জাসদের মো. আবদুস সাত্তার।
 ১৯৭৯’র দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী আসাদুজ্জামানকে প্রায় ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থী ধনবাড়ির নওয়াব সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী।
১৯৮৬’র তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. নিজামুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮’র নির্বাচনে খন্দকার আনোয়ারুল হক (স্বতন্ত্র) এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আশিকা আকবরকে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার। প্রথম এমপি হয়ে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন।
১৯৯৬’র ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এমপি হন। একই বছর ১২ই জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে পরাজিত করেন।
 সে সময় নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।
সেসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয়।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে আসেন নতুন মুখ। বিএনপির মনোনয়ন পান ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তৎকালীন বিএনপি নেতা অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্টু মনোনয়ন না পেয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক। ঐ নির্বাচনে ড. আব্দুর রাজ্জাক ৯৮,৪১৩ ভোট পেয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন পান ৪০,৯৭২ ভোট অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্টু পান ৫৩,৫৩৯ ভোট। ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথমেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আব্দুর রাজ্জাক প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আব্দুর রাজ্জাক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনে দলের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েও ড. আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সরোয়ার আলম খানের একক আধিপত্যের কাছে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে ড. আব্দুর রাজ্জাকের পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন একজন আর সরোয়ার আলম খানের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন সাতজন। নির্বাচনে সরোয়ার আলম খানের পছন্দের সাতজনই নির্বাচিত হন। যেখানে এমপির পছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে খানের পছন্দের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে খানের পছন্দের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আটজনই নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও দলের একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সরোয়ার আলম খান আবু, সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম ও স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. সানোয়ার হোসেনের নামও শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, ড. আব্দুর রাজ্জাককে ঢাকার কোনো একটি আসন দিয়ে এ আসনে শামসুন নাহার চাঁপাকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তবে ড. রাজ্জাক সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এ আসনের দুই উপজেলায়ই রয়েছে তার সুনাম। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  ফকির মাহবুব আনাম স্বপন মধুপুর-ধনবাড়ির জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না করায় দলীয় ভোট কমতে থাকে। গত দেড় যুগে স্থানীয় সমাজসেবামূলক কোনো কর্মকাণ্ডে তাকে দেখা যায়নি। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন স্থানীয় যেকোনো লোককে মনোনয়ন দিলে বিএনপির ভোটের সংখ্যা বাড়তে পারে। ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ছাড়াও আগামী নির্বাচনে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম সরকার (শহিদ), সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও কানাডা প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার ভূঁইয়া মাহবুব লতিফও মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম সরকারকে দলের মনোনয়ন দিলে হারানো আসনটি ঘরে তুলতে পারে বিএনপি। নেতাকর্মীরা এমনটাই বলছেন।
এছাড়া সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী সরকার শহিদের বড় ভাই চলচ্চিত্রকার নূরুল ইসলাম রাজ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধুপুর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনের মধুপুর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৮শ’ ৫৩ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৬শ’ ৬১ জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ১শ’ ৯২ জন। ধনবাড়ি উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ৭শ’ ৬৫ জন।
মধুপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা অনুযায়ীই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আগামীকাল: বগুড়া-৩

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

লিভারপুলকে সেভিয়ার চমক

ক্যাচ মিসের খেসারত দিলো ঢাকা

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়