অস্থায়ী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় খেলাফত মজলিস

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার
 নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে খেলাফত মজলিস এসব দাবি তুলে ধরে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইসি সভাকক্ষে বেলা এগারটায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংলাপ হয়। দলটির মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা, অন্য চার কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে যেসব দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর দিন থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে আনা, নির্বাচনের ৭ দিন আগে থেকে নির্বাচন পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সেনা মোতায়েন রাখা, কালোটাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকরী  পদক্ষেপ গ্রহণ, ধর্ম ও স্বাধীনতা-বিরোধী দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল, অনলাইনে মনোনয়ন জমা, সবার জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, প্রতিটি ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা, একই পোস্টারে সকল প্রার্থীর পরিচয় ও প্রতীক এবং একই মঞ্চে সকল প্রার্থীর বক্তব্যের ব্যবস্থা করা, জামানতের সঙ্গে এসব খরচের টাকা প্রার্থী বা দল থেকে নেয়া। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির মহসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আইনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করার জন্য একজন কমিশনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা সহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবি প্রায় ৮০ শতাংশ নির্বাচন কমিশনের মতের সঙ্গে মিলেছে বলে কমিশন আমাদের জানিয়েছে।
সংলাপ শেষে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব সুপারিশ আসছে এর মধ্যে যেগুলো ইসির এখতিয়ারভুক্ত নয়, তাও সরকারকে অনুরোধপত্রের মাধ্যমে বিবেচনার জন্য পাঠাতে বলছে তারা। তবে সংলাপ শেষে একীভূত সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে উপস্থাপনযোগ্য প্রস্তাবগুলো আমরা সরকারের কাছে পাঠাব। বিকালে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপের সূচি থাকলেও চেয়ারম্যান ও মহাসচিব অসুস্থ থাকায় তাতে অংশ না নেয়ার কথা সোমবারই জানিয়ে দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলটি। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৬ ও ১৭ই অগাস্ট অর্ধশত গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করে বিভিন্ন পরামর্শ নেয় ইসি। এরপর ২৪শে আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি। মঙ্গলবার পর্যন্ত আটটি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হলো।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন